মাসজুড়ে নেই কোনো বন্দুকযুদ্ধ, তবুও ইয়াবা উদ্ধার প্রায় শত কোটি টাকার! | Daily Cox News
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

মাসজুড়ে নেই কোনো বন্দুকযুদ্ধ, তবুও ইয়াবা উদ্ধার প্রায় শত কোটি টাকার!

ডেস্ক রিপোর্ট
আপডেট : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২০
ইয়াবা

গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ মোহাম্মদ খান। এরপর থেকে প্রায় এক মাস হতে চললেও মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কক্সবাজারে বন্দুকযুদ্ধের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবুও উদ্ধার হয়েছে প্রায় শত কোটি টাকার অধিক মূল্যের ইয়াবার চালান।

ইয়াবাসহ মাদকপাচার বন্ধে দুই বছর আগে ঢাকঢোল পিটিয়ে দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জোরেশোরে চলে কথিত বন্দুকযুদ্ধও। এ সময় বিশেষ নজর দেওয়া হয় ইয়াবাপাচারের সদর দরজাখ্যাত কক্সবাজার টেকনাফ কেন্দ্রিক।

এতে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায় ক্রসফায়ারের পরিসংখ্যান। গত ৩০ জুলাই পর্যন্ত শুধু কক্সবাজার জেলায় পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৮৭ জন। এর মধ্যে পুলিশের সঙ্গে ১৭৪, বিজিবির সঙ্গে ৬২ ও র‌্যাবের সঙ্গে ৫১ জন বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। আর টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন ১৬১ জন। অবশ্য এমন অভিযানের পরও কমেনি মাদকের চোরাচালান।

পুলিশের গুলিতে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান নিহত হওয়ার পর মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের নামে কথিত ক্রসফায়ারের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। এমন প্রশ্নের পর থেকে গত ৩০ দিনে মাদক উদ্ধারে গিয়ে বন্দুকযুদ্ধের একটি ঘটনাও ঘটেনি। তবুও উদ্ধার হয়েছে প্রায় শত কোটি টাকা মূল্যের ইয়াবার চালান।

তথ্য বলছে, এমন পরিস্থিতিতেও মাদকের সরবরাহ কমেনি। সর্বশেষ (২৪ আগস্ট) কক্সবাজারের সমুদ্র থেকে ১৩ লাখ পিস ইয়াবা আটক করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‍্যাব)। আটক না হলে এসব ইয়াবা প্রায় ৬৫ কোটি টাকায় বিক্রি হতো বলে জানিয়েছেন র‍্যাব।

জানতে চাইলে র‍্যাব-১৫ এর কক্সবাজারের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মেহেদি হাসান বলেন, মাদক পাচারকারীরা ভেবেছিল, সাগরে সিগন্যাল থাকায় সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা থাকবে না। তাই তারা বড় একটি চালান নিয়ে রওনা হয়েছিল। তবে সিগন্যাল থাকার পরেও আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাগরে অভিযান শুরু করি। মাদকবাহী নৌকাটি আটক করি। সেই নৌকা থেকে ১৩ লাখ পিস ইয়াবা করা উদ্ধার করা হয়।

ঘুমানোর আগে 1 কাপ খেলে প্রতি 3 দিনে 2 কেজি পর্যন্ত মেদ ঝরতে পারে
এর একদিন আগে (২৩ আগস্ট) টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) ২০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করে এবং ২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে। যার বাজার মূল্য ৬০ লাখ টাকা।

জানতে চাইলে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান বার্তা২৪.কমকে বলেন, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধীনস্থ হোয়াইক্যং চেকপোস্টে তল্লাশি করে ইয়াবা জব্দ করা হয়। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সুযোগ নেই এখানে।

তার আগে (১৭ আগস্ট) কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) ১ লাখ ৪০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করে বিজিবি। চার বাজার মূল্য ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৩নং ঘুমধুম ইউপি’র দক্ষিণ রেজুআমতলী মসজিদের পার্শ্বে পাহাড়ের ঢালুতে সেখানে গুলি বিনিময়েরও ঘটনা ঘটে কিন্তু কোনো পক্ষেই হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

তারও আগে এই মাসেই টেকনাফে অভিযান চালিয়ে ১ জন আসামিসহ ৪ কোটি টাকা মূল্যের ১ লাখ ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে বিজিবি।

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান বার্তা২৪.কমকে বলেন, গোপন সংবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা অভিযান থেকে এই বড় ইয়াবার চালন জব্দ করা হয়েছে। কিন্ত মাদকব্যবসায়ীকে ধরতে পারিনি।

বিজিবির কর্মকর্তারা বলছেন, নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের দুর্গম পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবা চোরাচালান বেড়েছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত সময়ে বাহিনীটি একাধিক অভিযান চালিয়ে ১৫ লাখের বেশি ইয়াবা বড়িসহ ৯৯ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে ১২ ইয়াবা কারবারি।

ইয়াবা চালান রোধে বন্দুকযুদ্ধের যৌক্তিকতা প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নেহাল করিম বলেন, পৃথিবীব্যাপী মাদক চোরাকারবারি হচ্ছে। এখানে শুধু লোক দেখানো ক্রসফায়ার দিয়ে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়, আর আসল মাদক কারবারিদের সুযোগ করে দেওয়া হয়। আমি মনে করি আন্তরিকতা থাকলে দেশ থেকে মাদক বন্ধ করা খুব কঠিন হবে না। বন্দুক যুদ্ধের খুব প্রয়োজন পড়বে না।

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা