স্বজনদের থেকে নেওয়া ঘুষের টাকা ফেরত দিচ্ছেন এসআই শামীম! | Daily Cox News
  • মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

স্বজনদের থেকে নেওয়া ঘুষের টাকা ফেরত দিচ্ছেন এসআই শামীম!

ডেস্ক রিপোর্ট
আপডেট : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০
এসআই শামীম

নারায়ণগঞ্জে এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার স্বীকারোক্তি দেওয়া তিন আসামির স্বজনদের থেকে নেওয়া ঘুষের টাকা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করছেন সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শামীম আল মামুন। পাশাপাশি মামলা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে তিনি হুমকিও দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন আসামিদের স্বজনরা। ইতোমধ্যে এক আসামির স্বজনকে টাকা ফেরত দিয়েছেন শামীম। অন্যদেরও টাকা নিতে থানায় যেতে বারবার ফোন দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

তবে সদর থানা পুলিশ আসামিদের স্বজনদের থেকে এমন কোনও অভিযোগ পায়নি বলে দাবি করেছে। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, আসামিদের স্বজনদের সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। ঘুষের টাকা ফেরত দেওয়া এবং স্বজনদের ফোন করে থানায় এসে দেখা করার বিষয়ে কিছুই জানি না।

আদালতে কিশোরী হত্যা ও ধর্ষণের স্বীকারোক্তি দেওয়া নৌকার মাঝি খলিলুর রহমানের স্ত্রী শারমিন বেগম অভিযোগ করেন, ওই কিশোরী ৫১ দিন পর জীবিত ফিরে আসার পরেও পুলিশ গ্রেফতার তিন জনকে না ছেড়ে উল্টো অন্য মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। আমার স্বামীসহ অন্য আসামিদের দ্রুত মুক্তি দিতে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

শারমিন আরও অভিযোগ করেন, ‘পুলিশ আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করেছে। রিমান্ডে এনে মারধর করবে না এই কথা বলে আমার থেকে ঘুষ নিয়েছিলেন এসআই শামীম। মঙ্গলবার দুপুরে মোবাইলফোনে ডেকে নিয়ে তিনি ঘুষের ৬ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, স্বামী জেলে থাকায় তিন ছেলে-মেয়ে নিয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

মামলার প্রধান আসামি আব্দুল্লাহর বাবা আমজাদ হোসেন বলেন, ‘পুলিশ ফোন করে ঘুষের টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য আমাকে থানায় যেতে বলেছে। সোর্সের মাধ্যমে এবং মোবাইলফোনে কল করে নানাভাবে ভয় দেখাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এসআই শামীম তার ব্যবহৃত মোবাইলফোন থেকে কল করে দুইবারে দেওয়া ঘুষের ১০ হাজার টাকা ফেরত নিতে থানায় যেতে বলেছেন। ঘুষের টাকা ফেরত না দিয়ে আমার নিরীহ ছেলেকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বললে, এসআই শামীম উত্তেজিত হয়ে হুমকি দেন। শামীম বলেন, আব্দুল্লাহকে আরও ৪-৫টা মামলা দিয়ে আটকে রাখা হবে। এই মামলা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে আব্দুল্লাহর মতো তোকেও ধরে নিয়ে গিয়ে মামলা দিয়ে কোর্টে চালান দেওয়া হবে। পুলিশের ভয়ে শহরের গলাচিপায় থাকা দোকানও চালাতে পারছি না।’

তিনি জানান, এসআই শামীমকে দুইবারে সাত হাজার ও তিন হাজার টাকা ঘুষ দিয়েছেন।

অন্যদিকে আসামি রকিবের ভাই রাজিব অভিযোগ করেন, ‘২৩ আগস্ট ওই কিশোরী উদ্ধারের এক ঘণ্টা আগেও এসআই শামীম আমার থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এছাড়া ভাই রিমান্ডে থাকা অবস্থায় আরও ১০ হাজার টাকা ঘুষ নেন।’

তিনি বলেন, ‘এখন সেই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বারবার ফোন করে থানায় যেতে বলছেন। কিন্তু আমাদের তো এখন থানায় কোনও কাজ নেই। ভাই বন্দি জেলখানায়। আমাদের কাজ হচ্ছে কোর্টে।’

তবে ঘুষের টাকা ফেরত দেওয়া ও হুমকি দেওয়ার বিষয়ে কথা বলার জন্য এসআই শামীম আল মামুনের বক্তব্য জানার জন্য তার ফোন নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুাপার মো. জায়েদুল আলম বলেন, অপরহণ মামলায় তিন আসামিকে গ্রেফতার, ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি রেকর্ড, তিন আসামি কেন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন এবং আসামিদের স্বজনদের থেকে ঘুষ গ্রহণ করাসহ প্রকৃত রহস্য উন্মোচনের জন্য উচ্চ পর্যায়ের দুটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে আসামিদের স্বজনদের থেকে ঘুষ গ্রহণ, ফেরত দেওয়া ও ভয়ীভিতি প্রদর্শনের প্রমাণ পেলে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, শহরের দেওভোগ এলাকার ১৫ বছর বয়সী কিশোরী ৪ জুলাই বিকালে বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়। দীর্ঘদিন খোঁজ করে মেয়ের সন্ধান না পেয়ে এক মাস পর ৬ আগস্ট থানায় অপহরণ মামলা করেন কিশোরীর বাবা। এ ঘটনায় কিশোরীর মায়ের মোবাইলফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে গত ৭ ও ৮ আগস্ট পুলিশ একই এলাকার রকিব, আবদুল্লাহ ও খলিল নামে তিন জনকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে খলিল নৌকার মাঝি। গ্রেফতারের পর তিন আসামি দুই দফা রিমান্ড শেষে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করে ৯ আগস্ট আদালতে জবানবন্দি দেয়। তবে পরে ওই কিশোরী জীবিত উদ্ধার হলে পুলিশের তদন্ত ও রিমান্ড কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন ওঠে

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা