মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১২:০৭ অপরাহ্ন

কৃত্রিম সিন্ডিকেটের জন্য ন্যার্য মূল্য পাচ্ছে না লবণ চাষীরা

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৪৯

রকিয়ত উল্লাহ, মহেশখালী

কক্সবাজারের উপকূলের মধ্য বেশির ভাগ মানুষ লবণ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু গত মৌসুমে পযার্প্ত পরিমাণ লবণ উৎপাদন করলেও লবণের ন্যার্যমূল্য না পাওয়ার লবন চাষীরা হতাশ আর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফলে এই মৌসুমে লবণ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে চাষীরা। যার কারণে উপকূলের মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া, পেকুয়া য় এখনো শত শত একর জমি অনাবাদি। এবিষয়ে জানতে চাইলে মহেশখালী উত্তর নলবিলার লবণচাষী মোঃ আলম বলেন আমরা দীর্ঘ ২০-২৫ বছর ধরে লবণ চাষ করি ফলে লবণ চাষ ছাড়া অন্য কোন কাজ জানি না তাই লবণ চাষ করে সংসার চালাতে হয় কিন্তু লবণের দাম না থাকায় গত বছর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি তাই এবছর এখনো লবণ চাষে নামতেছি না। এদিকে লবণের ন্যর্যমূল্য না থাকায় প্রান্তিক চাষীরা হতাশা গ্রস্ত হয়ে মাঠে নামছে না। বাংলা বর্ষের অগ্রহায়ণ মাসের শেষে অন্যন্য বছর প্রান্তিক লবণ চাষীরা প্রতি একরে ১০০/১৫০মন লবণ উৎপাদন করে থাকে। চলতি লবণ উৎপাদন মৌসুমে প্রান্তিক চাষীদের মাঠে দেখা নেই। মজুরী,পানি সেচ খরচ, দৈনিক মজুরী খরচ,বর্গা জমির লাগিয়তসহ হিসাব নিকাশে প্রান্তিক চাষীরা কোন ক্রমেই হিসাব মিলাতে পারছে না। এক লবণ উৎপাদন পিছিয়ে দ্বিতীয়ত লবণের মূল্য নেই। বর্তমানে প্রান্তিক লবণ চাষীরা মাঠ পর্যায়ে প্রতি কেজি লবণের মূল্য তিন থেকে সাড়ে তিন টাকা অর্থাৎ প্রতিমন ১৪৫/১৫০টাকা বিক্রি করছে। কিন্তুু গ্রাহকদের ঠিকই মার্কেটে খুচরা প্যাকেট জাতকরণ করে প্রতি কেজি ৩৫/৪০টাকা দামে বিক্রি করে যাচ্ছে এক শ্রেণীর সুবিধা বাদি আড়ৎদারগণ। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাশঁখালী, আনোয়ারা,চকরিয়া,পেকুয়া,কুতুবদিয়া,মহেশখালী,কক্সবাজার সদর, উখিয়া, টেকনাফসহ উপকূলীয় এলাকায় লক্ষ লক্ষ একর লবণ মাঠের জমিতে উৎপাদিত লবণ দেশের লবণের চাহিদা পূরণ করে আসছে। গত বছর লবণ উৎপাদন মৌসুমে উৎপাদিত লবণ এখনো মাঠে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। গত বছর প্রতি একর লবণ মাঠে খরচ পড়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। প্রতি একরে লবণ উৎপাদন হয়েছে সাড়ে সাত’শ মণ। বর্তমানে উৎপাদিত লবণের ন্যর্য মূল্য না থাকায় লবণচাষীরা মাঠে নামছে না। কক্সবাজার জেলার মহেশখালী দ্বীপের ধলঘাটার লবণ চাষী কামাল বলেন, গত বছর লবণ চাষ করে লক্ষাধিক টাকা ঘাটতি রয়েছে মহাজন থেকে দুই লক্ষাধিক টাকা দাদন নিয়েছিলাম। মাঠ পর্যায়ে লবণের মূল্য না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি তাই সেই ঋণের বোঝা এখনো শোধ করতেছি। তাই এই বছর আর লবণ চাষ করব না। মহেশখালীর উত্তর নলবিলার বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সোলতানীয়া সল্ট ইন্ডাস্ট্রির মালিক হাসানুল আবেদীন চৌধুরী শুভ বলেন লবণের ন্যর্যমূল্য না থাকায় চাষীরা যথা সময়ে মাঠে নামছে না। যার ফলে আগামীতে দেশে লবণের ঘাটতি হতে পারে। তাই লবণ এখন জাতীয় ইস্যু কিছু দিন আগেও লবণের দাম বৃদ্ধির গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল কিন্তু সরকারের চৌকস অভিযানে সেই গুজব থেকে রক্ষা পাই বাংলাদেশ। তাই লবণের ন্যার্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ বলনে লবণের মূল্য আসলেই কৃত্রিম সংকটের জন্য ন্যার্য মূল্য পাচ্ছে না সাধারণ লবণ চাষীরা যদি দালাল, লবণ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে লবণ শিল্প হারিয়ে যাবে তাই লবণ শিল্প বাঁচানোর জন্য দ্রুত সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Loading...



শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..





(Registered at the Directorate of Information, Government of the People's Republic of Bangladesh) © All rights reserved © 2019 DailyCoxnews
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com