• সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ১০:৪০ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी
নোটিশ :
প্রতিটি জেলায় দক্ষ ও অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বেতন-ভাতা আলোচনা সাপেক্ষ।আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন ০১৮৬৫-১১৫৭৮৭ আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বাগতম>> তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে সাথে থাকুন ধন্যবাদ।

বোরহানউদ্দিনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত-৪

রিপোর্টার
আপডেট : রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৯

সংঘর্ষে আহত একজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ভোলা: ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে চারজন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নয়জনকে বরিশাল শেরে-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত অর্ধশত মানুষ। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

রোববার (২০ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা সদরের বোরহানউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।

নিহতরা হলেন- বোরহানউদ্দিন উপজেলার মহিউদ্দিন পাটওয়ারীর মাদ্রাসা পড়ুয়া ছেলে মাহবুব (১৪), উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দেলওয়ার হোসেনের কলেজ পড়ুয়া ছেলে শাহিন (২৩), বোরহানউদ্দিন পৌর সভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহফুজ (৪৫), মনপুরা হাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা মিজান (৪০)।

আহতদের মধ্যে- মিজানুর রহমান, নান্টু, মাকসুদ, তানভির, ওলিউল্লাহ, ছিদ্দিক, আবু তাহের, শামীম ও সোহরাবের নাম প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের বিপ্লব নামে এক যুবকের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে উপজেলাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার ওই যুবকসহ আরো একজনকে আটকও করে পুলিশ।

ফেসবুক পোস্টটির জেরে রোববার বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় স্থানীয় লোকজন। তারা বোরহানউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করতে চাইলে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে প্রায় অর্ধশত লোক আহত হয়। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় বেশ কয়েকজনকে ভোলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (দুপুর দেড়টা) ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

রোরহানউদ্দিন থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মোহাইমিনুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনায় বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন মারা গেছে বলে শুনেছি।

রোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শাহীন বাংলানিউজকে জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত মাহফুজ ও মিজানের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। আহতাবস্থায় বেশ কয়েকজন ভর্তি রয়েছে।

অপরদিকে, ভোলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তৈবুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা দুই ব্যক্তি মারা যান।

ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়ছার বলেন, বোরহানউদ্দিন উপজেলার বিপ্লব নামে এক যুবকের ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়। আমরা হ্যাকের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আটক করেছি। এনিয়ে গত রাতে স্থানীয় আলেমদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলছে আজকের প্রোগ্রাম হবে না। কিন্তু সকাল থেকে আমাদের কাছে খবর আসে সেখানে মাইকিং হচ্ছে এবং স্টেজ বানানো হচ্ছে। সেখানে গিয়ে আমরা উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে কথা বলে আমি নিজে সেখানে বক্তব্য রেখেছি। তারা সবাই আমার বক্তব্য শুনেছেন। যখন আমি স্টেজ থেকে নেমে আসি তখন একদল উত্তেজিত জনতা আমাদের ওপর চড়াও হয়। তাদের হাত থেকে বাঁচতে পাশের একটি রুমে গিয়ে আশ্রয় নেই। যখন তারা ওই রুমের জানালা ভেঙে ফেলে তখন আত্মরক্ষার্থে শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছুঁড়ি। এতে কাজ না হওয়ায় উপরের দিকে গুলি চালানো হয়। এতে আমার জানা মতে একজন পুলিশ সদস্যের বুকেও গুলি লেগে গুরুতর আহত হন। আমরা আহতাবস্থায় যাদের হাসপাতালে পাঠিয়েছি তাদের মধ্যে তিনজন নিহত হয়েছেন। তবে বাকী আরও থাকতে পারে সেটা আমাদের কাছে তথ্য নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়ন রয়েছে।



ফেসবুকে আমরা