• শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৫১ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी
শিরোনাম
উখিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আর্মড পুলিশের এএসআই নিহত আওয়ামীলীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবসময়ই অত্যন্ত শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ দল -কৃষিমন্ত্রী জয়পুরহাটে দুই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তির কারাদণ্ড মৌলভীবাজারে শ্রীমঙ্গলে রেলের জমি উদ্ধারে বাধা, রেলের এক্সাভেটরে দুর্বৃত্তের আগুন শেষ হলো সংসদের চতুর্দশ অধিবেশন দেশে করোনায় আরও ৫১ জনের মৃত্যু ইভ্যালির সিইও রাসেল গ্রেপ্তার প্রবাস থেকে স্বামী আসার খবরে প্রেমিকের হাত ধরে পালালো এক সন্তানের জননী কোটবাজারে চাকবৈঠার ইব্রাহিম বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ র‍্যাবের হাতে আটক রত্নাপালং ইউপি নির্বাচন : চেয়ারম্যান পদে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ইমাম হোসেন

মিয়ানমারে ফেরা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রোহিঙ্গারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : রবিবার, ২০ জুন, ২০২১
হুমকিতে রোহিঙ্গা শিবির

আজ ২০ জুন, বিশ্ব শরণার্থী দিবস। আজ যখন দিবসটি পালিত হচ্ছে, তখন কক্সবাজারে বিশ্বের সর্ববৃহৎ শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির সদস্যরা নিজ দেশে ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। নির্যাতন-নিপীড়নের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা সদস্যরা জাতিগত স্বীকৃতি ও নাগরিক অধিকার নিয়ে স্বদেশে ফিরতে চান। তবে নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার নিশ্চয়তা নিয়ে আদৌ নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারবেন কিনা তা নিয়েই তাদের যত উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এত অস্ত্র কোত্থেকে এলো?

২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর হামলা ও নির্যাতনের মুখে জীবন নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। এর আগে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা মিলিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে বর্তমানে রয়েছেন প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা সদস্য। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ শরণার্থী ক্যাম্প বাংলাদেশের কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে অবস্থিত। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ শরণার্থী ক্যাম্প নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের রাখাইনে এখনও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি বলে দাবি করে আসছে। এছাড়া জাতিসংঘের সঙ্গে মিয়ানমারের চুক্তির পরও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিয়ে শঙ্কিত রোহিঙ্গারা। তাদের প্রধান দাবি রোহিঙ্গা হিসেবে তাদের জাতিগত স্বীকৃতি, নাগরিকত্ব প্রদান, নিজ ভিটে-মাটি ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি স্বাধীনভাবে চলাচলের সুযোগ দিলে তারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে।

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং টিভি টাওয়ার এলাকার ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, প্রাণ রক্ষায় এসেছিলাম, এবার ফিরে যেতে চাই। সহযোগিতা যতই পাই না কেন, শরণার্থী জীবন ভালো লাগে না। গরমে রোহিঙ্গা বস্তিতে থাকলেও মনটা রাখাইনে পড়ে থাকে। আমরা স্বপ্ন দেখি রাখাইনে ফিরে যাওয়ার।

মিয়ানমার নিয়ে জাতিসংঘের রেজুলেশনে হতাশ বাংলাদেশ

উখিয়ার বালুখালী ২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আয়ুব আলী মাঝি জানান, ‘দীর্ঘ চার বছরের বেশি সময় ধরে আমরা বাংলাদেশে অবস্থান করছি। কিন্তু, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছে। মিয়ানমারের ছল-চাতুরির কাছে হেরে গেছে বিশ্ব সম্প্রদায়। আমরা যেকোনও মূল্যে মিয়ানমার ফেরত যেতে চাই’।

শুধু মোহাম্মদ ইদ্রিস ও আয়ুব আলী মাঝি নয়, তাদের মতো উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নুরুল হাকিম, সেগুপা বেগম, লালু ও ফয়েজ উল্লাহ মাঝিসহ রোহিঙ্গা সদস্যরা বলেছেন, বাংলাদেশ শুধু চাইলে হবে না, মিয়ানমারকেও রাজি হতে হবে, নিরাপদ প্রত্যাবাসনে। আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগ করলে কেবল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার পথ খুলতে পারে।

রোহিঙ্গা শরনার্থী কমিউনিটির সহ-সভাপতি মাস্টার আব্দুর রহিম জানান, বর্তমানে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণের পর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আরও জটিল হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে যে বিচার চলছে, তার রায় হলে এবং জাতিসংঘ জোরালো ভূমিকা পালন করলে রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরে যেতে পারবে।

উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, সঠিক উদ্যোগ না নেওয়ায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন যেমন সম্ভব হচ্ছে না, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে অবস্থান করায় রোহিঙ্গাদের কারণে আর্থসামাজিক সহ শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই আমাদের একমাত্র কাম্য। কিন্তু রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ক্রমশ জটিল হয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আসা শুরু হয়। এরপর থেকে কারণে-অকারণে দলে দলে অনুপ্রবেশ করে রোহিঙ্গারা। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর ও ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসে সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা। নতুন-পুরাতন মিলিয়ে ১১ লাখ ১৮ হাজার ৫৫৭জন রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে তাদের। তবে রোহিঙ্গারা নানাভাবে দেশে ছড়িয়ে পড়ছে এবং সহিংস হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সুষ্ঠুভাবে প্রত্যবাসনের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর