ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া কোনোভাবেই বাস্তবায়িত হচ্ছে না রোহিঙ্গাদের | Daily Cox News
  • বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০১:৩৭ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी
শিরোনাম :

ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া কোনোভাবেই বাস্তবায়িত হচ্ছে না রোহিঙ্গাদের

ডেস্ক রিপোর্ট
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২০
ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া কোনোভাবেই বাস্তবায়িত হচ্ছে না রোহিঙ্গাদের

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসতে থাকে। মানবিক কারণে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিলেও মিয়ানমার সরকারের নানা টালবাহানায় আশ্রিতদের ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া কোনোভাবেই বাস্তবায়িত হচ্ছে না এখনো। নিজ দেশে ফেরার আগ্রহ থাকলেও প্রত্যাবাসন অনিশ্চয়তায় চরম হতাশায় আছেন রোহিঙ্গারাও।

কক্সবাজারের মানুষদের দাবি, সময় যতোই গড়াচ্ছে ততোই রোহিঙ্গাদের কারণে বাড়ছে নানামুখি সংকট। আর এ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার লক্ষ‌্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার।
এখন কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গার বসবাস করছেন বলে জানা যায়। কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংস্থ ক্যাম্প নম্বর ৪। রাস্তার পাশে দোকান করে ব্যবসা করছেন এই ক‌্যাম্পের বাসিন্দা হামিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার সরকারের নির্যাতনের কারণে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আসি। বাংলাদেশ সরকার আশ্রয় দিয়েছে। তাই আমরা এখনও এখানে থাকতে পারছি। কিন্তু নিজ দেশে আমরা যেভাবে চলতে পারতাম এখানে তো তা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ এটা আমাদের দেশ নয়। আমরা নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই বললেন তিনি।’

হামিদ হোসেন আরও বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে কুতুপালং এসেছি ৩ বছর হলো। কিন্তু এখনও দেশে ফেরার কোনও ব‌্যবস্থা হলো না। যদি বিশ্ববাসী মিয়ানমারকে চাপ দিয়ে কোনও ব্যবস্থা করতে পারতো তাহলে আমরা নিজ দেশে ফিরতে পারতাম।’

স্থানীয়রা জানান, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়েছে নানা সংকট। আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে সংঘাতের। এরই মধ্যে উজাড় হয়েছে বন, পাহাড়, কৃষি জমি। কাজ হারাচ্ছেন স্থানীয় শ্রমিকরা। তাই দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর দাবি জানান।
কক্সবাজার পিপল্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল বলেন, ‘মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। সে সময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রোহিঙ্গাদের নিয়ে যে মায়া কান্না ছিল, এখন কিন্তু সেটা আর নেই। এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গাদের নিয়ে তেমন কোনও আলোচনা হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের মানুষ নানা সমস্যায় জর্জরিত। এই অবস্থা যদি চলমান থাকে তাহলে কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দাদের বসবাস করা দূরহ হবে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত দ্রুত মিয়ানমারকে চাপ দিয়ে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা।’
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরুর লক্ষ‌্যে কাজ করছে আমাদের দেশের সরকার।’

মো. মাহবুব আলম আরো বলেন, ‘আমরা যাই করি না কেন আমাদের প্রধান ও মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রত্যাবাসন। এই যাতে দ্রুত শুরু করা যায় এই ব্যাপারে সরকার সবর্দা সচেষ্ট।’

উল্লেখ্য, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর জন্য ২০১৮ সাল থেকে কয়েক দফায় মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯১৯ জন রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু আলোচনা ছাড়া মিয়ানমার সরকার এখন পর্যন্ত কাউকে ফেরত নেয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা