মা-মে’য়েকে রশি বেঁধে মা’রধর, নজরে এসেছে ব্যারিস্টার সুমনের | Daily Cox News
  • শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:১৮ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

মা-মে’য়েকে রশি বেঁধে মা’রধর, নজরে এসেছে ব্যারিস্টার সুমনের

ডেস্ক রিপোর্ট
আপডেট সময় : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২০
Screenshot 20200824 205401

কক্সবাজারের চকরিয়ার হারবাংয়ে গরু চু’রির অ’ভিযোগে বৃদ্ধ মা ও যুবতী মে’য়েকে কোম’রে রশি বেঁধে মা’রধরের ঘটনা নজরে এসেছে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের।

তিনি বলেছেন, ‘গরু চু’রি ওনারা করেছিলেন কি-না জানি না। কিন্তু একটা কথা বলতে চাই, দেশের যে আইন এ আইনে কোথাও নেই গরু চু’রির অ’ভিযোগ থাকলেও বা গরু চু’রি করলেও আপনি এভাবে জনসম্মুখে মহিলাকে রশি দিয়ে বেঁধে নিয়ে আসতে পারেন?’

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকালে নিজস্ব ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

এরপর তিনি হারবাংয়ে গরু চু’রির অ’ভিযোগে বৃদ্ধ মা ও যুবতী মে’য়েকে কোম’রে রশি বেঁধে মা’রধরের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসন ও পু’লিশের প্রতি আহ্বান জানান।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, অন্যথায় বিষয়টি নিয়ে হাই’কোর্টের নজরে আনা হবে।

এর আগে গত শনিবার রাতে কক্সবাজারের চকরিয়ার হারবাংয়ে গরু চু’রির অ’ভিযোগে বৃদ্ধ মা ও যুবতী মে’য়েকে কোম’রে রশি বেঁধে মা’রতে মা’রতে এলাকায় ঘুরিয়েছে স্থানীয় লোকজন। পরে সেখান থেকে তাদের হারবাং ইউনিয়ন পরিষদে এনে পু’লিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ রকম একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘আমি জানি না যে, কী’ হইছিল ওই জায়গায়, গরু চু’রি ওনারা করেছিলন কি-না। কিন্তু একটা কথা বলতে চাই, দেশের যে আইন এ আইনে কোথাও নেই গরু চু’রির অ’ভিযোগ থাকলে বা গরু চু’রি করলেও আপনি এভাবে জনসম্মুখে মহিলাকে রশি দিয়ে বেঁধে নিয়ে আসতে পারেন।’

‘আমি কক্সবাজার প্রশাসনের কাছে বলতে চাই, আপনারা তড়িৎ এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেন, নইলে আম’রা দরকার হলে প্রয়োজনে হাই’কোর্টে নিয়ে আসবো। কারণ এই যে মা-মে’য়েকে রশি দিয়ে বেঁধে নিয়ে এসেছেন চেয়ারম্যান অফিসে, এ ছবিটা যখন আমাদের চোখের সামনে আসছে মনে হচ্ছে যে সারাদেশের মা বোনদের এভাবে রশি দিয়ে টেনে নিয়ে আসছেন আপনারা।’

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, আম’রা চাই না প্রতিটা জিনিসকে হাই’কোর্টের নজরে নিয়ে আসতে। যদি আপনারা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, কক্সবাজারের প্রশাসন যদি ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাহলে আম’রা এটাকে হাই’কোর্টের নজরে আনতে চাই না। যদি হারবাং ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বি’রুদ্ধে আপনারা তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ না করেন তাহলে শেষ পর্যন্ত আম’রা এটাকে হাই’কোর্টে নিয়ে আসতে বাধ্য হবো। আমি প্রশাসন এবং এখানে যিনি ডিআইজি আছেন তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।’

এ ঘটনায় গরুর মালিক চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. মাহবুবুল হক চকরিয়া থা’নায় মা’মলা করেছেন। মা’মলায় দুই নারী এবং অ’জ্ঞাত সিনএজি চালকসহ পাঁচজনকে আ’সামি করা হয়েছে। পাঁচজনই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

এদিকে মা-মে’য়েকে কোম’রে রশি বেঁধে প্রকাশ্যে ঘোরানোর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাই’রাল হলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ভিডিওতে মা-মে’য়েকে রশি দিয়ে বেঁধে মা’রতে মা’রতে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এ সময় ভিডিওতে ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদারকেও দেখা গেছে।

পু’লিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গরু চো’রদের আ’ট’ক করে পে’টানো এবং রশি দিয়ে বেঁধে প্রকাশ্যে ঘোরানোর খবর পাওয়ার পর হারবাং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মিরানুল হক গ্রাম্য চৌকিদার পাঠিয়ে জনতার রোষানল থেকে তাদের উ’দ্ধার করে পরিষদে নিয়ে আসেন। এর পর তাদের হারবাং ফাঁড়ির পু’লিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরে গরুর মালিকের করা মা’মলায় তাদের গ্রে’ফতার দেখিয়ে আ’দালতে নেয়া হয়। এ সময় আ’দালত তাদের জে’লহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

ওই মা’মলার আ’সামিরা হলেন, কক্সবাজারের পেকুয়া উপজে’লার বারবাকিয়া ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্ম’দ ছুট্টু (২৭), চট্টগ্রামের পটিয়া উপজে’লার কুসুমপুর ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিরহাট এলাকার শহীদের কলোনীর পারভীন আক্তার (৪০), মো. এম’রান (২১), মে’য়ে সেলিনা আক্তার শেলি (২৮) ও রোজি আক্তার (২৩)। প্রথমজন ছাড়া তিন নারী ও এক পুরুষ একই পরিবারের সদস্য।

হারবাং পু’লিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) পারসিত চাকমা বলেন, হারবাং পু’লিশ ফাঁড়ি আর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন পাশাপাশি। লোকজন ওই মা-মে’য়েসহ সবাইকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসলে পু’লিশ তাদের উ’দ্ধার করে। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে একটি স্প্রে’র বোতল, বাট ছাড়া একটি ছোরা, একটি কালো স্কচটেপ, একটি মোবাইল ও গাড়ির চাবি জ’ব্দ করা হয়। এ ঘটনায় গরুর মালিক বাদী হয়ে চকরিয়া থা’নায় মা’মলা করলে পরে তাদের আ’দালতে প্রেরণ করা হয়। আ’দালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

চকরিয়া থা’নার ভা’রপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, গরু চু’রির ঘটনা যেমন অ’প’রাধ, তেমন আইনের দৃষ্টিতেও গর্হিত অ’প’রাধ নারীর প্রতি অমানবিকতা। তাই কারা নারীদের ওপর এমন গর্হিত কাজ করেছে, তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাদের বি’রুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে বিষয়টিকে হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইস’লামের ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ারম্যানের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ