হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন রিমান্ডে থাকা এসআই আকবর | Daily Cox News
  • বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:৪৯ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন রিমান্ডে থাকা এসআই আকবর

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২০
আকবরকে পেতে ভারতীয়কে ১২ লাখ টাকা দেয় পুলিশ!

সিলেট নগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে মো. রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় সাত দিনের রিমান্ডে আছেন উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়া। তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) রাতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. আওলাদ হোসেন কড়া নিরাপত্তায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসকরা চেকআপ করে তাকে সুস্থ ঘোষণা করলে পিবিআই কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রাত ১০টায় তিনি জানান, পিবিআই কর্মকর্তারা আকবর হোসনকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। সেখানে চিকিৎসা শেষে তাকে পুনরায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা ভালো রয়েছে।

গত ৯ নভেম্বর কানাইঘাটের ডোনা সীমান্ত থেকে স্থানীয় সোর্সের মাধ্যমে এসআই আকবরকে গ্রেফতার করে জেলা পুলিশ। এরপর দিন ১০ নভেম্বর তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গত ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে রায়হানের মৃত্যু হয়। রায়হান সিলেট নগরের আখালিয়ার নেহারিপাড়ার বিডিআরের হাবিলদার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি নগরের রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের চেম্বারে চাকরি করতেন।

এ ঘটনায় গত ১২ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু আইনে নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি।

১৪ অক্টোবর মামলাটি পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে পিবিআইতে স্থানান্তর হয়। তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআইয়ের টিম ঘটনাস্থল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, নগরের কাস্টঘর, নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে। সর্বোপরি মরদেহ কবর থেকে তোলার পর পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়।

নিহত রায়হানের মরদেহে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন উঠে এসেছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে। এসব আঘাতের ৯৭টি ফোলা আঘাত ও ১৪টি ছিল গুরুতর জখমের চিহ্ন। এসব আঘাত লাঠি দ্বারাই করা হয়েছে। অসংখ্য আঘাতের কারণে হাইপোভলিউমিক শক ও নিউরোজেনিক শকে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো কর্মক্ষমতা হারানোর কারণে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় গত ২০ অক্টোবর দুপুরে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় ওই ফাঁড়ির কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে ও ২৩ অক্টোবর কনস্টেবল হারুনুর রশিদকে গ্রেফতারের পর পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। ২৫ অক্টোবর কনস্টেবল টিটুকে ফের তিনদিনের রিমান্ডে নেয় পিবিআই।

ঘটনার দিন বিকেলে মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে রায়হানকে ফাঁড়িতে এনে নির্যাতনের প্রাথমিক প্রমাণ পায় কমিটি। তদন্ত কমিটির সুপারিশে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটু চন্দ্র দাসকে সাময়িক বরখাস্ত এবং এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজীব হোসেনকে প্রত্যাহার করে তাদের পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।

এছাড়া গত ২১ অক্টোবর এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে ফাঁড়ি থেকে পালাতে সহায়তা করা ও তথ্য গোপনের অপরাধে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির টু আইসি এসআই হাসান উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ