মাস্ক না পরায় পর্যটকদের গুনতে হচ্ছে জরিমানা | Daily Cox News
  • শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:২৩ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

মাস্ক না পরায় পর্যটকদের গুনতে হচ্ছে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২০
কক্সবাজারে ৩ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

রোববার দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে সৈকতের লাবণী, কলাতলী ও সুগন্ধা পয়েন্টে ৪২ জন পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের কাছে ৬ হাজার ২০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
সকাল ১০টায় সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সৈয়দ মুরাদ ইসলাম, কলাতলী পয়েন্টে ইমরান জাহিদ ও লাবণী পয়েন্টে সাদিয়া সুলতানা অভিযানে নামে। অভিযানে সুগন্ধা পয়েন্টে ৭টি, কলাতলী পয়েন্টে ১৭টি ও লাবণী পয়েন্টে ১৮টি মামলা করা হয়। এসময় জেলা পুলিশের ৩টি টিম সাথে ছিলেন।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই প্রতিদিনই ঢল নামছে হাজার হাজার পর্যটকের। হোটেল, মোটেল, বামির্জ দোকান, বালিয়াড়ি ও সৈকতের ভিড় করছেন পর্যটকরা। কিন্তু কেউ মানছেন না করোনার সতর্কতা। সৈকতে প্রবেশে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক হলেও তাও মানছেন না পর্যটকরা। মাস্ক ব্যবহার নিয়ে নানা অজুহাত পর্যটকসহ ব্যবসায়ীদের।

সিরাজুল ইসলাম নামে এক পর্যটক বলেন, মাস্ক তো ব্যবহার করছি। এখন সৈকতের পানিতে নেমে ছিলাম; তাই বউয়ের হাতে রেখে গিয়েছি।
আরেক পর্যটক সিয়াম আহমেদ বলেন, মাস্ক আছে পকেটে। শুধু ছবি তোলার জন্য মাস্কটা খুলে রেখেছিলাম। ছবি তোলার পর আবারো মাস্ক পড়ব।
সৈকতের ফটোগ্রাফার রহিম বলেন, “মাস্ক আছে; ক্যামেরার ব্যাগে। যখন পর্যটকের ছবি তুলবো তখনই মুখে মাস্ক ব্যবহার করব।”
সৈকত শহর কক্সবাজারে করোনার সংক্রমণ রোধে পর্যটকদের মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সৈকতের সবকটি পয়েন্টে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রশাসনের অভিযানের সাথে সাথে পাল্টে যায় সৈকত এলাকার চিত্র। জরিমানার ভয়ে ধুম পড়ে মাস্ক কেনার।
মাস্ক বিক্রেতা তৌহিদ বলেন, সৈকতে ম্যাজিষ্ট্রেট না আসার আগে কারো মুখে মাস্ক ব্যবহার ছিল না। তখন আমাদের কাছ থেকে কেউ মাস্ক কিনে নি। কিন্তু ম্যাজিষ্ট্রেট এসে অভিযান শুরুর করার পর মাত্র ৫মিনিটে ১০০টি মাস্ক বিক্রি করেছি ১০টাকা করে।
আরেক মাস্ক বিক্রেতা সৈয়দ আলম বলেন, এক ঘন্টার মধ্যে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে ৫ হাজারের বেশি মাস্ক বিক্রি হয়েছে। যা সম্ভব হয়েছে প্রশাসনের অভিযানের কারনে। অভিযানের ফলে পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আল আমিন পারভেজ বলেন, মাস্ক ব্যবহার না করায় সৈকতের কলাতলী পয়েন্টে ১৭টি, সুগন্ধা পয়েন্টে ৭টি ও লাবণী পয়েন্টে ১৮টি মামলা করা হয়েছে। যেখানে জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৬ হাজার ২০টাকা।
তিনি আরও বলেন, মাস্ক ব্যবহার না করায় নামমাত্র পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হয়েছে। মূল উদ্দেশ্যে হল পর্যটকদের মাঝে সচেতনতা তৈরি করা। এখন পর্যটন মৌসুম চলছে। প্রতিদিনই হাজার হাজার পর্যটকের আগমন হচ্ছে সৈকতে। তাই করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সচেতনতা তৈরি করতেই এই অভিযান। টিকা না আসা পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ