মেজর সিনহা নিহত: ‘পুরো ঘটনা ঘটেছে এক মিনিট ৩০ সেকেন্ডে’ | Daily Cox News
  • শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০৮:১০ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

মেজর সিনহা নিহত: ‘পুরো ঘটনা ঘটেছে এক মিনিট ৩০ সেকেন্ডে’

ডেস্ক রিপোর্ট
আপডেট : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২০
Screenshot 20200821 190442 1

‘অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের ওপর গুলিবর্ষণের পুরো ঘটনাটি এক মিনিট ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই সংঘটিত হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার।

তিনি বলেন, ‘সিনহা নিহত হওয়ার ঘটনাটি গভীরভাবে অ্যানালাইসিস (পর্যালোচনা) করা হচ্ছে। এই এক-দেড় মিনিটের ঘটনা প্রবাহ বিচার-বিশ্লেষণ চলছে। এতে প্রতিটি সেকেন্ডই গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে তথ্য-উপাত্ত ইতোমধ্যে সংগৃহীত হয়েছে।’

শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে সিনহা নিহতের ঘটনাস্থল টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্ট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

আসামিদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে কোন ধরনের তথ্য খুঁজতে আসা হয়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে কর্নেল তোফায়েল বলেন, ‘‘কেন এই ফায়ারিংটা (গুলিবর্ষণ) সংঘটিত হয়েছিল? সংক্ষিপ্ততম সময়ের মধ্যে কী এমন ঘটেছিল যে সিনহা গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন?

‘কিংবা লিয়াকত যেটা বলছে, সিনহা পিস্তল তাক করে ফেলেছিল। এই ১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে কী এমন ঘটেছিলো? পিস্তল তাক করার মতো পরিস্থিতি আসলেই হয়েছিল কি না? আর সেই (লিয়াকত) বা কেনো ফায়ার করলো?”

এ ব্যাপারে অনেক তথ্য-উপাত্ত সংগৃহীত হয়েছে বলে জানান র‌্যাবের এ অতিরিক্ত মহাপরিচালক।

সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত সম্পর্কে তদন্ত কর্মকর্তা নিজের সন্তুষ্টির জন্য ঘটনার মূল অভিযুক্ত আসামিদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরির্দশনে আসা হয়েছে উল্লেখ করে তোফায়েল বলেন, “যাতে করে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি সাজা না পায়, কোনো দোষী ব্যক্তি যেনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত না করতে পারে। লিয়াকতকে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে কোনো ধরনের ফায়ার কাজে ইনস্টিকিউশন কারা করেছিল, কীভাবে করেছিল? সবকিছু অ্যানালাইসিস করে আমরা (র‌্যাব) একটা সন্তোষজনক তদন্ত সম্পন্ন করব।

‘তাড়াহুড়ো করে একটা কথা আছে জাস্টিস হারিড, জাস্টিড বারিড; জাস্টিস ডিলেইট, জাস্টিস ডিনাইট। তো হারিড যেন না হয় এবং ডিলেইট যেন না হয়। কোনটাই যেন না হয়, সেই দুই দিক বিবেচনায় রেখে আমরা কাজ করছি।”

এর আগে দুপুর ১টায় সিনহা নিহত হওয়ার ঘটনায় বোন শাহরিয়ার শারমিন ফেরদৌসের দায়ের মামলার মূল অভিযুক্ত টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানর সাবেক পুলিশ সদস্য এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিতকে নিয়ে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এএসপি খাইরুল ইসলামসহ র‌্যাবের একটি ঘটনাস্থলে পৌঁছেন।

এসময় র‌্যাব সদর দপ্তরের আইন ওগণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ, র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক সারোয়ার বিন কাশেম, র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ ও মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এএসপি খাইরুল ইসলামসহ র‌্যাবের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফের শামলাপুর চেকপোস্টে ‘গাড়ী তল্লাশীকে’ কেন্দ্র করে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

এ ঘটনায় গত ৫ আগস্ট সিনহার বোন শাহরিয়ার শারমিন ফেরদৌস বাদী হয়ে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিতসহ নয় পুলিশ সদস্যকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত ৬ আগস্ট ওসি প্রদীপসহ ৬ আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

এ মামলায় আদালতের আদেশে ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকত ও এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিতের সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে র‌্যাব হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। গত ১৮ আগস্ট থেকে এ তিন আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা