সব দেশের জন্য একই সময়ে ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে হবে: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী | Daily Cox News
  • বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ১০:২৪ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

সব দেশের জন্য একই সময়ে ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে হবে: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
আপডেট : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
শেখ হাসিনা

কোভিড-১৯ ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলে বিশ্বের সব দেশ যাতে এই ভ্যাকসিন একইসঙ্গে পায় তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কারিগরি জ্ঞান ও মেধাস্বত্ব পেলে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণে ভ্যাকসিন উৎপাদনে সক্ষম বলেও সংস্থাটিকে জানান তিনি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)-র ৭৫তম অধিবেশনে (ভার্চুয়াল) ভাষণে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বরাবরের মতো এবারও তিনি বাংলায় ভাষণ দেন।
তিনি বলেন, আশা করা হচ্ছে বিশ্বে শিগগিরই কোভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। এই ভ্যাকসিনকে বৈশ্বিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সব দেশ যাতে এই ভ্যাকসিন সময়মতো এবং একইসঙ্গে পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। ভ্যাকসিন উৎপাদনে বাংলাদেশের সক্ষমতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারিগরি জ্ঞান ও মেধাস্বত্ব প্রদান করা হলে, এই ভ্যাকসিন বিপুল পরিমাণে উৎপাদনের সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিগত বিভাজন নিরসন, সম্পদ আহরণ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের জন্য আমাদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে কাজে লাগানো প্রয়োজন। পাশাপাশি স্বল্পোন্নত হতে উন্নয়নশীল এবং সদ্য উত্তরিত উন্নয়নশীল দেশসমূহের জন্য এই আপদকালীন, উত্তরণকাল ও উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে বর্ধিত আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং প্রণোদনা প্যাকেজ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শেখ হাসিনা বলেন, মহামারি নিরসনে আমাদের উদ্যোগ এবং এজেন্ডা-২০৩০ অর্জনে আমাদের প্রচেষ্টা সমান তালে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ভলান্টারি ন্যাশনাল রিভিউ রিপোর্ট উপস্থাপন প্রমাণ করে যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে আমরা যথাযথভাবে এগিয়ে চলেছি। বাংলাদেশকে আমরা ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশ, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ এবং ২১০০ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ ব-দ্বীপে পরিণত করতে কাজ করে যাচ্ছি।

অভিবাসী শ্রমিকদের বিষয়টি সহমর্মিতার সঙ্গে ও ন্যায়সঙ্গতভাবে বিবেচনা করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও অভিবাসী গ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী শ্রমিকরা স্বাগতিক ও নিজ দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রেখে চলেছেন। এই মহামারির কারণে অনেক শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। অনেককে নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা দেশে ফিরে আসা অভিবাসী শ্রমিকদের প্রণোদনা বাবদ ৩৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছি। তবে কোভিড পরবর্তী সময়ে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ এর কারণে জাতিসংঘের ৭৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম বিশ্ব নেতৃবৃন্দ বিশ্বের সর্বোচ্চ ফোরাম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভার্চুয়াল অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন। এ বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে, ‘আমরা ভবিষ্যৎ চাই, জাতিসংঘ আমাদের প্রয়োজন : বহুমুখিতার প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্নিশ্চিতের মাধ্যমে।’

কোভিড-১৯-সবার ভাগ্য এক সূত্রে গাঁথা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ প্রমাণ করেছে, আমাদের সবার ভাগ্য একই সূত্রে গাঁথা। আমরা কেউই সুরক্ষিত নই যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা সবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারছি। এই ভাইরাস আমাদের অনেকটাই ঘরবন্দি করে ফেলেছিল। যার ফলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পাশাপাশি অর্থনীতিক কর্মকাণ্ডও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। করোনা মহামারিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮.২ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু কোভিড-১৯ আমাদের এই অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করেছে।

করোনা মহামারি সংকট মোকাবিলায় সবার ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্বের বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে মন্তব্য করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যেমন জাতিসংঘ সৃষ্টির মাধ্যমে বিশ্বের সকল দেশের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের ওপর গুরুত্বারোপের সুযোগ সৃষ্টি করেছিল, তেমনি এই মহামারি আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সঠিক নেতৃত্ব প্রদানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। করোনা দুর্যোগে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও বহুপাক্ষিক উদ্যোগের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব এবং সংস্থাটির প্রশংসা করেন তিনি

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা