• শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৪০ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी
শিরোনাম
উখিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আর্মড পুলিশের এএসআই নিহত আওয়ামীলীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবসময়ই অত্যন্ত শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ দল -কৃষিমন্ত্রী জয়পুরহাটে দুই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তির কারাদণ্ড মৌলভীবাজারে শ্রীমঙ্গলে রেলের জমি উদ্ধারে বাধা, রেলের এক্সাভেটরে দুর্বৃত্তের আগুন শেষ হলো সংসদের চতুর্দশ অধিবেশন দেশে করোনায় আরও ৫১ জনের মৃত্যু ইভ্যালির সিইও রাসেল গ্রেপ্তার প্রবাস থেকে স্বামী আসার খবরে প্রেমিকের হাত ধরে পালালো এক সন্তানের জননী কোটবাজারে চাকবৈঠার ইব্রাহিম বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ র‍্যাবের হাতে আটক রত্নাপালং ইউপি নির্বাচন : চেয়ারম্যান পদে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ইমাম হোসেন

শিপ্রা-সিফাতের বিরুদ্ধে অভিযোগের ‘সত্যতা মেলেনি’

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২০
শিপ্রা-সিফাতের বিরুদ্ধে অভিযোগের ‘সত্যতা মেলেনি’

কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে নিহত অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের সঙ্গে ‘ডকুমেন্টারি’ নির্মাণে যুক্ত স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিপ্রা দেবনাথ ও সাহেদুল ইসলাম সিফাতের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা মাদকের মামলায় অভিযোগের ‘সত্যতা পায়নি’ র‌্যাব।

মামলা দুটির তদন্ত শেষে র‌্যাবের তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসপি বিমান চন্দ্র কর্মকার রোববার কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তামান্না ফারাহর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম বলেন, “অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে র‌্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। আদালত তা গ্রহণ করে ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দিয়েছেন।”
এদিকে সিনহাকে গুলি করে হত্যার মামলায় এদিন টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া ক্যাম্পের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ১৫ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দিয়েছে র‌্যাব।

সিফাত ও শিপ্রা স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের শিক্ষার্থী । ‘লেটস গো’ নামে একটি ভ্রমণ বিষয়ক ডকুমেন্টারি বানানোর জন্য সিনহার সঙ্গে প্রায় একমাস কক্সবাজারের হিমছড়িতে ছিলেন তারা।
গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ।
ওই ঘটনার পর কক্সবাজারের পুলিশ বলেছিল, সিনহা তার পরিচয় দিয়ে ‘তল্লাশিতে বাধা দেন’। পরে ‘পিস্তল বের করলে’ চেক পোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ তাকে গুলি করে।
পুলিশ সেদিন ঘটনাস্থল থেকেই সিফাতকে গ্রেপ্তার করে। পরে নীলিমা রিসোর্ট থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শিপ্রাকে।
পরে গাড়ি থেকে মাদক উদ্ধারের অভিযোগে টেকনাফ থানায় মামলা করে পুলিশ, যাতে সিফাতকে আসামি করা হয়। আর নীলিমা রিসোর্ট থেকে শিপ্রাকে গ্রেপ্তার করার সময় মাদক পাওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে রামু থানায় মামলা হয়।
পুলিশের দেওয়া ঘটনার বিবরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ২ অগাস্ট উচ্চ পর্যায়ের এই তদন্ত কমিটি গঠন করে। পুলিশের বিরুদ্ধে ‘বিচার বহির্ভূত হত্যার’ অভিযোগগুলোও নতুন করে আলোচনায় আসতে শুরু থাকে।
সিনহার বোন আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করলে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলি এবং টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ সাত পুলিশ সদস্য আদালতে অত্মসমর্পণ করেন। তাদের চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়।
এছাড়া এই ঘটনার পর কক্সবাজারের পুলিশকে নতুন করে সাজানো হয়। এসপি থেকে কনস্টেবল- প্রায় সব পুলিশ সদস্যকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তার হওয়ার দশ দিন পর গত ১০ অগাস্ট জামিনে মুক্তি পান শিপ্রা ও সিফাত। তখনই মামলা দুটির তদন্তভার র‌্যাবকে দেওয়া হয়।
পরে এক সাক্ষাৎকারে সিনহার সঙ্গে পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, ডকুমেন্টারি নির্মাণের পরিকল্পনা, নওগাঁর আলতাদীঘিতে প্রথম ভিডিও শুটিং এবং এরপর কক্সবাজারে গিয়ে সিনহার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ঘটনার বিস্তারিত বলেন শিপ্রা।
তবে সিনহা হত্যাকাণ্ড বা মামলা সম্পর্কে বেশি কিছু বলতে চাননি তিনি। তার ভাষায়, কোনো কথার কারণে এ মামলার ক্ষতি হোক, তা তিনি চান না।
সেই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি আগেও বলেছি, আমি জাস্টিস চাই। সিনহাকে কেন মারা হল, আমাদের কেন ধরা হল, আমরা কেন অনিশ্চিত একটা সময় কাটাচ্ছি, যে স্বপ্নের জন্য আমরা এত কিছু হারালাম, এত ঝড়-ঝাপটা পেরুলাম, সেই স্বপ্নটাও আসলে সাম হাউ কেউ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই স্বপ্নটুকু বাঁচাতে চাই, জাস্টিস চাই।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর