• মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২০, ০৪:১০ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी
নোটিশ :
প্রতিটি জেলায় দক্ষ ও অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বেতন-ভাতা আলোচনা সাপেক্ষ।আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন ০১৮৬৫-১১৫৭৮৭ আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বাগতম>> তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে সাথে থাকুন ধন্যবাদ।

নিষিদ্ধ থাকা স্বত্বেও নজরদারির অভাবে লাইব্রেরীতে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে গাইড

রিপোর্টার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২০

সাইফুল ইসলাম:

নিষিদ্ধ থাকা স্বত্বেও কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন লাইব্রেরীতে বিক্রি হচ্ছে অবৈধ গাইড। প্রশাসনের নজরধারির অভাবে বইয়ের বাজার এবং লাইব্রেরীতে এভাবে প্রকাশ্যে গাইড বিক্রি করছে এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ী দাবি সচেনত মহলের।

বছরের শুরুতে কক্সবাজার জেলা প্রাথমিক স্কুল, মাধ্যমিক ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে সরকার বই দিয়ে থাকে। কিন্তু এনসিটিবি’র অনুমোদন ব্যতিত পাঠ্য তালিকায় অন্য কোনো বই ব্যবহার না করার বিধান থাকলেও বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে গাইড বই। এ নিয়ে সচেতন অভিভাবক মহলে মিশ্রপ্রতিকিক্রয়া দেখা দিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের কতিপয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে অসাধু লাইব্রেরীর মালিকের মোটা অংকের কমিশন বাণিজ্যের চুক্তি হয়ে থাকে। অন্যদিকে গাইড বই প্রকাশনা কোম্পানীর সাথে লাইব্রেরী মালিকের মোটা চুক্তি দীর্ঘদিনের। প্রতিযোগিতা মুলকভাবে বইয়ের বাজারে কথিত প্রকাশনা কোম্পানির কাছ থেকে মোটা অংকের কমিশন নিয়ে লাইব্রেরী মালিকরা স্কুল কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে। ওই সমস্ত লাইব্রেরী হতে তাদের নির্ধারিত প্রকাশনা কোম্পানীর নোট বই ও গাইড বই কিনতে স্কুল কর্তৃপক্ষ কোমলমতি শিশুদের বাধ্য করছে। এমন অভিযোগ কক্সবাজারের প্রতিটি ঘরে ঘরে উঠেছে। শিক্ষার মানোয়ন্নন এবং শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ঘটাতে নোট ও গাইড বইয়ের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেছেন সচেতন মহল। এতে সবাই লাভবান হলেও ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো অভিযান না থাকায় গাইড বেপারী বেপরোয়া হয়ে অবাধে পুরোদমে গাইড বই বিক্রি করে আসছে। গাইড বইয়ের দড়া দামে বইয়ের দোকানে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। দোকানে দোকানে সাজানো আছে নিষিদ্ধ নোট ও গাইড বই। সব বিষয়ে, সব শ্রেণির নোট, গাইড এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। সৃজনশীল পদ্ধতিতে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত শিক্ষক না থাকার সুযোগ নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে বিভিন্ন প্রকাশনা কোম্পানী। বিদ্যালয়গুলোর কিছু অসাধু শিক্ষক প্রকাশনী কোম্পানি থেকে মোটা অংকের কমিশন নিয়ে তাদের পছন্দের গাইড বই কিনতে প্ররোচিত করছে শিক্ষার্থীদের।

সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারে শহরের বুক ভিলা লাইব্রেরী, মোহাম্মদীয়া লাইব্রেরী, বিদ্যাসাগর লাইব্রেরী, অন্বেষন লাইব্রেরী, পাঠকবন্ধ্র লাইব্রেরী, ইসলামিয়া লাইব্রেরী, রহমানিয়া লাইব্রেরীসহ রক্ষিত বই মার্কেটের সব লাইব্রেরীতে অবৈধ নোট গাইড বই পাওয়া যাচ্ছে। একইভাবে উপজেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদরাসা পর্যায়ে সরকারি বিধিনিষেধের পর কমিশন বাণিজ্যের কারণে প্রকাশ্যে চলছে নিষিদ্ধ নোট ও গাইড। শিক্ষার্থীরা এসব নোট ও গাইড বই কিনতে বইয়ের দোকানে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। শিক্ষকদের কমিশন দেয়ার ফলে নোট ও গাইডের দাম আগের তুলনায় বেড়ে গেছে বলে মনে করছে বই বিক্রেতারা।

শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ও গাইড বইয়ের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ২০১০ সালে চালু করা হয় সৃজনশীল পদ্ধতি। সেই সঙ্গে নিষিদ্ধ করা হয় সব ধরনের নোট ও গাইড। সরকার যে সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি চালু করেছে, তাও মারাত্নকভাবে ব্যহত হচ্ছে। আবার সৃজনশীল পদ্ধতিতে অনেক শিক্ষক অভিজ্ঞ না হওয়ায় তারাও নোট ও গাইড বইয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

বুক ভিলা লাইব্রেরীর ম্যানেজার রুবেলের সাথে গাইড ও নোট বই বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরাতো সব সময় বিক্রি করেনি। মাঝে মধ্যে হালকা পাতলা বিক্রি করে থাকি।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আমিন আল পারভেজ বলেন, গাইড ও নোট বই বিক্রি করা নিষিদ্ধ। যেসব লাইব্রেরীতে বিক্রি হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।



ফেসবুকে আমরা