রায়হান হত্যা : এএসআই আশেক ও কনস্টেবল হারুন রিমান্ডে | Daily Cox News
  • বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

রায়হান হত্যা : এএসআই আশেক ও কনস্টেবল হারুন রিমান্ডে

ডেস্ক রিপোর্ট
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০
রায়হান হত্যা : এএসআই আশেক ও কনস্টেবল হারুন রিমান্ডে

সিলেট নগরের বন্দরবাজার ফাঁ’ড়িতে পুলিশের নি’র্যাতনে রায়হান আহমদ হ’ত্যা মা’মলায় ওই ফাঁ’ড়ির প্রত্যাহারকৃত এএসআই আশেক এলাহিকে গ্রে’ফতারের পর পাঁচদিনের রি’মান্ডে পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই)। একই সঙ্গে আলোচিত এই মা’মলার অন্যতম আ’সামি কনস্টেবল হারুনুর রশিদকে পাঁচদিনের রি’মান্ড শেষে আরও তিনদিনের রি’মান্ডে নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আ’দালতের বিচারক জিয়াদুর রহমান এ রি’মান্ড মঞ্জুর করেন।

সিলেট মহানগর পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য ভূষণ চৌধুরী জানান, বিকেল সাড়ে ৩টায় সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জিয়াদুর রহমানের আ’দালতে তাদের হাজির করে পিবিআই। মা’মলার ত’দন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মাহিদুল ইসলাম প্রত্যাহারকৃত এএসআই আশেক এলাহির সাতদিনের ও সাময়িক বরখাস্ত কনস্টেবল হারুনুর রশিদকে পাঁচদিনের রি’মান্ডে নিয়ে জি’জ্ঞাসাবাদের আবেদন জানান। আ’দালত আবেদন দুটির শুনানি শেষে আশেকের পাঁচদিন ও হারুনের তিনদিনের রি’মান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে সিলেট পুলিশ লাইন্স থেকে প্রত্যাহারকৃত এএসআই আশেক এলাহিকে গ্রে’ফতার করেন মা’মলার ত’দন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মাহিদুল ইসলাম। এছাড়াও হারুনুর রশিদকে গত ২৪ অক্টোবর পাঁচদিনের রি’মান্ডে নেয় পিবিআই। বৃহস্পতিবার পাঁচদিনের রি’মান্ড শেষে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করে স্বী’কারোক্তিমূলক জ’বানব’ন্দি দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে আরও পাঁচদিনের রি’মান্ডে নেয়ার আবেদন করেন মা’মলার ত’দন্ত কর্মকর্তা। পরে তার তিনদিনের রি’মান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক। গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) পুলিশ কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে দুই দফায় আটদিনের রি’মান্ড শেষে ঘটনার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জ’বানব’ন্দি দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় কা’রাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁ’ড়িতে নি’র্যাতন করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে রায়হানের মৃ’ত্যু হয়। রায়হান সিলেট নগরের আখালিয়ার নেহারিপাড়ার বিডিআরের হাবিলদার মৃ’ত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি নগরের রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কে’টে এক চিকিৎসকের চেম্বারে চাকরি করতেন। এ ঘটনায় গত ১২ অক্টোবর রাতে অ’জ্ঞাতনামাদের আ’সামি করে পুলিশি হেফাজতে মৃ’ত্যু আইনে নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানায় মা’মলা করেন রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি।

১৪ অক্টোবর মা’মলাটি পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশ পিবিআইতে স্থানান্তর হয়। ত’দন্তভার পাওয়ার পর পিবিআইর টিম ঘটনাস্থল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁ’ড়ি, নগরের কাস্টঘর, নি’হতের বাড়ি পরিদর্শন করে। সর্বোপরি ম’রদেহ কবর থেকে তোলার পর পুনরায় ম’য়নাত’দন্ত করা হয়।নি’হত রায়হানের ম’রদেহে ১১১টি আ’ঘাতের চিহ্ন উঠে এসেছে ম’য়নাত’দন্ত প্রতিবেদনে। এসব আ’ঘাতের ৯৭টি ফোলা আ’ঘাত ও ১৪টি ছিল গু’রুতর জ’খমের চিহ্ন। এসব আ’ঘাতগুলো লা’ঠি দ্বারাই করা হয়েছে। অসংখ্য আ’ঘাতের কারণে হাইপোভলিউমিক শক ও নিউরোজেনিক শকে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো কর্মক্ষমতা হা’রানোর কারণে রায়হানের মৃ’ত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় গত ২০ অক্টোবর দুপুরে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁ’ড়িতে নি’র্যাতনে রায়হান আহমদ হ’ত্যা মা’মলায় ওই ফাঁ’ড়ির কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে ও ২৩ অক্টোবর কনস্টেবল হারুনুর রশিদকে গ্রে’ফতারের পর পাঁচদিনের রি’মান্ডে নেয়া হয়। রোববার (২৫ অক্টোবর) কনস্টেবল টিটুকে ফের তিনদিনের রি’মান্ডে নেয় পিবিআই। ঘটনার দিন বিকেলে মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে একটি ত’দন্ত কমিটি গঠন করা হলে রায়হানকে ফাঁ’ড়িতে এনে নি’র্যাতনের প্রাথমিক প্রমাণ পায় কমিটি। ত’দন্ত কমিটির সুপারিশে বন্দরবাজার ফাঁ’ড়ির ই’নচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূইয়া, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটু চন্দ্র দাসকে সাময়িক বরখাস্ত এবং এএসআই আশেক এলাহি, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেনকে প্রত্যাহার করে তাদের পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।

এছাড়া গত ২১ অক্টোবর এ ঘটনায় প্রধান অ’ভিযুক্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে ফাঁড়ি হতে পালাতে সহায়তা করা ও তথ্য গো’পনের অ’পরাধে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির টু আইসি এসআই হাসান উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ