বহুপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে | Daily Cox News
  • মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ১২:৪২ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বহুপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে

ডেস্ক রিপোর্ট
আপডেট : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০
ওবায়দুল কাদের।

রোহিঙ্গাদের স্থায়ী প্রত্যাবাসনের লক্ষ‌্যে সরকার বহুপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় শ্রমিক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা জানান। ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনা সভায় যুক্ত হন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনার জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখলের পর থেকে যতবার বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে সে সময় স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রনীতি বলতে আদৌ কিছু ছিল কি?’

তিনি বলেন, ‘যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে নিজেদের স্বার্থে রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে, তাদের মুখে নীতির কথা মানায় না। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সরকার পরিচালনার সকল ক্ষেত্রে ভিশনারি নীতি মেনে সুদক্ষভাবে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে এই ভীত গড়ে দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যা ১৯৭২ সালের সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।’

তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বুঝতে পারেন নাই, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ কোনো পক্ষ নয়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে পক্ষ হলো মিয়ানমার ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে উদ্ভূত ঘটনায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি বাংলাদেশের জনগণের সহমর্মিতা ও মানবিকতার দিকটি বিবেচনা করে তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছিল সরকার।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে স্থায়ী সমাধান খোঁজার জন্য দ্বিপাক্ষিক, ত্রিপাক্ষিকসহ বহুপাক্ষিক আলোচনা চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে রোহিঙ্গা সমস‌্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়েছে এবং তা চলমান রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চাপ ও আন্তর্জাতিক আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও মিয়ানমার তার জায়গায় অনড় রয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যা অস্থায়ীভাবে সমাধান করলে পরবর্তীতেও তার প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়বে। তাই বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বহুপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড ছিল স্বাধীনতাবিরোধী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রের সুগভীর পরিকল্পনার অংশ, এ কথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে বাঙালির সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎকে নিকষ কালো মেঘের আবরণে আচ্ছাদিত করার অপচেষ্টা করা হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী মোশতাক-জিয়া চক্রের ভূত দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে গেছে। তারা অবৈধ ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জাতির বিবেককে কারারুদ্ধ করে ফেলেছিল। জাতির পিতা হত্যার বিচার করা তো দূরের কথা, মোশতাক এই হত্যার বিচার রহিতকরণের জন্য ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করলে শামরিক শাসক জিয়া সেটাকে সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে।’

তিনি বলেন, ‘দেশি-বিদেশি স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের সুগভীর পরিকল্পনা এবং সামরিক ও রাজনৈতিক দোসরদের যৌথ প্রযোজনায় জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল বলেই তারা অনায়াসে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নিজেদের অপপ্রয়াস চালাতে পেরেছিল। মোশতাক-জিয়ার পরবর্তী কর্মকাণ্ডই সাক্ষ্য দেয়, এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদ ছিল।’

শ্রমিক লীগের সভাপতি ফজলুল হক মন্টুর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন—আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাসিম, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আজম খসরু।

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা