সিনহাকে গুলির কারণ খুঁজতে ওসি প্রদীপকে নিয়ে ঘটনাস্থল ঘুরে গেল র‌্যাব | Daily Cox News
  • বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:১২ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

সিনহাকে গুলির কারণ খুঁজতে ওসি প্রদীপকে নিয়ে ঘটনাস্থল ঘুরে গেল র‌্যাব

ডেস্ক রিপোর্ট
আপডেট সময় : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২০
Screenshot 20200822 013410

টেকনাফের শামলাপুর তল্লাশিচৌকি থেকে একটু এগিয়ে পেট্রলপাম্পের সামনে থামল র‍্যাবের গাড়িটি। গাড়ি থেকে হাতকড়া পরা এক ব্যক্তিকে নামাতেই উপস্থিত একজন চিৎকার করে উঠলেন, ‘ওই তো প্রদীপ’। সঙ্গে সঙ্গে অপেক্ষমাণ শত শত মানুষ সমস্বরে হইহই করে উঠলেন। সেই রবে প্রকম্পিত হলো শামলাপুরের ঘটনাস্থল।

গত ৩১ জুলাই মেরিন ড্রাইভের এই শামলাপুরেই গুলিতে নিহত হয়েছিলেন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান। র‌্যাব জানিয়েছে, সেদিন রাতে সিনহাকে গাড়িসহ দাঁড় করানোর পর মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই গুলি করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা এখনো জানতে পারেননি, তল্লাশিচৌকিতে আসলে কী ঘটেছিল।

গ্রেপ্তার হওয়া তিন আসামি টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে যা বলেছেন, তার সবকিছু মিলিয়ে দেখতে শুক্রবার তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ঘটনাস্থলে। আর সেই দৃশ্য দেখতে শত শত মানুষ ভিড় করেছিলেন সেখানে।

বিজ্ঞাপন

আসামিদের এভাবে ঘটনাস্থলে নেওয়ার ব্যাপারে র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরওয়ার সাংবাদিকের বলেন, ‘সিনহাকে কেন গুলি করা হলো, তার কারণ জানতে আমরা এসেছি। দুই মিনিটের মধ্যে কী এমন ঘটেছিল, যে কারণে সিনহাকে গুলি করতে হলো। সেই কারণ খুঁজতেই ঘটনাস্থলে আসা।’

প্রদীপসহ তিন আসামিকে শামলাপুরে আনার খবর আগেই রটে যায় এলাকায়। এরপর আশপাশের শত শত মানুষ সেখানে ভিড় করতে শুরু করেন। কেউ মসজিদের ছাদে আবার কেউ রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে পড়েন। বেলা দুইটার দিকে শামলাপুর তল্লাশিচৌকির সামনে প্রথমে আসেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম। কয়েক মিনিট পর গাড়ি থেকে নামানো হয় এসআই নন্দদুলাল রক্ষিতকে। তাঁর হাতে হাতকড়া। তাঁকে দাঁড় করানো হয় তল্লাশিচৌকির সামনে। ৩১ জুলাই রাতে তল্লাশিচৌকিতে কী হয়েছিল, তা দেখান নন্দদুলাল রক্ষিত। নন্দদুলালের বর্ণনামতো র‍্যাব সদস্যরা সড়কের ওপর সাইনবোর্ড লাগিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে আগের অবস্থা তৈরি করেন।

এরপর সেই রাতের মতো করে টেকনাফের দিক থেকে তল্লাশিচৌকির সামনে এসে থামে একটি সাদা প্রাইভেট কার। কার থেকে প্রথমে একজন নামেন। তিনি গাড়ির পেছনের দিকে চলে গেলেন। এরপর এক ব্যক্তি গাড়ির সামনে এসে অস্ত্র তাক করে ‘হ্যান্ডস আপ’ বলে চিৎকার করে ওঠেন। তখন কারের দরজা খুলে আরেক ব্যক্তি (সিনহা সাজিয়ে) হাত উঁচু করে নামেন। এরপর ওই ব্যক্তি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁর শরীরে চারটা গুলি করা হয়। গুলি খেয়ে সিনহা কোন জায়গায় পড়েছিলেন, সেই দৃশ্যও দেখান নন্দদুলাল রক্ষিত। উপস্থিত লোকজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা দূর থেকে এসব দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন।

বিজ্ঞাপন

নন্দদুলালকে গাড়িতে রেখে আরেকটি গাড়ি থেকে নামানো হয় পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে। তিনি সিনহা হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি। র‍্যাবের তদন্তকারীরা লিয়াকতকে তল্লাশিচৌকি থেকে একটু দূরে (দক্ষিণে) সেতুর কাছে নিয়ে যান। হাতকড়া পরা লিয়াকত আলীও নন্দদুলালের মতো করে সেই দিনের ঘটনার বর্ণনা দেন।

সবশেষে আরেকটি গাড়ি থেকে নামানো হয় ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে। তাঁর গাড়িটি ছিল তল্লাশিচৌকি থেকে একটু দূরে (উত্তর দিকে) নির্মাণাধীন পেট্রলপাম্পের কাছে। সেখান থেকে র‍্যাব সদস্যরা যখন ওসি প্রদীপকে নিয়ে তল্লাশিচৌকির দিকে যাচ্ছিলেন, আশপাশে উপস্থিত শত শত লোক তখন হইহই চিৎকার করে ওঠেন। চিৎকার শুনে এদিক-সেদিক তাকালেন তিনি, কিছুই বললেন না। এরপর তল্লাশিচৌকির সামনে দাঁড়িয়ে প্রদীপও সেই রাতের ঘটনার বর্ণনা দিলেন তদন্তকারীকে।

আসামিদের ঘটনাস্থলে নিয়ে আসার ব্যাপারে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরওয়ার। তিনি বলেন, ‘চেকপোস্টে গুলি করা, গাড়িতে পরিচয় জানতে চাওয়া—প্রত্যেকটা ঘটনার আমরা বিশ্লেষণ করছি। এক–দুই মিনিটের মধ্যে গুলি করার মতো পরিস্থিতি কীভাবে হলো, চেকপোস্টের প্রত্যেকটা পয়েন্ট, ব্যারিকেডের দূরত্ব, প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে দূরত্ব—সবকিছু সরেজমিনে দেখতে এখানে আসা।’

সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, ‘সিনহাকে কেন গুলি করা হলো, তার কারণ জানতেই আমরা এসেছি। সিনহা পিস্তল তাক করেছিলেন কি না, আর সেই–বা (লিয়াকত) কেন ফায়ার করলেন, সে বিষয়ে অনেক তথ্য–উপাত্ত সংগৃহীত হয়েছে। এখন সব মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ