নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন, আইনের শাসন ও বঙ্গবন্ধু | Daily Cox News
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন, আইনের শাসন ও বঙ্গবন্ধু

আনিসুল হক
আপডেট : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২০
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

বঙ্গবন্ধু জীবনের শুরু থেকেই একটি বৃহৎ পরিকল্পনা নিয়ে রাজনীতি শুরু করেন। পাকিস্তান আন্দোলনে তিনি শরিক হন ঠিকই কিন্তু পাকিস্তানের জন্মের পরই তিনি বুঝতে পারেন যে, তিনি যে মানুষগুলোকে ভালোবাসেন, যে মানুষগুলোর দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করার স্বপ্ন দেখেন এবং যে মানুষগুলোর মুখে হাসি ফুটাতে চান সেই মানুষগুলোর ও তাদের বাসস্থান অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ববাংলার (বর্তমান বাংলাদেশ) কোনো পরিবর্তন এই স্বাধীনতা এনে দিবে না।

ঠিক এর পাশাপাশি তিনি মনে করেন যে, যারা পাকিস্তান আন্দোলন করেছেন তাদের ভাবনা-চিন্তার পরিবর্তনের পাশাপাশি ছাত্রসমাজকে একটি সংগঠনের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ করে তার প্রিয় বাঙালিদের, তার ভালোবাসার বাঙালিদের ভাগ্য পরিবর্তনের লড়াইয়ের জন্য তৈরি করতে হবে। তাহলেই, তার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়া সম্ভব হবে।

ঠিক সেভাবেই বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক জীবনের অবকাঠামো তৈরি করেছিলেন। তিনি এক পাশে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, অন্য পাশে আওয়ামী মুসলিম লীগের হাল ধরেছিলেন।

বঙ্গবন্ধু শুরু থেকেই নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির মাধ্যমে তার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কর্মপন্থা ও কর্মসূচি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নির্বাচনের পথ অবলম্বনে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি সবসময় মনে করতেন, জনগণই শক্তি, তাই জনগণের ক্ষমতায়নের মাধ্যমেই কেবল সোনার বাংলা গড়া সম্ভব। অধিকার প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক পদ্ধতি হিসেবে নির্বাচন আর অধিকার হরণ করার আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাই ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক একটি বৈশিষ্ট। সেকারণেই ১৯৪৮ সালে বাংলাকে মাতৃভাষা না করার বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ভূমিকা রাখেন ও ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে জেলখানা থেকে নির্দেশনা দেন। এর অব্যবহিত পরেই তিনি ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং ১৯৫৪ সালে তিনি প্রথমবারের মতো কৃষি, ঋণ, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।

১৯৫৬ সালে তিনি আবারও কোয়ালিশন সরকারের বাণিজ্য, শ্রম, শিল্প, সমাজকল্যাণ, সমবায় ও দুর্নীতি দমনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।

নিরঙ্কুশ বিজয়ের পরেও পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র বাংলার জনগণের কাছে উন্মোচিত হয়। বঙ্গবন্ধু পরিষ্কারভাবে বাংলার জনগণকে বোঝানো শুরু করেন যে, পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের ভাগ্য উন্নয়ন করতে দিবে না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব যতই বাংলাদেশের জনগণ গ্রহণ করছিল ও বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তা যতই বাড়ছিল ততই তিনি পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর চক্ষুশূল হয়ে উঠছিলেন এবং তাকে পাকিস্তানের সব সরকার কর্তৃক বারংবার কারাগারে পাঠানো হচ্ছিল।

১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু যখন ছয় দফা ঘোষণা করেন তখন আইয়ুব খান বুঝতে পারেন যে, বঙ্গবন্ধু তার সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পথে এগুচ্ছে। এটা বুঝতে পেরেই আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি করে বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।

তবে, বারংবার কারাগারে পাঠানো হলেও বঙ্গবন্ধু কখনোই কারাগার থেকে কারো দয়ায় বেরিয়ে আসেননি। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে আদালত থেকে মুক্তি নিয়েছেন তিনি। অনেক সময় জনগণের রোষানল থেকে বাঁচার জন্য সরকার তাকে মুক্তি দিয়েছে।

পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে এমন অসংখ্য মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেছিল যা পরবর্তীতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে এবং বিচারকরা মামলার Judgment-এ বঙ্গবন্ধুর বক্তব্য ও পদক্ষেপকে আইনসঙ্গত বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

এখানে প্রথমেই আমি উল্লেখ করতে চাই বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা দুর্নীতির মামলার কথা যা করা হয়েছিল ১৯৫৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। এ মামলায় নিম্ন আদালতে বঙ্গবন্ধুকে সাজা দেওয়ার পরে পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্ট ১৯৬৩ সালের জুলাই মাসে বঙ্গবন্ধুকে বেকসুর খালাস দেন। সেখানে বিচারপতি আসির ও বিচারপতি আলীর দ্বৈত বেঞ্চে এই রায় হয়

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা