• রবিবার, ৩১ মে ২০২০, ০১:৫৮ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी
নোটিশ :
আমাদের সাইট-এ প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে যোগাযোগ করুন>>01865-115787>>>01819785496

কক্সবাজার সদরের সী সাইড হসপিটালে অভিযোগের শেষ নেই!

শাহেদ ফেরদৌস হিরু,কক্সবাজার
আপডেট : রবিবার, ১ মার্চ, ২০২০
সিজার করতে রাজী না হওয়ায়, অতিরিক্ত বিল আদায়

কক্সবাজার সদরের সী সাইড হসপিটালে সিজার করতে রাজী না হওয়ায় অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

(২৮ ফেব্রুয়ারী) শুক্রবার রাত ৮ টায় ২ হাজার টাকা ক্যাশ কাউন্টারে জমা দিয়ে আয়েশা বেগমকে ডেলিভারী করার জন্য ভর্তি করানো হয়। কর্তৃপক্ষ সিজার করার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে বাচ্চার বয়স ৫ মাস হওয়াই রাজী হলেন না রোগী আয়েশা বেগম।

পরে যখন ব্যাথা শুরু হয় রাত সাড়ে আটটায় সুস্থভাবে নরমাল ডেলিভারী সম্পন্ন হয়। বাচ্চার বয়স কম হওয়ায় ডেলিভারীর ত্রিশ মিনিট পর বাচ্চা মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন ২৯ ফেব্রুয়ারী সকাল ৯ টায় কর্তৃপক্ষ রিলিজ নেওয়ার জন্য ক্যাশ কাউন্টারে বিল পরিশোধ করতে বলেন। বিল পরিশোধ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন রোগীর ভাই ওমর আল ফারুক ।

তিনি বলেন ১২ ঘন্টায় জেনারেল বেডে আমরা অবস্থান করার পর বিল ধরিয়ে দিল ১২ হাজার ৩ শত ৬০ টাকা। তারমধ্যে এডমিশন ফি ৩৩০ টাকা, কেবিন ফি ৪০০, সিবিজি ১০০,কনসাল্টেন্ট ফি ৩০০, এনামা চার্জ ৩০০, আইভি কেনোলা ২০০, মেডিকেশন চার্জ ১০০, ওটি চার্জ ১০০০, অক্সিজেন ১০০, সার্ভিস চার্জ ৫৬০ সর্বমোট ৩৩৬০ টাকা। এবং আরেকটি ক্যাশ ভাউচারে ৯ হাজার টাকা সহ মোট ১২,৩৬০ টাকা। অন্য ভাউচারের ৯ হাজার টাকার বিল সম্পর্কে জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ কোন সদোত্তর না দিয়ে আমার সাথে খারাপ ব্যাবহার করেন। আরো বলেন এখন বিল পরিশোধ না করলে ১২ টার পর বিল আরো বেড়ে যাবে। আমি বাধ্য হয়ে বিল বেড়ে যাওয়ার ভয়ে সম্পুর্ণ বিল পরিশোধ করি।

সাংবাদিকের উপস্থিতি জানতে পেরে আরেক রোগীর পিতা ইসমাইল হোসেন কান্নাকাটি করে অভিযোগ করে বলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারী আমার মেয়েকে ডেলিভারীর জন্য ভর্তি করানো হয়। ঐদিনই নরমাল ডেলিভারী সম্পন্ন হয়। ২৯ ফেব্রুয়ারী বিল পরিশোধ করে রিলিজ নেওয়ার কথা বলেন কর্তৃপক্ষ। ৩১,৬৮০ টাকার বিল হাতে নিয়ে আমি হতভম্ব হয়ে যায়। মুল বিলে ছিল ১৩,৬৮০ টাকা অপর একটি ভাউচারে কোন সিল স্বাক্ষর ছাড়া ১৮,০০০ হাজার টাকা সহ মোট ৩১,৬৮০ টাকা বিল কোন রকম আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে ধার নিয়ে পরিশোধ করি। অথচ অন্য একটি হসপিটালে আমার অন্য মেয়ে সিজার করার পরেও বিল দিতে হয়েছে ২৫ হাজার টাকা।

এছাড়াও কিছুদিন আগে কক্সবাজার সী সাইড হাসপাতালে সিজারের সময় বাচ্চার পা ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ উঠে ডাঃ খন্দকার আছাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে। বাচ্চার পিতা আবু বক্কর জানান, রাত ৮ টা ৪৫ মিনিটে ডাঃ খন্দকার আছাদুজ্জামানের নেতৃত্বে সদরের সী সাইড হসপিটালে আমার স্ত্রী রিদুয়ান জান্নাতকে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য ভর্তি করায়। অপারেশনের পর মেয়ে বাচ্চা জন্ম নিলেও কান্না থামাতে না পেরে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। ডাঃ আসাদুজ্জামান ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে বলেন, আমরা তাড়াতাড়ি নিয়ে গিয়ে দেখালাম। ডাঃ এম এস জামান এক্সরে করতে বললে আমরা দ্রুত পরীক্ষা করে রিপোর্ট নিয়ে দেখালাম। ডাঃ রিপোর্ট দেখে আপসোস করতে লাগলো এবং সিজার অপারেশনের সময় তাড়াহুড়ো করে বের করতে গিয়ে বাচ্চার কচি পা ভেঙ্গে যায় বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে আবার আছাদুজ্জামান ও হসপিটালের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলাম কাছে গেলে তারা ভুল স্বীকার করে বাচ্চারসব ধরনের চিকিৎসার খরচ বহন করার আশ্বাস দেন।

এ ব্যাপারে সী সাইট হসপিটালের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে কল রিসিভ না করায় সরাসরি হসপিটালে গিয়ে হসপিটালের মালিক ডাঃ জামিলা আক্তার ও ম্যানেজারের কাছে অতিরিক্ত বিলের ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা কোন সদুত্তর দিতে পারেন নাই। এবং তাৎক্ষণিকভাবে ওমর আল ফারুককে ১ হাজার টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।



ফেসবুকে আমরা