মানবিক সুত্রে আশ্রিত রোহিঙ্গারা এখন ভয়ংকর ! | Daily Cox News
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০১:৩৮ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

মানবিক সুত্রে আশ্রিত রোহিঙ্গারা এখন ভয়ংকর !

নিজস্ব প্রতিবেদন
আপডেট : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২০
ফিরছে রোহিঙ্গারা

উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, ইয়াবা ও ক্যাম্পভিত্তিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিনিয়ত সংঘর্ষের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে সাধারণ রোহিঙ্গা ও স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। গত সপ্তাহজুড়ে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলমান সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছে আট রোহিঙ্গা। আহত হয়েছে শতাধিকের বেশি

বিশ্বনেত্রী, মানবতার মানস কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদারতার সুযোগে, মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের। শুধু তাই নয় আশ্রিতাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান থেকে শুরু করে সব ধরনের সহযোগীতা প্রদানের পাশাপাশি এসব রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব আদায় করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য বেশ কয়েকবার কুটনীতিক তৎপরতা চালিয়েছে। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

অকৃতজ্ঞ আশ্রিত এসব রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে খুন, গুম, অপরহণ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, আধিপাত্য বিস্তার নিয়ে এখানে মারামারি ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িত হয়ে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির পায়তারা করছে দাবী করে রোহিঙ্গা নেতারা বললেন, আরসা নামের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের রোষানলে পড়ে গত তিন বছরে সহস্রাধিক রোহিঙ্গা গুম হয়ে গেছে।

সূত্র মতে, উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ি জমিতে ৩৪টি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গারা আশ্রয় নেওয়ার কিছু দিন লোক দেখানো ভালভাবে চলাফেরা করলেও পরবতর্ী সময় ধরে তাদের আসল রূপ বেরিয়ে আসতে শুরু করে। যার ফলে ক্যাম্প গুলোতে অপরাধ প্রবণতা বাড়তে শুরু করে। মাদক ও ইয়াবা কারবারি এবং চোরাচালানিদের সঙ্গেও তাদের অবাধ যাতায়াত থেকে শুরু করে জুয়া, জাল টাকা তৈরি, অস্ত্র তৈরির কারখানা প্রভৃতি অসামাজিক ও রাষ্ট্রদ্রোহী তৎপরতা শুরু করে এসব রোহিঙ্গারা।

কুতুপালং রেজিষ্ট্রার্ড ক্যাম্পে চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা জালাল আহমদ বলেন, ক্যাম্পে আরসা ও মুন্না দুটি গ্রুপের মধ্যে চলছে আধিপাত্য বিস্তার নিয়ে বন্দুক যুদ্ধ। তিনি বলেন, মুন্না একজন নেতা সে তার নেতৃত্ব জাহির করার জন্য আরসা গ্রুপ থেকে চলে এসে নিজস্ব একটি বাহিনী করেছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আরসা গ্রুপের অস্ত্রধারী সদস্যরা মুন্না গ্রুপের উপর বার বার হামলা চালাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, বুধবার রাতে আরসা গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা মুন্নার বাড়িতে হামলা চালিয়ে স্বপরিবারে হত্যা করেছে। জ্বালিয়ে দিয়েছে ঘরবাড়ি। তবে মুন্না কোথায় আছে তা কেউ জানে না। গত তিন বছরে রোহিঙ্গাদের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির শিকার হয়ে প্রায় সহস্রাধিক রোহিঙ্গার হদিস মিলছে না বলে দাবী করে ওই চেয়ারম্যান বলেন, রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড দমন করতে হলে সরকারকে আইনী পদক্ষেপ নিতে হবে।
পুলিশের তথ্যমতে, গত ২০১৭ সালে নানা অপরাধে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ছিল ৭৬টি, আর আসামি হয় ১৫৯ জন। ২০১৮ সালে ২০৮ মামলায় আসামি হয়েছে ৪১৪ জন। ২০১৯ সালে মামলার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৬৩টি আর আসামি হয় ৬৪৯ জন। চলতি বছরের ২৫ আগস্ট পর্যন্ত রোহিঙ্গা অপরাধীদের বিরুদ্ধে হওয়া ১৮৪ মামলায় আসামি হয় ৪৪৯ জন।

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা