বিজিবির মামলায় নারী এনজিও কর্মীর বিরুদ্ধে সমন জারি | Daily Cox News
  • মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:৩১ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বিজিবির মামলায় নারী এনজিও কর্মীর বিরুদ্ধে সমন জারি

ডেস্ক রিপোর্ট
আপডেট সময় : রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২০
বিজিবির মামলায় নারী এনজিও কর্মীর বিরুদ্ধে সমন জারি

কক্সবাজারে ব্লাস্ট নামের এনজিও’র এক নারী কর্মির বিরুদ্ধে বিজিবির দায়ের করা ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ; এর প্রেক্ষিতে ওই নারীকে গণধর্ষণের সত্যতা না পাওয়ায় আসামীর বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সাজ্জাদুল করিম জানিয়েছেন, রোববার বেলা সাড়ে ১২ টায় টেকনাফের জেষ্ঠ্য বিচারিক হাকিম (ভারপ্রাপ্ত) মো. হেলাল উদ্দিনের আদালত এ আদেশ দিয়েছেন।
আসামী ফারজানা আকতার বেসরকারি সংস্থা ব্লাস্টের টেকনাফের হ্নীলা অফিসের কর্মি।
গত ১০ নভেম্বর কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ’র আদালতে বিজিবির টেকনাফের দমদমিয়া চেকপোস্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেসিও নায়েব সুবেদার মোহাম্মদ আলী মোল্লা বাদী হয়ে ১০০ কোটি টাকার এ মানহানি মামলাটি দায়ের করেন।

ওইদিন মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত পুলিশকে ঘটনার ব্যাপারে তদন্ত করে রোববার নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন জমা দেয়ার দিনধার্য্য করে আদেশ দিয়েছিলেন।
বাদীর আইনজীবী সাজ্জাদুল করিম, ব্লাস্ট নামের এনজিও’র এক নারী কর্মিকে টেকনাফের দমদমিয়া চেকপোস্টে বিজিবির পুরুষ সদস্যদের কর্তৃক কথিত গণধর্ষণের ঘটনার ব্যাপারে পুলিশ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।
“ পুলিশের জমা দেয়া প্রতিবেদনে ব্লাস্ট নামের এনজিও’টির নারী কর্মি গণধর্ষণের শিকার হওয়ার মেডিকেল পরীক্ষায় কোন আলামত পাওয়া যায়নি। ”
তাই এনজিও’টির ওই নারী কর্মি গণধর্ষণের শিকার হওয়ার বিষয়টি সত্য নয় বলেন বাদীর আইনজীবী।
সাজ্জাদুল বলেন, “ পুলিশের জমা দেয়া প্রতিবেদনের আলোকে গণধর্ষনের সত্যতা না পাওয়ায় আদালত বিজিবির দায়ের করা মানহানি মামলার আসামীর বিরুদ্ধে সমন জারি করে আদেশ দিয়েছেন। ”
বাদীর আইনজীবী বলেন, ব্লাস্ট নামের এনজিও’র এক নারী কর্মি গত ৮ অক্টোবর বিজিবির টেকনাফের দমদমিয়া চেকপোস্টে পুরুষ সদস্যদের কর্তৃক গণধর্ষণের শিকার হওয়ার মিথ্যা অপপ্রচার চালায়, যা উদ্দ্যেশপূর্ণ। এতে বিজিবির মত একটি বাহিনীর ভাবমূর্তি মারাত্বকভাবে আঘাত হেনেছে। এ জন্য বিজিবি আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।
সাজ্জাদুল করিম বলেন, “ আসামী ফারজানা আকতার টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের ব্লাস্ট নামের এনজিওটির কর্মি হিসেবে কর্মরত। গত ৮ অক্টোবর সকালে তিনি অটোরিক্সা যোগে হ্নীলা থেকে টেকনাফ যাচ্ছিলেন। কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের বিজিবির দমদমিয়া চেকপোস্টে গাড়ীটি যথারীতি থামানো হয়। গাড়ীতে থাকা ৫ জন যাত্রীর মধ্যে চারজনকে নিয়মমাফিক তল্লাশী করা হয়। কিন্তু ওই নারী নিজেকে ব্লাস্টের কর্মি পরিচয় দিয়ে দাম্ভিকতা দেখিয়ে তল্লাশী এড়ানোর চেষ্টা করতে থাকেন। এতে বিজিবির সদস্যরা সন্দিগ্ধ হন। ”
“ পরে বিজিবির নারী সদস্যরা এসে ওই এনজিও কর্মিকে গাড়ী থেকে নামিয়ে তল্লাশী করেন। এতে এনজিও’র নারী কর্মি ফারজানা আকতার বিজিবির সদস্যদের উপর ক্ষুব্ধ হন। এ ঘটনায় তিনি ক্ষোভের বশীভূত হয়ে চেকপোস্টের পুরুষ সদস্যরা তাকে গণধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন। এমনকি তিনি ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে টেকনাফ থানায় বিজিবির সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করতে যান। কিন্তু মামলায় পুলিশ মেডিকেল সনদ দরকার জানালে ওই নারী কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। ”
পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের বরাতে বাদীর আইনজীবী জানান, এর প্রেক্ষিতে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শাহীন মো. আব্দুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাকে পরীক্ষা করে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে সনদ প্রদান করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ