শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়ি তৈরিতে হচ্ছে সাগরলতা বনায়ন  লামায় নির্মাণাধীন মসজিদ ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসায় সহযোগীতার আহ্বান। তাহিরপুরে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা পরিবারের জন্য খাদ্য সহায়তা বাড়ি পৌছে দিলেন (ওসি) মো. আতিকুর রহমান। তাহিরপুরে ছেলের বউয়ের সঙ্গে কলহের জের ধরে শাশুড়ির বিষপানে আত্মহত্যা করোনা আক্রান্ত চিকিৎসার জন্য লাখ মানুষের ১০০ টাকায় হবে “চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতাল “ উখিয়ার সোনাইছড়িতে ছেলেকে নির্যাতনের দৃশ্য দেখে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মা’য়ের মৃত্যু, এলাকা থমথমে। টেকনাফ থেকে ফেরা এক র‌্যাব সদস্যের করোনা ভাইরাস পাওয়া গেছে বিশ্বে প্রতি মিনিটে ৪ জনের মৃত্যু ঠাকুরগাঁও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা মূলক কাজ করছেন ছাত্রনেতা মাহাবুব চকরিয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে গৃহবধূকে অপহরণের পর গণধর্ষণ, আটক-২

মুন্সি থেকে কোটিপতি কক্সবাজারের রফিক!

আবু তাহের, কক্সবাজার
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ৯৮

কক্সবাজার শহরের বাইপাস সড়কে পুলিশ লাইনের পাশে রাস্তা ও পাহাড়ি ছড়া দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে পাকা দালান। সেখানকার ঘরগুলো ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে আয় করা হচ্ছে বিপুল টাকা। আর এই দখলে যিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন তার নাম রফিকুল ইসলাম। এই ভবন নির্মাণের ফলে পানি চলাচলের ছড়াটি বন্ধ হয়ে গেছে। সংকুচিত হয়ে গেছে এলাকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাও।

কক্সবাজার শহরের কলাতলীসহ আরও কয়েকটি স্থানে এভাবে খাসজমি দখলে নিয়ে রাজত্ব কায়েম করেছেন রফিকুল ইসলাম। আদালত এলাকায় দীর্ঘদিন মুন্সিগিরি করেছেন। এখন আইনজীবী হয়ে সরকারি খাসজমি দখলের অবৈধ ব্যবসায় নেমে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক। মুন্সি রফিক নামে আলোচিত এই ব্যক্তির দখলে এখন শতকোটি টাকার সরকারি খাসজমি।

একের পর এক দখলের সংখ্যা বাড়লেও দেখার কেউ নেই। অথচ এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রশাসনের কোনো অভিযান নেই।

পুলিশ লাইনের দক্ষিণ পাশে সীমানা দেয়ালসংলগ্ন স্পর্শকাতর স্থানে খাসজমি দখল করে সেখানে রফিক গড়ে তুলেছেন বিশাল কলোনি। সেই কলোনি থেকেও প্রতি মাসে ভাড়া বাবদ আয় করছেন বিপুল টাকা।

একইভাবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিম বাহারছড়া এলাকায় সহকারী পুলিশ সুপারের বাসভবনসংলগ্ন স্থানে সরকারি খাসজমি দখল করে তুলেছেন পাকা বাড়িঘর। আর সেই ঘর থেকেও রফিক প্রতি মাসে ভাড়া বাবদ আয় করছেন লাখ টাকা।

তবে পরিবেশ কর্মীদের আন্দোলন ও চাপের মুখে সম্প্রতি জেলা প্রশাসন মুন্সি রফিকের দখলে নেওয়া একটি স্থাপনায় অভিযানে গেছে। উচ্ছেদ না করলেও পুলিশ লাইনের দেয়ালের সঙ্গে লাগানো কলোনির গেটে একটি সতর্কীকরণ নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছে। নোটিশে লেখা রয়েছে ‘এই জমি সরকারি সম্পত্তি, প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত’। কলোনিতে প্রবেশের গেটটি সিলগালা করে দেওয়া হলেও গেটের পাশেই নতুন একটি পথ তৈরি করে যাতায়াত অব্যাহত রেখেছে অবৈধভাবে কলোনিতে বসবাসকারী লোকজন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রশাসনের লোকজন অভিযানে এলেও খাসজমিতে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করে শুধু গেট সিলগালা করে চলে গেছে। কিন্তু এর এক ঘণ্টা পরেই ওই ব্যক্তি তার কলোনিতে যাতায়াতের জন্য নতুন একটি গেট করে দিয়েছে। ভেতরে অবৈধ কর্মকাণ্ড বহাল রেখেছে।

কক্সবাজারে পরিবেশ আন্দোলনের নেতা এনভায়রনমেন্ট পিপল-এর প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ বলেছেন, শুধু কক্সবাজার শহরেই বিভিন্ন স্থানে শতকোটি টাকা মূল্যের খাসজমি দখল করেছে রফিক নামে এই ব্যক্তি। ওই জমিতে পাকা, সেমিপাকা বিশাল কলোনি ঘর তুলে তা রোহিঙ্গাদের কাছে ভাড়া দিয়ে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা আয় করছে। মুন্সি রফিকের এই ভাড়া কলোনিতে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পুলিশ একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করেছে। কিন্তু তার অবৈধ কলোনি বহাল তবিয়তে রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে।

একসময় বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত এই রফিক এখন আওয়ামী লীগের কিছু নেতার সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছেন। ইয়াবা গডফাদারদের জেল থেকে বের করতে তার চেষ্টা-তদবির কক্সবাজারে বহুল আলোচিত।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা জলে রফিকুল ইসলাম দাপটের সঙ্গে বলেন, ‘সবাই খাসজমি দখল করে, আমিও করেছি।’ খাস জমি হলেও সেখানে গড়ে তোলা স্থাপনা বৈধ বলে দাবি করেন তিনি।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব আশরাফুল আফসার বলেছেন, রফিকুল ইসলামের দখলে থাকা একটি স্থাপনা সিলগালা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই স্থাপনাসহ অন্য স্থাপনাগুলো শিগগিরই উচ্ছেদ করা হবে। সরকারি ভূমিতে অবৈধ দখলের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। প্রতিনিয়ত অভিযান চালাতে গিয়ে প্রশাসন আর কুলিয়ে উঠতে পারছে না। উচ্ছেদ অভিযানের জন্য মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজনকেও সচেতন হতে হবে।
কক্সবাজারে খাসজমি দখল, নদী ভরাট, পাহাড় কাটাসহ পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে এনভায়রনমেন্ট পিপল নামে পরিবেশবাদী সংগঠন। সংগঠনের কর্মকর্তা সরওয়ার আজম মানিক বলেন, ‘কক্সবাজারে মুন্সী রফিকের মতো আরও অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির দখলে রয়েছে কয়েক হাজার একর খাসজমি ও সরকারি বনভূমি। এখানে পাহাড় কেটে গড়ে তোলা হচ্ছে অবৈধ স্থাপনা। ব্যাপক হারে পাহাড় কাটার ফলে ভূমিধসের ঘটনা ঘটছে। এতে প্রতিবছর প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে। ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ-প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য। সমকাল প্রতিবেদন।

Loading...



শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..





(Registered at the Directorate of Information, Government of the People's Republic of Bangladesh) © All rights reserved © 2019 DailyCoxnews
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com