• শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৫৩ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी
শিরোনাম
উখিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আর্মড পুলিশের এএসআই নিহত আওয়ামীলীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবসময়ই অত্যন্ত শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ দল -কৃষিমন্ত্রী জয়পুরহাটে দুই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তির কারাদণ্ড মৌলভীবাজারে শ্রীমঙ্গলে রেলের জমি উদ্ধারে বাধা, রেলের এক্সাভেটরে দুর্বৃত্তের আগুন শেষ হলো সংসদের চতুর্দশ অধিবেশন দেশে করোনায় আরও ৫১ জনের মৃত্যু ইভ্যালির সিইও রাসেল গ্রেপ্তার প্রবাস থেকে স্বামী আসার খবরে প্রেমিকের হাত ধরে পালালো এক সন্তানের জননী কোটবাজারে চাকবৈঠার ইব্রাহিম বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ র‍্যাবের হাতে আটক রত্নাপালং ইউপি নির্বাচন : চেয়ারম্যান পদে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ইমাম হোসেন

স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও মেলেনি কক্সবাজারের শতাধিক শহিদ মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি

কালাম আজাদ
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০
স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও মেলেনি কক্সবাজারের শতাধিক শহিদ মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি

স্বাধীনতার ৪৮ বছর অতিবাহিত হয়ে ৪৯ বছরে পদার্পন করছে। স্বাধীনতার অত বছরেও পাক হানাদার বাহিনীর হামলায় শহীদ হওয়া কক্সবাজারের শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা এখনো পর্যন্ত পায়নি কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। বিষয়টি লজ্জাকর হলেও এর দায় এড়াতে পারেনা রাষ্ট্র। সরকার থেকে সম্মান-স্বীকৃতি আদায়ে ব্যার্থ হলেও বছর ঘুরে মার্চ ও ডিসেম্বর আসলেই শহীদদের স্মরনে রাজনৈতিক আমলাদের নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা দিবস ও বিজয় পালন করে থাকে কক্সবাজারবাসী। তবে শহীদদের স্মরনে শহীদ জোনাব আলী,মেছের আহমদ, সিপাহী আবু হোসেন (নোয়াখালী)র কবর ছাড়া আর কোনো কবরও সংরক্ষণ করা হয়নি। তবে সরকারের উদ্যোগে চিহ্নিত করা হয়েছে কক্সবাজারের শহীদ স্মৃতিস্থম্ভ, আর বধ্যভূমি।
বঙ্গবন্ধুর ডাকে শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধে ২৬ মার্চ থেকে ৫ মে কক্সবাজার পতন পর্যন্ত কক্সবাজার নিয়ন্ত্রণে ছিলো কক্সবাজার মহকুমা সংগ্রাম কমিটি, আওয়ামী লীগ এর। পাক বাহিনী কক্সবাজার পুর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ না করার আগেই রাজাকার শান্তি কমিটি, আল শামসদের সহায়তায় কনভেনশন মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা আবদুল গফুর চৌধুরীর সত্তরের নির্বাচনী জনসভায় আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু অশালীনভাবে গালিগালাজ করার প্রতিবাদ করায় শত্রুতে পরিণত হয় টেকনাফের আওয়ামী লীগনেতা আমির হামজা। পরে ১৪ এপ্রিল রাজারকার মতু মেম্বারের দল পাকিস্তানের পক্ষ নেয়া অবাঙালি ইপিআর নিয়েকেরুনতলীস্থ তার বাসায় গিয়ে কোরআন তেলাওয়াতরত অবস্থায় তুলে নিয়ে স্থানীয় ফরেস্ট বিটের গাছে ঝুলিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এ হিসেবে তাকেই রণাঙ্গনের প্রথম শহীদ বলা যায়। কক্সবাজারের কতজন শহীদ হয়েছে এবং কত বীরাঙ্গনার শিকার হয়েছে তা পুর্ণাঙ্গভাবে পাওয়া যায়নি। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে তালিকা তৈরী করেছেন তাতে অনেক ভুল রয়েছে।
স্বাধীনতার ৪৮ বছর পার হলেও এখনো পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটে অন্তভূক্ত করা হয় নি শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদ সাবের, কক্সবাজার রণাঙ্গনের প্রথম শহীদ টেকনাফ উপজেলার কেরুনতলীর আমির হামজা, শহীদ আইনজীবী জ্ঞানেন্দ্র লাল চৌধুরী, শহীদ শিক্ষক ইলিয়াছ মাস্টার, ২৮ মার্চ চট্টগ্রামের চেরাগী পাহাড়ে শহীদ হওয়া ছাত্রলীগ নেতা উখিয়ার রত্মাপালং এলাকার দীপক বড়ুয়া, , ছাত্র ইউনিয়ন নেতা সুভাষ, ফরহাদ, কালারমারছড়া ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শরীফ, শফিকুর রহমান, মুহাম্মদ ইউনুছ, খুরুশকুলের সতীশ চন্দ্র দে মহাজন, চকরিয়ার আবুল হোসেন, ফরিদপুর জেলার নাড়িয়া থানার সুংডা আবদুল আওয়ালের পুত্র সিপাহী আবুল হোসেন (ই,পি,আর ১৬৩১৫ নং), চিত্ত বিশ্বাস, আবদুল জলিল লতিফ, হ্নীলার শামসুল আলম, উখিয়ার ভট্ট মহাজন, আমানত উল্লাহ, ইপিআর হাবিলদার রহিম বখশ ( জিলংজা), হ্নীলার ইপিআর সিপাহী লাল মোহাম্মদ, দক্ষিণ মিঠাছড়ির এস এম জাহাঙ্গীর, মেরুংলোয়ার যামিনী মোহন শর্মা, শশাংক বড়ুয়া, কালিবাড়ির স্বপন ভট্টাচার্য, চকরিয়ার পরিতোষ চন্দ্র দাশ, মনিন্দ্র কুমার দাশ, মহেশখালীর ব্যবসায়ী বিমল দাশ, মহেশখালীর গোরকঘাটা হিন্দু পাড়ার মনোহরি দে, সুমন পাল, শরৎ চন্দ্র দে, সুধীর চন্দ্র দে, যত ননী গোপল দে, হরিপদ দে, কালু দে, বাশি রাম দে, ফণিভূষণ ভট্টাচার্য্য, বড় মহেশখালীর আবু জাফর, খাইস্যার অমূল্য দে, পুটিবিলার জাফর, হ্নীলার মোহাম্মদ আলী, চকরিয়া লক্ষ্যাচরের মনিন্দ্র নাথ দে, ধুরংখালীর নির্মল দে, ভট্ট মহাজন, হলদিয়া পালং এর মনীন্দ্র লাল বড়ুয়া মনু, ভট্টা মহাজন, ব্রজেন্দ্র শীল, ফাসিয়াখালীর পিয়ারী মোহন দে, অনিল কান্তি দাশ, ভালুকিয়ার নুর আহমদ, আবুল হোসেন, দুধু মিয়া, শামসু মিয়া, চৌফলদন্ডীর মোহাম্মদ আলী, আবুল কাসেম, আবু শামা, কবির আহমদ, বড় মহেশখালীর সাধন চন্দ্র দাশ, কুতুবদিয়ার নিরানন্দ নাথ, বশির আহমদ মাস্টার, মাস্টার শাহ আলম, মুক্তারকুলের হরেন্দ্র লাল ভট্টাচার্য, চকরিয়া হারবাং এর দীনবন্ধু চৌধুরী, লক্ষ্যাচরের কিরণ চন্দ্র দাশ, পুটিবিলার অতুল চন্দ্র পাল, ভুপেন্দ্র পাল, ক্ষিরোধ পাল, প্রভারাণী পাল, ব্রজেন্দ মোহন দে, জগবন্ধু, সোন্দর রামদে, রসিক চন্দ্র পাল, মন্টুকুমার দাশ, বাসনী পাল, বড় মহেশখালীর আবদুস সাত্তার, শামসুন নাহার, গোরকঘাটার গোলাম বারী, আদিনাথ পাহাড়স্থ ঠাকুরতলার সুরেন্দ্র লাল দে, গুণধর চন্দ্র দে হোয়ানকরে যুগেন্দ্র চন্দ, পুটিবিলা কায়স্তপাড়ার মহেন্দ্র বিকাশ ভট্টাচার্য্য, কৃষ্ণ চরণ নাথ, দিগম্বর পালরামুর সোনাইছড়ির শামসুল আলম, মেরুংলোয়ার কামিন মোহন, চিরিঙ্গার মনিন্দ্র কুমার দাশ, ভালুকিয়া দুদু মিয়া, আবুল হোসেন, মহেশখালী ঠাকুরতলা রাখাইন বৌদ্ধ বিহারের ভান্তে উতেজিন্দা, আদু মং, অংটিন, মাদ্রা, উ-ঞানা। উপরোক্ত শহীদের নাম পাওয়াগেছে। তবে নাম না জানা আরো অনেক শহীদ হয়েছে কক্সবাজারে। যদিও কক্সবাজারে সশস্ত্র কোনো যুদ্ধ হয়নি। পাক বাহিনী ও তাদের দোসররা কক্সবাজারে সর্বত্রে তাণ্ডব চালিয়ে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করেছে। হত্যা করেছে অনেক নারী, পুরুষ ও শিশুকে। কিন্তু শহীদদের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হলেও অন্যদের নাম এখনো পর্যন্ত তালিকা পাওয়া যায়নি। তাদের নাম এখন কেউ জানে না।
বিগত জোট সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতি ধরে রাখার জন্য শহীদ স্মৃতিস্বম্ভ নির্মাণ করা হয় প্রতিটি জেলায়। তারই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজারেও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু এখানে অনেক শহীদের নাম বাদ দিয়েছে তথা অসম্পূর্ণ শহীদের তালিকা সন্নিবেশিত করা হয়েছে। এ তালিকায় রয়েছে আবদুল হামিদ ছাড়া অন্যান্য শহীদ সেনাবাহিনী ও ইপিআর সদস্য। এ তালিকায় রয়েছে আবুল হামিদ, মকবুল আহমদ, সিদ্দিক আহমদ, গোলাম সাত্তার, এজাহার মিয়া, আবুল কালাম, এনামুল হক, লাল মোহাম্মদ, এস এম জাহাঙ্গীর, গোলাম কাদের, আকতার হোসাইন, শামসুল আলম এর নাম। বাদ পড়েছে অনেক শহীদ। এ স্মৃতিস্তম্ভের তালিকা থেকে গেজেটভুক্ত হয়নি লাল মোহাম্মদ, এস এম জাহাঙ্গীর ও শাসুল আলম।
শহীদ পরিবার হিসেবে আমন্ত্রণও জানানো হয় না কোনো অনুষ্ঠানে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু সরকারের সময় শহীদদের নাম মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তখন তারা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণও পেতেন। কিন্তু ৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর থেমে যায় সেই প্রক্রিয়া। এর পর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য শহীদ পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সরকারের সময়ে রাষ্টপতি প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে ঘুরেছেন। আশ্বাসও পেয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।
শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এখনো পর্যন্ত না পাওয়া প্রসঙ্গে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দপ্তর সম্পাদক সুনীল বড়ুয়া জানান, হয়ত সেদিনের শহীদদের সরকার মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গন্য করে নাই, তাই তারা আজ অবদি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায় নাই। তবে এর জন্য রাষ্ট্র নয়, ব্যর্থতা আমাদেরও আছে। কেননা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বধ্যভূমি ও গণকবর চিহ্নিত করে সরকার সেই সকল শহীদদের রাষ্ট্রীয় সম্মান দেয়। এক্ষেত্রে কক্সবাজারবাসীর উচিত শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানে সরকারের কাছে জোরালো দাবি করা ।
তাদের অপরাধ ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাহায্য-সহযোগিতা করা। উল্লেখিত মুক্তিযোদ্ধার শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সম্মাননা পাওয়া তো পরের কথা মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট তালিকায়ও তার নাম ওঠেনি। মেলেনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি। এদের মধ্যে আমির হামজা, দীপক বড়–য়া, যামিনী মোহন শর্মাসহ অনেক শহীদ মুক্তিযোদ্ধাকে শহীদ পরিবার হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর্থিক সহযোগিতা ও চিঠি দিয়ে স্বীকৃতি জানানোর পরেও শহীদ পরিবার হিসেবে তালিকায় নাম ওঠেনি। যাতে লেখা ছিল:
‘ প্রিয় ভাই/ বোন
আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে আপনার সুযোগ্য স্বামী আত্মোসর্গ করেছেন। আপনাকে আমি গভীর দু:খের সাথে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক সমবেদনা। আপনার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি রইল আমার প্রাণঢালা সহানুভূতি। এমন নি:স্বার্থ মহান দেশপ্রেমিকের স্ত্রী হওয়ার গৌরব লাভ করে সত্যিই আপনি ধন্য হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর ত্রান ও কল্যাণ তহবিল থেকে আপনার তহবিল থেকে আপনার পরিবারের সাহাযার্থে আপনার সংশ্লিষ্ট মহকুমা প্রশাসকের নিকট ২০০০/- টাকার চেক প্রেরিত হল।
আমার প্রাণভরা ভালাবাসা ও শুভেচ্ছা নিন।
শেখ মুজিব
স্বাধীনতার আর কত বছর পেরিয়ে গেলে নন গেজেটেড শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা গেজেটভুক্ত হবে সেই প্রহর গুনছেন শহীদের পরিবার। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঠিক নজরদারীর দাবি বিভিন্ন উপজেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শহীদ মু্ক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের।

( কালাম আজাদের ফেইস বুক পোস্ট থেকে)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর