উখিয়ায় ইউপি মেম্বার কর্তৃক নিরহ ব্যক্তিকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ | Daily Cox News
  • শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

উখিয়ায় ইউপি মেম্বার কর্তৃক নিরহ ব্যক্তিকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ

দৈনিক কক্সবাজারের প্রতিবেদনে
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২০
অভিযোগ

উখিয়ায় এক ইউপি মেম্বার কতৃক অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোঃ জাফর আলম (৫৩) নামক নিরহ এক ব্যক্তি। একটি চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাহিনী প্রথম দফায় অপহরণ ও মারধর পূর্বক মেম্বার সালাউদ্দিনের হাতে তুলে দিলে দ্বিতীয় দফায় তাকে প্রকাশ্যে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়েছে এমন অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৫ আগষ্ট শনিবার সকাল ১১ টায়। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টিসহ জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলা রাজাপালং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের হিজলিয়া গ্রামের মৃত হাকিম আলীর পুত্র জাফর আলম ওইদিন টমটম যোগে উখিয়া সদর ষ্টেশনে যাওয়ার পথে অপহরণের শিকার হন।
নির্যাতনের শিকার জাফর আলম অভিযোগ করে বলেন, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আলীমোরা এলাকার মীর আহমদের পুত্র ইসমাইল প্রকাশ বুলি আশরাফ মিয়ার পুত্র জসীম উদ্দীন, নাজু খলিফার পুত্র নাসির উদ্দিন, জাকির হোসেনের পুত্র হেলালুদ্দীন মৃত হাবিবুর রহমানের পুত্র আব্দুল গনি ও মৃত সুলতান আহমদের পুত্র আবুল আলমের নেতৃত্বে চিহ্নিত দুর্বৃত্তরা টমটম গাড়ি থেকে থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে মারধর করে স্থানীয় মেম্বার সালাউদ্দিনের হাতে তুলে দেয়।
তিনি আরো বলেন, মেম্বার সালাউদ্দিন তার নতুন বাসভবন সংলগ্ন দোকানের সামনে অশ্লীল গালি দিয়ে প্রকাশ্যে লাঠি ও বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে আঘাত সহ্য করতে না পেরে মাটিতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়।
স্থানীয় জনগণ ও আত্মীয়-স্বজন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে নির্যাতনের শিকার আহত ব্যক্তিকে প্রথমে উখিয়া হাসপাতাল পরবর্তীতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান।
স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, জায়গা জমি সংক্রান্ত বিষয়ে জাফর আলমের সাথে একটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এ ঘটনার জের ধরে একজন ইউপি মেম্বার নিরীহ গ্রামবাসীকে প্রকাশ্যে মানুষের সামনে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করা খুবই দুঃখজনক। তারা আরো বলেন, আইন সকলের জন্য সমান। তবে একজন জনপ্রতিনিধি আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার ঘটনাটি কেউ মেনে নিতে পারছেনা।
মাওলানা সুলতান আহমদ জানান, স্থানীয় মেম্বার ও তার বাহিনী কর্তৃক আমার ভগ্নিপতি নিরহ জাফর আলমকে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীকে অবহিত করা হয়েছে।
আহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা বলেন, অমানুষিক নির্যাতনের পর বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দিয়েছে মেম্বার সালা উদ্দিন। শুধু তাই নয় পরবর্তীতে পরিনাম আরো ভয়ঙ্কর হবে বলে শাসিয়ে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ত্রাসীরা জাফর আলমকে জোরপূর্বক অপহরণ করে মারধর পূর্বক মেম্বারের হাতে তুলে দেওয়া এবং পরবর্তীতে মেম্বার কর্তৃক অমানুষিক নির্যাতনের দৃশ্যটি একজন যুবক ভিডিও ধারণ করছিল। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ওই মেম্বার মোবাইল সেটটি কেড়ে নিয়ে মেমোরি খুলে দাঁতে চিবিয়ে নষ্ট করে ফেলে দেয়।
আহত জাফর আলম বলেন, দ্বিতীয় মেয়ের জামাতা সৈয়দ আলমের নিকট হতে হাওলাত নেয়া ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করার জন্য ও জায়গার প্রয়োজনীয় দলিলপত্র নিয়ে উখিয়া স্টেশনে যাওয়ার পথে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হন। ওই সময় মেম্বারের লেলিয়ে দেওয়া বাহিনীর সদস্যরা তার কাছ থেকে সমস্ত টাকা ও মূল্যবান কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়। নাটের গুরু হিসেবে ঘটনার জন্য মৌলভী হাসেমকে দায়ী করছেন তিনি ।
স্থানীয় প্রভাবশালী মেম্বার কর্তৃক অমানুষিক নির্যাতনের শিকার বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা ও পরিবারে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ