কক্সবাজারে মাথা ন্যাড়া করে অমানবিক নির্যাতন, ৫ জন কারাগারে | Daily Cox News
  • মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

কক্সবাজারে মাথা ন্যাড়া করে অমানবিক নির্যাতন, ৫ জন কারাগারে

জেলা প্রতিনিধি | কক্সবাজার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০
কক্সবাজারে মাথা ন্যাড়া করে অমানবিক নির্যাতন, ৫ জন কারাগারে

কক্সবাজারের উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম সোনারপাড়ায় গরু চুরির অপবাদ দিয়ে যুবককে মাথা ন্যাড়া করে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় পাঁচজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) বিকেলে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হেলাল উদ্দিন এসব আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

এর আগে আসামিরা জামিনের আবেদন জানিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তবে ঘটনার মূলহোতা জালাল আহমদ পলাতক রয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান রেজা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পাঁচ আসামি হলেন- জালিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম সোনারপাড়া এলাকার মৃত শফির আহমদের ছেলে মোহাম্মদ (৫০), মোহাম্মদের ছেলে শফি আলম (৩০), রফি আলমের ছেলে জাহিদ হোসেন (৩৫), মৃত হোছন আলীর ছেলে আবদুস শুক্কুর (৪৮) ও মোহাম্মদের ছেলে মোহাম্মদ ইসলাম ওরফে কৈ সালাম (৩২)।

২৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে জালিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম ঘোনার পাড়ার ছৈয়দ আহমদ নামের এক যুবককে মাথা ন্যাড়া করে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।

যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ পেলে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। নির্যাতনের শিকার ছৈয়দ আহমদ ওই এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে।

ছৈয়দ আহমদকে রাতভর নির্যাতনের পর ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে মাথা ন্যাড়া করে ছেড়ে দেয়া হয়। নির্যাতনকারী স্থানীয় জালাল আহমদ নির্যাতনের সময় ছবি ও ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে, পরে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত জালাল আহমদসহ ছয়জনকে আসামি করে উখিয়া থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন নির্যাতনের শিকার ছৈয়দ আহমদের বোন জোবাইদা বেগম।

জোবাইদা বেগম বলেন, স্থানীয় শামসুল আলমের ছেলে জালাল আহমদ বিনা অপরাধে আমার ভাই ছৈয়দ আহমদকে সোনারপাড়া বাজার থেকে ধরে নিয়ে গরু চুরির অভিযোগে নির্যাতন করে। সারারাত বাড়ির উঠানে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে গলায় জুতার মালা পরিয়ে কোদাল দিয়ে মাথা ন্যাড়া করে দেয়। পরে কোদাল দিয়ে ন্যাড়া মাথায় আঘাত করেন। এ ঘটনায় আমার ভাই জ্ঞান হারিয়ে ফেললে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ রফিক ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

জালাল আহমদ মানবপাচারসহ বহু মামলার আসামি। বর্তমানে নদীপথে মানবপাচার বন্ধ থাকায় নতুন করে ইয়াবা কারবারে জড়িয়ে পড়েন জালাল আহমদ। তার অপকর্মের খবর পুলিশকে বলে দিয়েছে সন্দেহে আমার ভাইকে গরু চুরির অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করেছে- বলেন জোবাইদা বেগম।

বাদীর আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান রেজা বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ও মামলার ২ নম্বর থেকে ৬ নম্বর আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করেন এবং আসামিদের জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ রফিক বলেন, নির্যাতনের শিকার ছৈয়দ আহমদ স্থানীয় দোকানদার। তাকে জালাল আহমদ গরু চুরির অভিযোগে বাজার থেকে ধরে নিয়ে বেঁধে রাখেন। তাকে মারধরও করা হয়। যে গরুটি চুরির অভিযোগ তোলা হয় সেটি মালিকের বাড়িতেই ছিল। তবুও অপরাধী হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা। কিন্তু মারধর করা ঠিক হয়নি। এভাবে নির্যাতন করা অমানবিক

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা