রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধ কর্মকান্ড বেড়েই চলচে | Daily Cox News
  • বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ১১:৩২ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধ কর্মকান্ড বেড়েই চলচে

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২০
রোহিঙ্গা

ক্যাম্পের চলমান অবস্থা খুবই ভয়ংকর একেরপর এক অঘটন ঘটেই চলছে। ইয়াবা পাচার,অস্ত্র পাচার,নারী পাচার, অপহরণ সহ বিভিন্ন অপকর্ম থেমে নেই রোহিঙ্গাদের। ক্যাম্পে প্রতিনিয়ত শুনা যায় গুলাগুলির শব্দ। লেগে থাকে গ্রুপে গ্রুপে মারামারি রাহাজানি। তাদের রয়েছে নানান ধরণের অস্ত্র সরঞ্জাম। এ নিয়ে স্থানীয়দের ঝুঁকির সাথে দিনরাত আতঙ্কে জীবন কাটাতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ১২টা থেকে ভোর পর্যন্ত কুতুপালং ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে আরসা ও মুন্না দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক রোহিঙ্গা নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত নারীর নাম সমিরা আক্তার (৪১)।

২ নম্বর ক্যাম্পের হেড মাঝি সিরাজুল মোস্তফা জানান, গোলাগুলিতে কুতুপালং ৩ নম্বর ক্যাম্পের এফ ব্লকের আশ্রিত রোহিঙ্গা ছৈয়দ আলমের মেয়ে সমিরা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। এ সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় আরো ৭ রোহিঙ্গা আহত হয়েছে। তাদেরকে অন্যান্য রোহিঙ্গারা আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কুতুপালং এম এস এফ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে ক্যাম্পে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পের চেয়ারম্যান হাফেজ জালাল আহমদ জানান, ক্যাম্পের মধ্যে আরসা গ্রুপ ও মুন্না গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্বের কারণে দিন দিন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ফলে নিরীহ রোহিঙ্গারা আতঙ্কিত হয়ে ভয়ভীতিতে জীবন যাপন করছে।

এ বিষয়ে উখিয়া থানার ওসি আহমেদ সন্জুর মোরশেদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে লাশ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ঘটনার পরপরই পালংখালীর গহীন পাহাড়ে অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব-১৫। কারখানা থেকে দুইজন অস্ত্রের কারিগরসহ ৩টি অস্ত্র, ২ রাউন্ড গুলি ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের মধুরছড়া পাহাড়ে এ অভিযান চালানো হয় বলে জানান র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ানের উপ-অধিনায়ক মেজর মেহেদী হাসান।
আটককৃতরা হল মহেশখালী উপজেলার বাসিন্দা আবু মজিদ ওরফে কানা মজিদ ও রবি আলম। তারা অস্ত্র তৈরীর কারিগর।
র‌্যাব জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে আটকরা পালংখালীর গহীন পাহাড়ী এলাকায় অবস্থান করে অস্ত্র তৈরী করে রোহিঙ্গাদের মাঝে সরবরাহ করে আসছিল।

মেজর মেহেদী বলেন, শুক্রবার বিকালে পালংখালীর রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন সংরক্ষিত গহীন পাহাড়ে কিছু অস্ত্র ব্যবসায়ি অবস্থান করছে খবরে র‌্যাবের একটি দল অভিযান চালায়। এক পর্যায়ে মধুরছড়া নামের একটি পাহাড় থেকে ২ জনকে আটক করা হয়।
পরে তাদের অবস্থান নেয়া একটি কুড়ে ঘর থেকে দেশিয় তৈরী ২ টি বন্দুক, ২ টি গুলি ও বেশকিছু অস্ত্র তৈরীর সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে।
র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, আটকরা মহেশখালী থেকে এসে পালংখালীর গহীন পাহাড়ী এলাকায় অবস্থান করে অস্ত্র তৈরী করে রোহিঙ্গাদের কাছে সরবরাহ করত। তারা দীর্ঘদিন ধরে এ অস্ত্র তৈরী এ কাজ চালিয়ে আসছে

স্থানীয় এক সমাজ সেবক বলেন,রোহিঙ্গারা এত বেপরোয়া হলে স্থানীয়দের ভবিষ্যৎ কি হবে? আমাদের কি এখন মায়ানমার চলে যেতে হবে তাদের কে উখিয়া টেকনাফ হাতে তুলে দিতে হবে? তারা একেরপর এক অঘটন ঘটেই চলছে বিগত মাস দেড় এক আগেও রোহিঙ্গা সন্ত্রীসী গ্রুপের দফায় দফায় মারামারি,গোলাগুলির হামলার ঘটনা ঘটেছে।এই ঘটনা সামাধান হতে না হতেই আবার শুরু হয়েছে ক্যাম্পে খুন কারাবি রাহাজানি। তাদেরকে কাঁটা তাঁরের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করা হলে তারা সেটিও মানতেছে না। বেড়া ফাকঁ করে তারা স্থানীয় লোকালয়ে অবাধে মেলামেশা করে যাচ্ছে। তাদের জন্য আমাদের ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ ও ধ্বংসের পথে যাচ্ছে। সরকারের প্রতি জোরদাবি থাকবে স্থানীয়দের নিরাপত্তার জন্য রোহিঙ্গাদের কঠোর কড়াকড়ি সিকিউরিটি টিম বাস্তবায়ন করার জন্য।

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা