• রবিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ১২:০২ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বিভিন্ন ব্যাংকে গোল্ডেন মনিরের ৯৩০ কোটি ২২ লাখ টাকা লেনদেন

ডেস্ক রিপোর্ট
আপডেট সময় : সোমবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২০
বিভিন্ন ব্যাংকে গোল্ডেন মনিরের ৯৩০ কোটি ২২ লাখ টাকা লেনদেন

১৯৯০ এর দশকে রাজধানীর গাউছিয়া মার্কেটের একটি কাপড়ের দোকানে সেলসম্যানের কাজ করতেন গত শনিবার র‍্যা’বের হাতে গ্রে’প্তার হওয়া মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনির। লাগেজ ব্যবসা, স্বর্ণ চোরাকারবার,জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভূমি দ’খলের করে এখন তিনি দুই শতাধিক প্লট ও হাজার কোটি টাকার মালিক।

গত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ২৫ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ৯৩০ কোটি ২২ লাখ টাকার লেনদেন করেছেন গোল্ডেন মনির। এর মধ্যে ৪১২ কোটি ২ লাখ টাকা জমা রয়েছে এবং ৫১৮ কোটি ২০ লাখ টাকা বিভিন্ন সময় উত্তোলন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ১১০ কোটি টাকা ঋ’ণ নিয়েছে গোল্ডেন মনির। যদিও গত অর্থ বছরে (২০১৯-২০) আয়কর রির্টানে তার সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন মাত্র ২৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এছাড়াও গত অর্থ বছরে গোল্ডেন মনিরের বাৎসরিক আয় ১ কোটি ৪ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রটি জানায়, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে গোল্ডেন মনির বাংলাদেশ জাতীয়তাবা’দী দলের (বিএনপি) শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের এবং তৎকালীন প্রভাবশালী মন্ত্রী, গণপূর্ত ও রাজউকের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তাদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। আর তাদের ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তোলেন। জাল-জালয়াতির মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ২০২টি প্লট ও জমি দ’খল করে নেয় গোল্ডেন মনির। এছাড়াও হুন্ডির মাধ্যমে দেশের বাইরেও বিপুল পরিমাণে অর্থ পা’চার করেছে গোল্ডেন মনির।

র‌্যারের তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মনির হোসেন একদিনে ‘গোল্ডেন মনির’ হয়ে ওঠেননি। সে মূলত একজন সুবিধাবা’দী রাজনীতিবিদ ছিলেন। বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা, রাজউক ও গণপূর্ত ম’ন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তাদের ব্যবহার করে প্রচুর সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। মনিরের এই উত্থানের পেছনে যারা জ’ড়িত ও সহায়তা করেছেন তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে চেষ্টা চলছে।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে’ফটেন্যা’ন্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, র‌্যাব শুধুমাত্র ফৌজদারি কার্যবিধি নিয়ে কাজ করে। গোল্ডেন মনিরের বি’রুদ্ধে যেসব অ’ভিযোগ পেয়েছি, সেগুলো র‌্যা’বের কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত নয় বিধায় আমরা স’রকারের চার সংস্থাকে ত’দন্ত করতে অনুরোধ জানিয়েছি।

তিনি বলেন, গোল্ডেন মনির দেশের বাইরে কি পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন বা কি পরিমাণ সম্পদ তার রয়েছে, সে বিষয়ে ত’দন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) অনুরোধ করবো। তিনি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অ’বৈধ পথে কসমেটিকস পণ্য ও চোরাচালানির মাধ্যমে কি পরিমাণ স্বর্ণ দেশে এনেছিলেন, সে বি’ষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অনুসন্ধান করতে অনুরোধ করবো।

এদিকে অনুমোদনহীন বিলাসবহুল গাড়ি (প্রত্যেকটি তিন কোটি টাকা মূল্যের) আমদানির বি’ষয়ে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটিকে (বিআরটিএ) অনুসন্ধানের জন্য আমরা বলবো। এছাড়া গোল্ডেন মনির জাল-জালিয়াতি করে ভূমি দ’খল করেছে সেসব বি’ষয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাজউক) অনুসন্ধানের জন্য আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবো।

উল্লেখ্য, শনিবার (২১ নভেম্বর) গোল্ডেন মনিরকে তার মেরুল বাড্ডার বাসায় অ’ভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তল, কয়েক রাউন্ড গু’লি, ৬০০ ভরি স্বর্ণ (আট কেজি), ১০টি দেশের মুদ্রা ও এক কোটি নয় লাখ টাকাসহ আ’টক করে র‌্যা’পিড অ্যা’কশন ব্যা’টালিয়ন (র‌্যা’ব)।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর