আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গাদের ‘বাংলাদেশি’ প্রমাণের চেষ্টা করবে মিয়ানমার? | Daily Cox News
  • শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গাদের ‘বাংলাদেশি’ প্রমাণের চেষ্টা করবে মিয়ানমার?

রিপোর্টার
আপডেট : রবিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৯
resize 45
অং সান সু চি

জাতিসংঘের আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলাকে ‘আশীর্বাদ’ হিসেবে দেখছে সে দেশের সেনাবাহিনী। অতীতের ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (২২ নভেম্বর) সেনা মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জ্য মিন তুন দাবি করেছেন, স্থানীয়রা নয়, রাখাইন সংকটের কারণ ‘বহিরাগত’রা। উল্লেখ্য, শুরু থেকেই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ থেকে সেখানে যাওয়া অবৈধ অধিবাসী হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করে আসছে মিয়ানমার। জেনারেল জ্য মিন তুন জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের মামলায় সেই বিষয়টিই ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করবে নেপিদো।

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর পর পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোগত সহিংসতা জোরদার করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। হত্যাকাণ্ড, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের বাস্তবতায় জীবন ও সম্ভ্রম বাঁচাতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা। এই নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে গত ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে)-এ মামলা করে গাম্বিয়া।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের ঘটনায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দায়ের করা মামলায় সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা দেবে তারা। ওই মামলার শুনানি হবে ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর। এতে মিয়ানমারের পক্ষে লড়বেন রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি’র নেতৃত্বাধীন একটি দল। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জ্য মিন তুন শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেছেন, সেনাবাহিনী এই মামলাকে আশীর্বাদ হিসেবে নিয়েছে কারণ এর মধ্য দিয়ে বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমারের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা হাজির করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রোহিঙ্গারা রাখাইনে থাকলেও মিয়ানমার তাদের নাগরিক বলে স্বীকার করে না। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বেসামরিক সরকার প্রধান সু চিও ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহারই করেন না। উগ্র বৌদ্ধবাদকে ব্যবহার করে সেখানকার সেনাবাহিনী ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে স্থাপন করেছে সাম্প্রদায়িক অবিশ্বাসের চিহ্ন। ছড়িয়েছে বিদ্বেষ। ৮২-তে প্রণীত নাগরিকত্ব আইনে পরিচয়হীনতার কাল শুরু হয় রোহিঙ্গাদের। এরপর কখনও মলিন হয়ে যাওয়া কোনও নিবন্ধনপত্র, কখনও নীলচে সবুজ রঙের রশিদ, কখনও ভোটার স্বীকৃতির হোয়াইট কার্ড, কখনও আবার ‘ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড’ কিংবা এনভিসি নামের রং-বেরঙের পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষকে। এসবের মধ্য দিয়ে বরং ধাপে মলিন হয়েছে তাদের পরিচয়। ক্রমশ তাদের রূপান্তরিত করা হয়েছে রাষ্ট্রহীন বেনাগরিকে।

শুক্রবারের বিবৃতিতে রোহিঙ্গা সংকট প্রশ্নে সেনা মুখপাত্র জ্য মিন তুন সেই ধারাবাহিকতাই রক্ষা করেন। বলেন, ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত রাখাইনের কোনও স্থানীয় জনগোষ্ঠী অথবা পুলিশ-সেনাবাহিনীর দ্বারা এই সংকট সৃষ্টি হয়নি। বরং সেখানে বসবাসকারী ‘বহিরাগত’দের দ্বারা এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, মিয়ানমার রাষ্ট্রের মতো করেই সেখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ মনে করে, রোহিঙ্গারা তাদের আদি জনগোষ্ঠীর অংশ নয়। তারা বাংলাদেশ থেকে সেখানে গিয়ে অবৈধভাবে বসবাস করছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জ্য মিন তুন বলেন, ‘এই ব্যাপারটি আন্তর্জাতিকভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়, গুরুত্ব দেওয়া হয় কেবল দলবদ্ধভাবে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশকে। এখন আমাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টির ব্যাখ্যা দেওয়ার।

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা