• বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:২৬ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সর্বনিম্ন ৩ সপ্তাহের লকডাউন দরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রিপোর্টার নাম :
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১
কক্সবাজার-চট্টগ্রামে নতুন করোনা আক্রান্ত ৯৬ জন

যেকোনও দেশে সংক্রমণ কমিয়ে আনতে সর্বনিম্ন তিন সপ্তাহের লকডাউন দরকার বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, ‘যত লম্বা সময় লকডাউন হবে, তত বেশি সেটা কার্যকর হবে। ভালো একটা লকডাউন দিলে সংক্রমণের হার কমে যেত।’ সোমবার (১১ এপ্রিল) বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রসঙ্গত, করোনা সংক্রমণ রোধে আগামী বুধবার (১৪ এপ্রিল) থেকে সাত দিনের সার্বিক কার্যাবলি ও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সোমবার (১২ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১৩ দফা নির্দেশনাসহ এ প্রজ্ঞাপন জারি করে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক মনে করেন, বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, বিশেষ করে ঢাকা এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মতো জায়গা, যেখানে সংক্রমণের হার অনেক বেশি, সেখানে যদি লকডাউন বেশি সময় দেওয়া হয়, তাতে অর্থনীতির কোনও ক্ষতি হবে না। কারণ অর্থনীতি চলে শিল্পকারখানা এবং কৃষির ওপর নির্ভর করে। কিন্তু ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে এগুলো নেই।’

‘কৃষি সিটি করপোরেশনের বাইরে, কলকারখানা সিটি করপোরেশনের বাইরে। সিটি করপোরেশনে সব হেড অফিস। হেড অফিসগুলোতে বাসা থেকে কাজ করা যায়, সেই মডার্ন সিস্টেম রয়েছে। আইটি সিস্টেম বাংলাদেশে এত ডেভলপ যে, ইজিলি কাজ করতে পারে। তাই এসব জায়গাতে লকডাউন দিলে ফল আরও ভালো আসবে। লকডাউন দিলে তাতে কোনও ক্ষতি হবে না।’—যোগ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এখন কম-বেশি সবই চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যত বেশি মানুষের চলাচল হবে, তত বেশি সংক্রমণ বাড়বে। সংক্রমণকে তো কাট-ডাউন করতে হবে, কিন্তু সেটা হয়নি।’

মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানেনি উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিদিন মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, এখন যদি মানুষ একটু বোঝে। একইসঙ্গে তিনি জানান, তিনি কয়েকটি জেলাতে কথা বলে জেনেছেন, কিছু কিছু জেলাতে সংক্রমণের হার কমছে। এটাতে তিনি একটু আশ্বস্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যদি ভালো একটা লকডাউন দেয়, তাহলে সংক্রমণের হার আরও কমে যেত।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহর, সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ এখানে। আমাদের প্রস্তাব ছিল এই দুটো জেলা কঠোরভাবে লকডাউন করে দেওয়া হোক। এখানে লকডাউন করলে প্রোডাকশন এবং কৃষির ক্ষতি হবে না। কারণ, এসব জায়গায় রাস্তার মধ্যে ধান চাষ করে না। এখানে সবাই টেকনোলজির মাধ্যমে কাজ করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা ও চট্টগ্রাম ছাড়া অন্য জেলাগুলোতে ইন্টারমুভমেন্ট কম করতে হবে, এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যাওয়া যাবে না। আর সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত জায়গায় লকডাউন হলে সংক্রমণের হার কমবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তো এগুলোর পরিসংখ্যান নিয়ে কথা বলছি। আমরা পরিসংখ্যানে দেখলাম, ঢাকা ও চট্টগ্রামে শতকরা ৯০ শতাংশ সংক্রমণ, মৃত্যুও এসব জায়গাতেই বেশি। ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ আরও কয়েকটি সিটি করপোরেশনে সংক্রমণ বেশি। এখানে লকডাউন দিলে আমরা মনে করি, ফল ভালো পাওয়া যাবে।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘শিল্প ও কৃষি অর্থনীতির মূল চাবিকাঠি। সেগুলো অন্য জেলাতে। সেখানে তো আর আমরা বন্ধ করছি না, আর সেখানে সংক্রমণও কম। কেবল ইন্টারজেলা মুভমেন্ট বন্ধ করে দিতে হবে। তবে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বহন করা যাবে, মানুষ যাতায়াতের দরকার নেই। এ রকম যদি আমরা তিন সপ্তাহ করি, তাহলে কিন্তু সংক্রমণ কমে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘ভাইরাস কিল করতে দুই সপ্তাহ সময় দরকার, কারও কারও ক্ষেত্রে আরও এক সপ্তাহ।’

‘অন্য দেশে দিচ্ছে সর্বনিম্ন এক মাস, যেমন ইংল্যাণ্ডে তিন মাস চলেছে। আমরা তো ২১ দিন বলছি। এটা তো হওয়া উচিত এক মাস। এখনে ২১ দিন দিয়েই দেখুক না কেন। বিশেষজ্ঞরাও কিন্তু একই মত দিয়েছেন। বিশ্বেও একই রকম পাওয়া যায়।’—বলেন জাহিদ মালেক।

প্রসঙ্গত, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৮৩ জন, যা কিনা দেশে মহামারিকালের সর্বোচ্চ। এ নিয়ে দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মারা গেলেন ৯ হাজার ৮২২ জন। আর গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন সাত হাজার ২০১ জন। তাদের নিয়ে সরকারি হিসাবে দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হলেন ছয় লাখ ৯১ হাজার ৯৫৭ জন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর