• বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:২৩ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে রোহিঙ্গারা, উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের

সুজাউদ্দিন রুবেল
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চারদিনের সংঘর্ষে ৮ জন নিহত, আতঙ্কে স্থানীয়রা

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারের স্থানীয়দের মাঝে বেড়েই চলেছে সমস্যা। রোহিঙ্গারাও জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে। এতে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে এনজিও, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। তবে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই মূল টার্গেট বলে জানিয়েছে অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে সীমান্তে পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গারা। একে একে ৩টি বছর পার করেছে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের এসব নাগরিক। কিন্তু এখনো পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকেও প্রত্যাবাসন করা যায়নি।
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয় শিবিরে দিন দিন টেকসই হচ্ছে রোহিঙ্গাদের বসবাস। ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার, বাজার ও মাদক নিয়ন্ত্রণে জড়িয়ে পড়ছে সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও খুনসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। স্থানীয়দের দাবি; প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ায় রোহিঙ্গারা ভুলে যেতে বসেছে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার কথা। ফলে রোহিঙ্গাদের কারণে নানাবিধ সমস্যায় উদ্বেগ বাড়ছে তাদের।

এনজিও, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আলোর মুখ দেখছে না বলে দাবি উখিয়ায় অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়ক ইমরুল কায়েস চৌধুরীর। বলেন, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো যদি আন্তরিক হতো তাহলে প্রত্যাবাসন এতো বিলম্বিত হতো না। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসান করছে কারণ তাদের বিশ্বব্যাপী যে কার্যক্রম আছে তার চেয়ে বেশি আছে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে।
আর অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. সামছু-দ্দৌজা জানান, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই সরকারের মূল টার্গেট। সে লক্ষেই কাজ করছেন তারা। বলেন, ক্যাম্পে তাদের চলাফেরার নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আর তাদের প্রতিনিয়ত বলা হচ্ছে তোমরা মানসিকভাবে প্রস্তুত হও যে কোনো সময় মিয়ানমার যেতে হবে। তোমাদের নিজেদের দেশে।
২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর নাইপিদোতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে চুক্তি হয়। কিন্তু চুক্তির বাস্তবায়ন আজও হয়নি।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অব্যাহত হামলা, নিপীড়ন ও হত্যার কারণে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয় সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। এছাড়াও এর আগে এসে আশ্রয় নিয়েছিল বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা। বর্তমানে তাদের সংখ্যা কমপক্ষে ১১ লাখ। বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘ ও অন্যান্য দেশের সহায়তায় কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে ক্যাম্প নির্মাণ করে তাদের আশ্রয় দিলেও তাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি বরাবরই দাবি জানিয়ে আসছে।
এ ব্যাপারে জোরালো আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। এরপরও আশ্রয় দেওয়ায় তাদের মানবিক নানা সুযোগ সুবিধার ব্যাপারও সরকারকে ভাবাচ্ছে। তাই এ পরিস্থিতির মধ্যেই রোহিঙ্গাদের উখিয়া ও টেকনাফের ঘিঞ্জি ক্যাম্পগুলো থেকে সরিয়ে আরও নিরাপদে রাখতে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ভাসানচরে নিজস্ব অর্থায়নে বিপুল ব্যয়ে আশ্রয় ক্যাম্প নির্মাণ করে সেখানে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ভাসানচরের আশ্রয় ক্যাম্পে কমপক্ষে এক লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করতে পারবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর