• রবিবার, ৩১ মে ২০২০, ১২:২৭ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी
নোটিশ :
আমাদের সাইট-এ প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে যোগাযোগ করুন>>01865-115787>>>01819785496

আমেজ ছাড়া অদ্ভুত এক ঈদের দেখা

ডেইলী কক্স নিউজ
আপডেট : শনিবার, ২৩ মে, ২০২০

বিশ্ব এখন করোনার কাছে জিম্মি। সমগ্র বিশ্ব যেন অসহায়। সামান্য অসতর্কাতেই যেন রক্ষা নেই। মানবসভ্যতার উন্মেষের পর থেকে বর্তমান অবধি বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও আতংকগ্রস্ত রোগ হচ্ছে করোনা ভাইরাস।
এই ভাইরাসের কারণে আমাদের জীবন থমকে গেছে। আমরা পবিত্র রমজান শেষ করে ঈদের আনন্দের কাছাকাছি চলে এসেছি। কিন্তু আমাদের মাঝে নেই কোন ঈদপূর্ব চিরাচরিত দৃশ্য। বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন, নৌ রুট ঝলমলে শপিংমল, ফুটপাত ইফতার বেচাকেনা চিরাচরিত দৃশ্য হারিয়ে গেছে করোনার কারণে। যেখানে সন্ধ্যা নামলেই মানুষের আনাগোনায় মুখরিত থাকতো শপিংমলগুলো। সেই সব এলাকা সড়ক, উপ-সড়ক যেন সন্ধ্যার পর মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়। করোনা মহামারি মানুষের জীবনের সবকিছু পাল্টে দিয়েছে। ধনী, মধ্যবিত্ত, দরিদ্র সকলের একটাই চিন্তা কিভাবে করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
মুসলমানদের সবচেয়ে ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ঈদের আগে এই সময়ে ধনী মধ্যবিত্ত নিম্নমধ্য বিত্ত ও সুবিধা বঞ্চিতরা যে যার যার মতো শপিং করতো। ঈদ উপহার সামগ্রী আদান প্রদান হতো। সাধ্যমতো প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতো। কিন্তু করোনা কেড়ে নিয়েছে মানুষের সব আনন্দ উৎসব। থাকবে না সেই চিরাচরিত ঈদ সেলামী নেওয়ার সুযোগ, ছেলে মেয়েরা মুরব্বীদের সালাম করে অনেক টাকার মালিক হয়ে যেতো। বন্ধ হয়ে গেলো ঈদের কোলাকুলি। নগরীতে ঈদের আগের সেই চিরাচরিত দৃশ্য চোখে পড়বে না। করোনাভাইরাস এখন বিশ্বের আলোচনার বিষয়বস্তু। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত ও অনেক কলকারখানা বন্ধ রয়েছে পাশাপাশি অনেক এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। যার ফলে দিনে এনে দিনে খায় এমন কর্মহীন মানুষ এখন অসহায়। সরকার, রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন সংগঠন ও সমাজের বিত্তবানরা এই সংকটময় মুহূর্তে এদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা যদি সকলে পবিত্র রমজানে কর্মহীন মানুষের জন্য সাহায্যের হাত বাড়ায় তাহলে তারা কোনভাবে খেয়ে পড়ে বাঁচবে। অন্যদিকে সকলে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারব।
বিশ্বের অনগ্রসর, উদীয়মান এবং উন্নয়নশীল দেশসমূহের বাজার অর্থনীতি বিশ্বব্যাপী লকডাউনের কারণে কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। তছনছ হয়ে গেছে উন্নত বিশ্বের অর্থনৈতিক গতি প্রকৃতি। এই প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক মন্দার বাতাস আমাদের দেশকেও ছাড়বে না যার বলার অপেক্ষা রাখে না। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আমাদের দেশে চলছে রীতিমতো অঘোষিত লকডাউন। সারাদেশে গণ পরিবহন বন্ধ রয়েছে। এতে মহা বিপাকে পড়েছে সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষজন। তাদের পরিবারে খাদ্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। কারণ এসব অধিকাংশ মানুষ দিনে এনে দিনে খায়। তারা নিতান্তই পেটের দায়ে কাজের জন্য বা টাকা রোজগারের জন্য রাস্তায় নেমেছেন। আমরা এই ঈদে যদি সুবিধা বঞ্চিতদের মুখে হাসি ফোটাতে পারি তবে ঈদ আনন্দ সার্থক হবে। কিন্তু দেশের অনেক মানুষ এখনো নিজেদের বিপদটা বুঝতে পারছে না। সুযোগ পেয়ে শুরু করে দিয়েছে ঈদের প্রয়োজনীয় কেনাকেটা। শিশু সন্তানকে নিয়ে ঘুরছে শপিং মলে। শপিং মলে ঈদের কেনাকাটা করতে গিয়ে পুরো পরিবারকে ফেলছে ঝুঁকির মুখে। জানি না কখন ওদের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। শপিং না করে টাকাটা কর্মহীন যারা অনাহারে আছে তাদের বিলিয়ে দিন। দেখবেন সৃষ্টিকর্তা আপনাদের অনেক সাহায্য করবে।
আসলে এই ভাইরাস মোকাবেলায় নির্দিষ্ট গাইড লাইন দিতে হিমসিম খাচ্ছে বিশেষজ্ঞগণ। রোগের কোন ওষুধ বা প্রতিষেধক এখনো নির্ভরযোগ্য সংস্থা থেকে পাওয়া যায়নি। তাই সঠিক জ্ঞানে সতর্ক থাকাটাই একমাত্র মুক্তির পথ। তাই নিজেকে প্রফুল্ল রাখতে হবে। সৃষ্টিকর্তার কাছে সাহায্য চাইতে হবে। মহান আল্লাহ যেন আমাদের এ মহামারি থেকে রক্ষা করেন।

এম ফেরদৌস ওয়াহিদ
প্রকাশক,ডেইলী কক্স নিউজ।



ফেসবুকে আমরা