এখনো ঘুমাতে পারছে না প্রত্যক্ষদর্শী ১০ শিশু | Daily Cox News
  • মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৪:৪৯ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

এখনো ঘুমাতে পারছে না প্রত্যক্ষদর্শী ১০ শিশু

ডেস্ক রিপোর্ট
আপডেট সময় : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২০
Screenshot 20200819 204813

মোহাম্ম’দ ওম’র ফারুক, টেকনাফ থেকে ফিরে: ঈদের আগের দিন রাত। অন্য আট দশদিনের মতো হেফজখানার শি’শুরা ছাদে গিয়েছিল গল্প করতে। গল্পও চলছিল বেশ। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই তারা শুনতে পায় গু’লির শব্দ।

ওই ছাদ থেকে অল্প দূরত্বে বাহারছড়া এপিবিএন-এর চেকপোস্ট। যেখানে অবসরপ্রাপ্ত সে’না কর্মক’র্তা মেজর সিনহা মোহাম্ম’দ রাশেদ খানকে গু’লি করে হ’ত্যা করা হয়।

এই দৃশ্য পুরোটা দেখেছে রাহামানিয়া তাফিমুল কোরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানার দশ শি’শু। এই দৃশ্য দেখে হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে ছাদ থেকে নেমে যায় তারা।

এর পর থেকেই প্রত্যক্ষদর্শী শি’শুরা দুঃসহ স্মৃ’তি বয়ে বেড়াচ্ছে। ঘটনার ১৮ দিন পরেও সেই স্মৃ’তি ভেসে আসছে তাদের চোখের সামনে। মাঝে মাঝে কেউ কেউ ঘুম থেকে আঁতকে ওঠছে। মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদে ছুটি কাটিয়ে গত কয়েকদিন আগে শি’শুরা মাদ্রাসায় আবার ফিরলেও তাদের মধ্যে আতঙ্ক কমেনি এতোটুকু।

শুধু তাই নয়, এসব শি’শুদের প্রতিনিয়ত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ফলে তাদের মধ্যে সবসময় এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে। ভ’য়ে কারো সঙ্গে কথা বলছে না। কেউ কথা বলতে চাইলে লুকিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে গত শনিবার প্রত্যক্ষদর্শীদের গণশুনানির দিন তাদেরকে নিয়ে আসা হয় সাক্ষ্য দেয়ার জন্য। সেই দিনও সকাল সাড়ে নয়টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের বসিয়ে রাখা হয়। কিন্তু কোনো ধরনের সাক্ষ্য নেয়া হয়নি।

সরজমিন দেখা যায়, মাদ্রাসার সভাপতি নূরুল হক তাদেরকে শিঙ্গাড়া এনে দিয়েছে দুপুরে খাবার জন্য। ওইদিন এভাবে একটি শিঙ্গাড়া খেয়ে সারাদিন কে’টেছে ওই শি’শুদের। কথা হয় মাদ্রাসার সভাপতির সঙ্গে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন থেকে আমাদের বলা হয়েছিলো, তাদেরকে নিয়ে আসার জন্য। তাই নিয়ে আসছি। তাদের মানসিক অবস্থা কেমন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ছোট বাচ্চাদের সামনে এতো বড় একটা ঘটনা ঘটেছে তাদের মানসিক অবস্থা কেমন তাতো বুঝতেই পারছেন।

তাদের মধ্যে যে প্রা’ণচাঞ্চল্য ছিল সেটা আর এখন নেই। মাঝে মধ্যে তারা এখনো কা’ন্না করে। ঘটনার দিন কেউ ঘুমাতে পারেনি। সবাই কা’ন্নাকাটি করছিলো। ভ’য়ে মাদ্রাসা থেকে কেউ বের হয়নি। শি’শুরা এখানে আসতে ভ’য় পাচ্ছিল। তাই তাদের সঙ্গে আমি এসেছি।

এদিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইনচার্জ কার্যালয়ে কথা হয় ওই দশ শি’শুর সঙ্গে। তারা কি দেখেছিলো সেদিন? এমন প্রশ্ন করতেই অনেকের চোখে মুখে ভ’য়ের ছাপ।

এই শি’শুগুলোর মধ্যে সেফায়েত উল্লাহ বলে, আম’রা সেইদিন এশার নামাজের একটু পরে ছাদে ওঠেছিলাম। ছাদ থেকে রাস্তা স্পষ্ট দেখা যায়। ওইদিন একজনকে গু’লি করতে দেখেছিলাম পু’লিশকে। এর আগে যাকে গু’লি করেছে সে মাটিতে বসেছিলো হাত উপর করে।

ওই শি’শুদের মধ্যে আব্দুল আজিজ বলে, গু’লির শব্দ তখন আম’রা শুনছিলাম ও দেখছিলাম। আমাদের সবার কা’ন্না চলে আসছে। আম’রা খুব ভ’য় পেয়ে নিচে নেমে যাই। ওইদিন রাতে ঘুমাতে পারেনি খুব ভ’য় পাচ্ছিলাম। পরে হুজুররা এসে আমাদের পাশে ছিল। পরের দিন আম’রা কয়েকজন ভ’য়ে বাড়ি চলে গিয়েছিলাম।

ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ও বায়তুল জামে ম’সজিদের ই’মাম নিজেও একজন প্রত্যক্ষদর্শী হাফেজ শহিদুল ইস’লাম। তিনি বলেন, এশার নামাজের পর কয়েকজন ছাত্র ছাদে গিয়েছিল। এর আধাঘণ্টা পর একটি গু’লির শব্দ শুনতে পাই।

তাছাড়া গু’লির শব্দে ওরা কা’ন্নাকাটি করছিলো। তখন আমি মনে করেছি ছাত্ররা দুষ্টামি করছে। তাই আমি ছাদে যাই। গিয়ে দেখি ছাত্ররা কা’ন্নাকাটি করলেও ওরা ভ’য়ে নড়তে পারছে না।

পরে ছাদে ওঠার পর আমি দেখি একজন ভদ্রলোক দুই হাত উপরে তুলে মাটিতে বসে আছেন। এখান থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। কারণ ওখানে আলো ছিল। কাজী হাফেজ শহিদুল ইস’লাম বলেন,

এই অবস্থায় এসআই লিয়াকত (অ’স্ত্র হাতে ছিল, পরে নাম জানতে পারি) কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তাকে তিনটি গু’লি করেন। এরপরে ওই ব্যক্তি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর তাকে রাস্তার পূর্বপাড়ে রাখা হয়। এর বিশ মিনিট পর দুটি সাদা গাড়ি আসছিল।

আধা ঘণ্টা পর স্থানীয় ভাষায় ছারপোকায় (লেগুনায়) করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। আমি যা দেখেছি এর আগে থেকে শি’শুরা গু’লি করা পর্যন্ত তারা তা দেখেছিলো। আমি নিজেও খুব ভ’য় পেয়েছিলাম। বাচ্চাদের কথা কি বলবো। বাচ্চারা ওইদিন রাতে ঘুমাতে পারেনি। এখনো অনেকে ঘুমাতে পারছে না


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ