• বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:২৯ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টেকনাফে বাড়ছে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য

নিজস্ব প্রতিবেদন
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২০
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টেকনাফে বাড়ছে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য

কয়েক মাসের ব্যবধানে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বেড়ে গেছে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য। বেড়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ইয়াবার চালান ও বিক্রির নগদ টাকা জব্দ হওয়ার ঘটনাও।

এছাড়া টেকনাফে একের পর এক জামিনে বেরিয়ে আসছেন আত্মসমর্পণকারী শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। জামিনে ছাড়া পেয়েছেন সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদির চার ভাইসহ ২৭ জন। কোন ভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না ইয়াবা ব্যবসায়ীদের। টেকনাফ ও কক্সবাজারে প্রায়ই জব্দ হচ্ছে ইয়াবার বড় চালান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তালিকায় টেকনাফ ও কক্সবাজারে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা সংখ্যা ১ হাজার ১৫১ জন। তালিকায় শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে নাম ছিলো বদির ভাই আব্দুর শুক্কুর, শফিকুল ইসলাম, ফয়সাল রহমান, আমিনুর রহমান আমিনসহ ৭৩ ব্যবসায়ীর।

২০১৯ সালে তালিকাভূক্ত ১২৩ মাদক ব্যবসায়ী দুই দফায় আত্মসমর্পণের পর ইয়াবা পাচার বন্ধ না হয়ে বরং বেড়ে গেছে বহুগুণ। সম্প্রতি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছে বদির চার ভাইসহ ১৫ জন।

জামিনে মুক্তি পাওয়া মাদক ব্যবসায়ীরা হল-বদির ৪ ভাই- আব্দুর শুক্কুর, শফিকুল ইসলাম, ফয়সাল রহমান ও আমিনুর রহমান আমিন, বদির মামা মং মং চিং, ভাগনে সাহেদ রহমান নিপু, বদির ফুপাতো ভাইয়ের ছেলে কামরুল হাসান রাসেল।

বদির চাচাতো ভাই চৌধুরী পাড়ার মো. আলম, টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর নুরুল বশর নুরশাদ, টেকনাফের সাবরাংয়ের হোসাইন আহম্মদ

শাহপরী দ্বীপের রেজাউল করিম মেম্বার, সাবরাংয়ের শামশুল আলম মেম্বার, টেকনাফের মারুফ বিন খলিল প্রকাশ বাবু, শাহাপরী দ্বীপের শামশুল আলম শামিম এবং টেকনাফে লেদার বোরহান উদ্দিন।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরওয়ার কাবেরী জানান,’জেলখানায় থেকেও তারা ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করেছে। যে ১০২ জন কারাগারে ছিলো তাদেরকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। এভাবে আর কাউকে যেন মুক্তি দেয়া না হয়।’

বন্দুকযুদ্ধ থেকে বাঁচাতেই আত্মসমর্পণ করিয়ে ভাইসহ স্বজনদের কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে বদির বিরুদ্ধে। কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলন সদস্য সচিব এইচ. এম নজরুল ইসলাম বলেন,’নতুন-পুরাতন ইয়াবা ব্যবসায়ীদের নিয়ে, সমন্বয় করে একটা বৃহত্তর ইয়াবা সিন্ডিকেট হয়ে গেছে। এখন সকলেই ভাবছে ইয়াবা ব্যবসা করবো, পরবর্তিতে আত্মসমর্পন করে নিজেকে সেভ করবো।’

এদিকে, নতুন করে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি শুরু করেছে পুলিশ। কারাগারে বন্দি, নেপথ্যে থাকা মাদক ব্যবসায়ী ও একাধিক মাদক মামলার আসামীদের নতুন তালিকায় রাখা হবে বলে জানান ডিআইজি। চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন,’তদন্ত করে আমরা যাচাই করবো তাদের আয়ের উৎস কোথায়।’

গতবছর টেকনাফে ১০২ মাদক ব্যবসায়ী আত্মসমপর্ণের পর তালিকায় না থাকা অনেক ব্যবসায়ীর খোঁজ পায় পুলিশ। এদের মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ জন বিদেশে বসে ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে বলে জানা গেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর