স্বামীকে মাটিতে পুঁতে রেখে উপরে খাট বিছিয়ে ঘুম স্ত্রীর | Daily Cox News
  • বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:১৮ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

স্বামীকে মাটিতে পুঁতে রেখে উপরে খাট বিছিয়ে ঘুম স্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদন
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০
স্বামীকে মাটিতে পুঁতে রেখে উপরে খাট বিছিয়ে ঘুম স্ত্রীর

মনুয়া-কাণ্ডের ছায়া এ বার গাইঘাটায়। প্রেমিকের সঙ্গে যড়যন্ত্র করে স্বামীকে খু’নের অ’ভিযোগে ধরা পড়ল স্ত্রী। গ্রে’ফতার করা হয়েছে প্রেমিককেও। বছর কয়েক আগে বারাসতে যুবক খু’নে এ ভাবেই ধরা পড়েছিল প্রেমিকা মনুয়া ও তার প্রেমিক।

কী হয়েছে গাইঘাটায়?

পুলিশ জানতে পেরেছে, এখানেও খু’ন করে লুকিয়ে ফেলা হয়েছিল দেহ। আড়াই ফুট বাই দু’ফুটের ছোট্ট গর্তটায় ঢুকছিল না র’ক্তাক্ত দেহটা। ধারাল কিছু দিয়ে ঘা মে’রে হাড়-পাঁজরা, হাত-পা ভে’ঙে দেওয়া হয়। কোনও রকমে ঠেসেঠুসে গর্তে ভরে উপরে মাটি চা’পা দিয়ে দেয় আততায়ী। তার উপরে বিছিয়ে দেওয়া হয় খাট-বিছানা, কিছু মালপত্র। সেই খাটেই গোটা রাত শুয়ে ছিল নি’হত যুবকের স্ত্রী। সঙ্গে প্রেমিক।

গাইঘাটার গোয়ালবাথান এলাকার ঘটনা। পুলিশ গ্রে’ফতার করেছে নি’হত রামকৃষ্ণ স’রকারের (৪০) স্ত্রী স্বপ্না ও তার প্রেমিক সুজিত দাসকে। বুধবার ম্যা’জিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে গর্ত খুঁড়ে দেহ উ’দ্ধার করে পাঠানো হয়েছে ম’য়নাত’দন্তে। ত’দন্তকারীদের দাবি, স্বপ্না এবং সুজিত খু’নের ছক কষেছিল। মাথায় ভারী কিছু দিয়ে ঘা মে’রে খু’ন করা হয়েছে রামকৃষ্ণকে। সোমবার রাতে ওই ঘটনার পরে দেহ ঘরে টেনে এনে পুঁতে ফেলা হয়। বনগাঁর পুলিশ সুপার তরুণ হালদার বলেন, ‘‘বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই এই খু’নের ঘটনা বলে প্রাথমিক ত’দন্তে জানা গিয়েছে। ধৃতদের জেরা করা হচ্ছে।’’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রামকৃষ্ণর আদি বাড়ি কোচবিহারে। বনগাঁর কুড়িরমাঠ এলাকায় পাঁচ ও ন’বছরের দুই ছেলে এবং স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়াবাড়িতে থাকতেন তিনি। শৌচালয়ের চেম্বার সাফাইয়ের কাজ করতেন। পুলিশ জানতে পেরেছে, মাস কয়েক আগে মোবাইলে মিসড কলের মাধ্যমে স্বপ্নার সঙ্গে পরিচয় হয় সুজিতের। দ্রুত ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। সুজিতের বাড়ি গাইঘাটারই গোয়ালবাথান এলাকায়। রামকৃষ্ণদের বাড়িতে যাতায়াতও শুরু করে সুজিত। স্বপ্নাকে ধর্মবোন পাতায়। তবে ত’দন্তকারীদের অনুমান, রামকৃষ্ণর যাতে সন্তেহ না হয়, সে জন্যই বোন পাতিযেছিল ওই যুবক। কিন্তু তাতেও অবশ্য ঘটনা জানাজানি আ’টকায়নি।

এই নিয়ে অশান্তি চলছিল সংসারে। ত’দন্তকারীদের দাবি, কিছু দিন আগে রামকৃষ্ণকে খু’নের ছক কষে স্বপ্না-সুজিত। সোমবার ঠাকুর দেখার নাম করে স্বপ্না স্বামীকে নিয়ে সুজিতের বাড়িতে যায়। সঙ্গে ছিল ছোট ছেলে। সুজিত মদ খাওয়ানোর নাম করে রামকৃষ্ণকে নিয়ে বাড়ির বাইরে বেরোয়। ঝোপের ধারে বসে দু’জনে ম’দ্যপান করে। অ’ভিযোগ, নে’শাগ্রস্ত রামকৃষ্ণকে মোটা কাঠের লা’ঠি দিয়ে মাথায় ঘা মারে সুজিত। পরে বাঁশবাগানের কাছে পুকুরের পাশে দেহ টেনে নিয়ে যায়। ত’দন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, রাত তখন প্রায় সাড়ে ১০টা। স্বপ্নাকে বাড়ি থেকে ডেকে আনে সুজিত। দেহ লোপাটের জন্য টেনে আনা হয় ঘরে। খাট সরিয়ে গর্ত খুঁড়ে রামকৃষ্ণর দেহ পুঁতে দেওয়া হয়।

সুজিত পেশায় রাজমিস্ত্রির জোগাড়ে। তার আগে দু’বার বিয়ে হয়েছিল। দুই স্ত্রীই ছেড়ে চলে গিয়েছে। বাড়িতে মা ও বোনকে নিয়ে থাকে। ঘটনার সময়ে তাঁরা কোথায় ছিলেন, কিছু জানতেন কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কী ভাবে খু’নের কিনারা করল পুলিশ? রামকৃষ্ণকে যে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তা নিয়ে মঙ্গলবার কোনও রকম উচ্চবাচ্য করেনি স্বপ্না। এ দিকে, মঙ্গলবার সকালে পুকুর পাড়ে র’ক্তের দাগ দেখে এলাকার লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ খোঁজাখুঁজি করেও স’ন্দেহজনক কিছু দেখেনি।

বাসিন্দাদের দাবি মেনে পুকুরে জালও ফেলা হয়। ডুবুরি নামিয়ে তল্লা’শি চলে। তাতেও কিছু মেলেনি। বুধবার সকালে সুজিতের ঘর থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে ফের পুলিশকে ডাকা হয়। গাইঘাটা থানার ওসি বলাই ঘোষ গিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সুজিতের একটি ঘরের খাটের নীচে আলগা মাটি দেখে স’ন্দেহ হয়। তখনও অবশ্য রামকৃষ্ণর মৃ’ত্যুর কথা জানেন না কেউ। বনগাঁর এসডিপিও অশেষবিক্রম দস্তিদার, সিআই গাইঘাটা পৌঁছন। ম্যা’জিস্ট্রেট হিসেবে উপস্থিত হন গাইঘাটার বিডিও বিব্রত বিশ্বাস। মাটি খুঁড়তেই দেহ মেলে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ