• বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:০১ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

উখিয়ায় গ্রামগঞ্জে বেড়েছে মাদকাসক্ত ও বখাটের উৎপাত

এম ফেরদৌস উখিয়া
আপডেট সময় : বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০
উখিয়া

সীমান্ত জেলা কক্সবাজারের উখিয়ার উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম আঞ্চলে দেখা যাচ্ছে স্থানীয় বখাটে ও মাদকাসক্ত ছেলেদের উৎপাত।

উখিয়া উপজেলায় পাচঁটি ইউনিয়নের মধ্যে প্রতিটি এলাকায় খবর নিয়ে জানা যায় কিছু স্থানীয় মাদকাসক্ত ও বখাটে ছেলেদের নানান অপরাধ কর্মকান্ড বেড়েই চলছে। উত্যাক্ত, মাদক সেবন,ইভটিজার, চুরি,ডাকাতি, থেকে শুরু করে বিভিন্ন খুন খারাবি কাজে লিপ্ত হচ্ছে এলাকার যুবক ছেলেরা। তার মধ্যে অনেকেই মাদক সেবনকারী আবার কেউ বেকারত্ব’র অজুহাতে রাস্তাঘাটে বসে দিন রাত আড্ডায় মেতে উঠেছে।

সরেজমিনে, রাজাপালং, পালংখালী, রত্নাপালং, হলদিয়াপালং, জালিয়াপালং, ইউনিয়নের এলাকা গুলো ঘুরে দেখা যায় প্রতিটি এলাকায় গ্রাম্যকিছু দোকানপাটে বসে থাকা বখাটে ও মাদকাসক্ত যুবক ছেলেদের উম্মাদনা। কথায় কথায় বাজি,জুয়াতে ব্যাস্ত,আবার কেউ পথচারি নারী পুরুষদের টিটকারি, মেয়েদের ইভটিজিং থেকে শুরু করে নানা অপরাধ কর্মকান্ড করে যাচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয় সচেতনমহলের ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

রাজাপালং মুহুরীপাড়ার ছেলে উখিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের মাস্টার্স পড়ুয়া ছাত্র আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, এলাকায় গুটিকয়েক ছেলেদের ইয়াবা সেবনে ধ্বংস হচ্ছে শিক্ষিত যুব সমাজ। দিনরাত কিছু বখাটে ছেলেদর উম্মাদনায় এলাকাবাসীর জীবন অতিষ্ট হয়ে যাচ্ছে এদের আশ্রয়দাতা ও প্রশ্রয় দাতাদের সবিনয়ে অনুরোধ জানাচ্ছি এলাকার সুন্দর একটি মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মানে প্রশাসনের সহযোগিতায় এলাকাটি মাদকমুক্ত করুন।

রত্নাপালং ভালুকিয়া আমতলী এলাকার এক সচেতন নাগরিক জানান, আমতলী এলাকায় উঠতি বয়সের অসংখ্য যুবক ছেলেরা মাদকাসক্তে সম্পৃক্ত হয়ে দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, ইয়াবা সেবন ইভটিজিং, চুরি ডাকাতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়তেছে, এসবের জন্য মা, বাবা ও স্থানীয় জনগণ দায়ি বলে আমি মনে করি। প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতেছি আপনারা এলাকায় বখাটে যুবক ছেলেদের বেপারে খোজ খবর রাখুন প্রয়োজনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা নিয়ে মাঠে কাজ করুন। এতে এলাকায় মাদকাসক্ত ও ইভটিজার কমে যাবে বলে মনে করি।

পালংখালীর অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি জানান, আমরা মূলত রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় বসবাস করি এমনিতেই আমাদের এলাকার পরিবেশ ভাল নেই, তার মধ্যে মাদকের কথা কি বলব রোহিঙ্গা ক্যাম্প হচ্ছে মাদকের আস্তানা এইখানে পাওয়া যায়ানা এমন কোন মাদকদ্রব্য নেই, ইয়াবা থেকে শুরু করে সব ধরণের মাদক ক্যাম্পে পাওয়া যায় খুব সহজে সেবনকারী ও বিক্রেতারা মাদকের বিনিময় করতে পারে।

জালিয়াপালং সোনার পাড়া এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি বলেন, ঘাটঘর এলাকায় কিছু মাদক ব্যবসায়ী আছে তাদের কারণে এই এলাকায় কিছু যুবক ছেলেরা মাদকের প্রতি আসক্ত হচ্ছে, এই এলাকায় তেমন ইভটিজার নেই। বড় বড় মাদক ব্যবসায়ীদের থামাতে পারলে পরিবেশবান্ধব একটি এলাকা হবে এটি।

হলদিয়াপালং পাতাবাড়ি এলাকার ছেলে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হেলাল উদ্দিন জানায়, পাতাবাড়ি বাজারের আশে পাশেই প্রতিদিন চলে যুবক ছেলেদের জুয়া, ড্রাগ, বিভিন্ন খেলার মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বাজি ও বিভিন্ন অপরাধ প্রবণতার ছড়াছড়ি। এই এলাকার এইসব দেখার কেউ নেই, চাকমাপাড়া কাছে হওয়ার সুবাধে স্বল্পমূল্যে পাওয়া যায় পানীয় মদ ( বাংলা মদ) এগুলা এলাকার যুবকরা সাধারণ পানির মত পান করে এলাকায় মাতলামি মগ্ন থাকে এতে পরিবেশ নষ্ট হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখে ঢেলে দিচ্ছে তারা। এই পাতাবাড়ি এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জরুরী হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উখিয়া থানার (ওসি) আহমদ সঞ্জুর মোরশেদ বলেন, সঠিক তথ্য ও লিখিত অভিযোগ পেলে উখিয়া থানার পুলিশ সরাসরি এদের বিরোদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবে ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর