• মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২০, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी
নোটিশ :
প্রতিটি জেলায় দক্ষ ও অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বেতন-ভাতা আলোচনা সাপেক্ষ।আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন ০১৮৬৫-১১৫৭৮৭ আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বাগতম>> তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে সাথে থাকুন ধন্যবাদ।

নতুন আইনেও টার্গেট মোটরসাইকেল !

রিপোর্টার
আপডেট : সোমবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২০

মামলা ও জরিমানা সহ গত এক মাসে জরিমানা আদায় করেছে মাত্র ১০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। হ নতুন আইন কার্যকরের আগে অক্টোবর মাসে আদায় ১ কোটি ৭২ লাখ ৭৯ হাজার ১৫০ টাকা।
নতুন সড়ক আইন কার্যকরের একমাস পর মামলায় যায় নগর ট্রাফিক বিভাগ। গত ৪ ডিসেম্বর নগরীর টাইগারপাস মোড়ে নতুন সড়ক আইনে মামলা শুরু করে পুলিশ। নতুন আইনের প্রথম মামলাটিই শুরু করা হয় মোটরসাইকেল আরোহীকে দিয়ে। নগরীর টাইগারপাস মোড়ে উল্টো পথে আসা ওই মোটরসাইকেল আরোহীকে জরিমানা করা হয় এক হাজার টাকা। ওইদিন সর্বমোট ১৩টি মামলা করে ট্রাফিক বিভাগ। যার মধ্যে ১০টি মামলার মালিক ছিল মোটরসাইকেল। মোটরসাইকেল দিয়ে শুরু করা মামলার এ যাত্রার ধারাবাহিকতাও বজায় রেখেছে ট্রাফিক। তাইতো, নতুন আইন শুরুর আগে ও পরে ট্রাফিক যতগুলো মামলা করেছে তার ৭০ শতাংশই মোটর সাইকেলকে ঘিরে। এ যেন বাংলা ভাষায় প্রচলিত ‘শক্তের ভক্ত, নরমের যম’ প্রবাদটির মত।

এদিকে নানা নাটকীয়তার পরও সড়কে পরিপূর্ণভাবে নতুন আইন বাস্তবায়ন করতে না পারায় জরিমানার হার কমেছে ৯৫ শতাংশেরও বেশি। শুধু মাত্র, মোটরসাইকেলকে টার্গেট করে মামলা করায় গত এক মাসে নগর ট্রাফিক বিভাগ জরিমানা আদায় করেছে মাত্র ১০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। নতুন আইন কার্যকরের আগে অর্থাৎ অক্টোবর মাসে যা ছিল ১ কোটি ৭২ লাখ ৭৯ হাজার ১৫০ টাকা।

প্রসিকিউশন শাখার তথ্য মতে, নতুন সড়ক আইন কার্যকরের পর ট্রাফিকের দুই বিভাগে সর্বমোট মামলা হয়েছে ৭০০টি। এর মধ্যে, বন্দর বিভাগে ৪০২টি ও উত্তর বিভাগে হয়েছে ২৯৮টি মামলা। মামলাগুলোর বিপরীতে জরিমানা আদায় করা হয়েছে ১০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। যা গত অক্টোবর মাসের তুলনায় ৯৫ শতাংশেরও কম। কারণ, অক্টোবরে বন্দর বিভাগ ৭৮ লাখ ৪৫ হাজার ২৫০ টাকা ও উত্তর বিভাগ ৯৪ লাখ ৩৩ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা আদায় করেছে।
ট্রাফিকের উত্তর বিভাগের সার্জেন্ট (প্রসিকিউশন) মো. জাহিদুর রহমান পূর্বকোণকে বলেন, ‘নতুন আইন কার্যকর হয় গত ৪ ডিসেম্বর। গত এক মাসে উত্তর বিভাগে মোট মামলা হয়েছে ২৯৮টি। যার বিপরীতে জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৬ লাখ ২৮ হাজার টাকা। মামলা কম হওয়ায় জরিমানাও কম হয়েছে। ২৯৮টি মামলার মধ্যে মোটর সাইকেল আরোহীর হেলমেট না থাকার মামলা ১২৩টি। মোটরসাইকেল চালকদের লাইসেন্স না থাকার মামলাও রয়েছে বেশ কয়েকটি।’ নতুন আইন কার্যকরের আগে অক্টোবরে যে মামলা করা হয়েছে তার ৭০ শতাংশও মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেট ও লাইসেন্স না থাকার কারণে করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘অক্টোবরে সর্বমোট মামলা হয়েছে ২২ হাজার ৩৮২টি। যার ৭০ শতাংশই মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে করা’। যার কারণ হিসেবে তিনি জানান, তখন মোটর সাইকেল চালক ও আরোহীর হেলমেট বাধ্যতামূলক করতে বেশ কয়েকটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মোটর সাইকেল চালকদের অভিযোগ, গত ১ নভেম্বর নতুন সড়ক আইন কার্যকর হলেও পরিবহণ মালিক-শ্রমিক নেতাদের ধর্মঘটের হুমকি ও মন্ত্রীর বাধার কারণে বাস্তবায়নে যেতে পারেনি প্রশাসন। শুধু তাই নয়, নতুন সড়ক আইনের সংস্কারের দাবি করে দেশব্যাপী ধর্মঘটও পালন করেছে তারা। সরকারকে জিম্মি করে আদায় করে নিয়েছে তাদের দাবিও। তাই, লোক দেখানো নতুন সড়ক আইন কার্যকরের বলি হতে হচ্ছে মোটরসাইকেল চালকদের। পান থেকে চুন খসলেই মোটরসাইকেল চালকদের হাতে মামলার স্লিপ ধরিয়ে দেয় সার্জেন্টরা। আমরা নতুন সড়ক আইনকে স্বাগত জানিয়েও বলি হচ্ছি। আর যারা ‘মানি না, মানব না’ স্লোগান দিচ্ছে তাদের ভয়েও মামলা দিচ্ছে না পুলিশ। সড়কে কি শুধু মোটরসাইকেলই চলে। তাহলে মামলায় কেনো সবসময় মোটরসাইকেল বেশি থাকে। কারণ হচ্ছে, মোটরসাইকেল থেকে পুলিশ মাসিক চাঁদা নিতে পারে না। করতে পারে না টোকেন বাণিজ্য। তাই তাদের মামলার চাপ দেয়া হলে শুধু মোটর সাইকেলকেই মামলা দেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাফিকের এক সার্জেন্টও জানান. অন্যান্য গাড়ির তুলনায় মোটরসাইকেলকে মামলা দেয়া হয় বেশি। তিনি প্রতিবেদককে জানান, ‘সড়কে চলমান অন্যান্য গাড়ির তুলনায় মোটরসাইকেলের অনিয়ম দ্রুত চোখে পড়ে। দূর থেকে বোঝা যায়, চালকের হেলমেট আছে কি না। তাই যখন মামলার টার্গেট দেয়া হয়, তখন বেশিরভাগ সময়েই আমরা মোটরসাইকেল আটকাই। তবে নতুন সড়ক আইন কার্যকরের পর সার্জেন্টদের হাতে কোন মামলা নেই। টিআইরা নতুন আইনে মামলা দিচ্ছে।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) এস এম মোস্তাক আহমেদ পূর্বকোণকে বলেন, ‘নগরীতে অন্যান্য যানবাহনের তুলনায় মোটরসাইকেলের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। নগরীতে বাস যদি হয় ৬০০টি সেখানে মোটর সাইকেলের সংখ্যা হবে ৩০ থেকে ৪০ হাজার। মোটর সাইকেলের সংখ্যা বেশি হওয়ায় মামলার সংখ্যায়ও তাই বেশি। অন্যান্য যানবাহনের বিরুদ্ধেও আমাদের নিয়মিত মামলা হচ্ছে। যারা আপনাকে এই অভিযোগ করেছেন, তারা চাইছেন ট্রাফিক আইন অমান্য করতে’। পূর্বকোন



ফেসবুকে আমরা