• বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:১৪ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी
শিরোনাম
উখিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আর্মড পুলিশের এএসআই নিহত আওয়ামীলীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবসময়ই অত্যন্ত শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ দল -কৃষিমন্ত্রী জয়পুরহাটে দুই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তির কারাদণ্ড মৌলভীবাজারে শ্রীমঙ্গলে রেলের জমি উদ্ধারে বাধা, রেলের এক্সাভেটরে দুর্বৃত্তের আগুন শেষ হলো সংসদের চতুর্দশ অধিবেশন দেশে করোনায় আরও ৫১ জনের মৃত্যু ইভ্যালির সিইও রাসেল গ্রেপ্তার প্রবাস থেকে স্বামী আসার খবরে প্রেমিকের হাত ধরে পালালো এক সন্তানের জননী কোটবাজারে চাকবৈঠার ইব্রাহিম বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ র‍্যাবের হাতে আটক রত্নাপালং ইউপি নির্বাচন : চেয়ারম্যান পদে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ইমাম হোসেন

হাসিনা-মোদী শীর্ষ সম্মেলনের ৩৯ দফা যৌথ ঘোষণা

ডেস্ক রিপোর্ট
আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২০
হাসিনা-মোদি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভার্চ্যুয়াল শীর্ষ সম্মেলন শেষে ৩৯ দফা যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের পক্ষ থেকে এই যৌথ ঘোষণা প্রকাশ করা হয়।

৩৯ ঘোষণা হলো:
১. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১৭ ডিসেম্বর একটি ভার্চ্যুয়াল শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেন। উভয়পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

২. উভয় প্রধানমন্ত্রীই ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা ও অন্যান্য অভিন্নতার বন্ধনের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সম্পর্ক ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে গড়া এবং সার্বভৌমত্ব, সাম্য, আস্থা ও সমঝোতার একটি সর্বাত্মক অংশীদারিত্বের প্রতিফলন, যা কৌশলগত অংশীদারিত্বকে ছাড়িয়ে যায়।

তারা একাত্তরের মহান আত্মত্যাগের জন্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তারা দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গণতন্ত্র ও সাম্যের লালিত মূল্যবোধকে সমুন্নত এবং সুরক্ষিত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

৩. দুই নেতা ২০১৯ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরকালে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের অগ্রগতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। উভয়পক্ষই ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত যৌথ পরামর্শক কমিশনের ষষ্ঠ বৈঠকের সফল আয়োজনের কথা স্মরণ করেন।

৪. উভয়পক্ষই নিজ নিজ দেশে চলমান কোভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেছেন এবং চলমান সংকটেও দু’দেশের মধ্যে যেভাবে টেকসই সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে তাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথমে’ নীতিমালার আওতায় বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আশ্বাস দেন যে, ভ্যাকসিন ভারতে তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের কাছে সরবরাহ করা হবে। উভয় নেতা এক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের মধ্যে চলমান দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন।

৫. ভারত ভ্যাকসিন উৎপাদনে চিকিৎসা ও অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার প্রস্তাব করেছে। চিকিৎসা পেশাজীবীদের জন্য বাংলা ভাষায় আয়োজিত ভারতের সক্ষমতা বাড়ানো কোর্সের প্রশংসা করেছে বাংলাদেশ।

৬. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলমান ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজনে ভারতের আন্তরিকতার গভীর প্রশংসা করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে ভারত সরকার প্রদত্ত একটি স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে গান্ধীজির দেড়শতম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মহাত্মা গান্ধীর সম্মানে ডাকটিকিট উন্মোচন করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

৭. এ উপলক্ষে বিংশ শতাব্দীর দুই মহান নেতা, মহাত্মা গান্ধী এবং বঙ্গবন্ধুর স্মরণে তৈরি করা ডিজিটাল প্রদর্শনীর একটি প্রাথমিক ভিডিও প্রদর্শিত হয়। উভয় নেতা আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন শহর, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং জাতিসংঘে প্রদর্শিতব্য এই প্রদর্শনীটি বিশেষত তরুণদের মধ্যে ন্যায়বিচার, সমতা ও অহিংসার মূল্যবোধ জাগ্রত করবে।

৮. উভয়পক্ষই উল্লেখ করেন যে, ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক শ্যাম বেনেগালের পরিচালনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিকের শুটিং ২০২১ সালের জানুয়ারিতে শুরু হবে।

৯. ২০২১ সাল ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য ঐতিহাসিক হয়ে উঠবে কারণ, দুই দেশ মুক্তিযুদ্ধের পঞ্চাশতম বার্ষিকী এবং ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ককে স্মরণ করবে, এই ভাবনায় তারা এই দুই যুগান্তকারী অনুষ্ঠান স্মরণে যৌথভাবে ভারত, বাংলাদেশ ও তৃতীয় দেশগুলোতে বেশ কয়েকটি কার্যক্রমের আয়োজন করার বিষয়ে সম্মত হয়।

১০. বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের মুজিবনগর থেকে নদিয়া পর্যন্ত সড়কটির মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ঐতিহাসিক তাৎপর্য স্মরণ করে সড়কটিকে ‘স্বাধীনতা সড়ক’ হিসেবে নামকরণে বাংলাদেশের প্রস্তাব বিবেচনা করার জন্য ভারতীয় পক্ষকে অনুরোধ করেন।

১১. উভয়পক্ষ সংস্কৃতি, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, যুব ও ক্রীড়া এবং গণমাধ্যম প্রচারের জন্য দুই দেশের গ্রুপগুলোর মধ্যে নিয়মিত বিনিময় অব্যাহত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

১২. চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে ইছামতি, কালিন্দী, রায়মঙ্গল ও হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর তীরে মেইন পিলার এক থেকে স্থল সীমান্তের শেষ সীমা পর্যন্ত নতুন স্ট্রিপ মানচিত্রের সেট প্রস্তুত করতে এবং স্থল সীমানা চূড়ান্তকরণে উভয়পক্ষই যৌথ সীমান্ত সম্মেলনের প্রথম বৈঠক করতে সম্মত হয়েছে। কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী আন্তর্জাতিক সীমানাটিকে একটি নির্দিষ্ট সীমানায় রূপান্তর করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।

১৩. বাংলাদেশ তার রাজশাহী জেলার নিকটবর্তী পদ্মানদীর তীরে নদীপথে ১.৩ কিলোমিটার ইনোসেন্ট প্যাসেজের অনুরোধটি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভারতীয় পক্ষ অনুরোধটি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে।

১৪. উভয় নেতা ত্রিপুরা (ভারত)-বাংলাদেশ সেক্টরের শুরু থেকে দুই দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন সমাপ্তকরণে সম্মত হন। উভয় নেতা এ ব্যাপারেও একমত হয়েছেন যে সীমান্তে নাগরিকের প্রাণহানির বিষয়টি উদ্বেগের এবং এ ধরনের ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করার জন্য সমন্বিত ব্যবস্থা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সীমান্ত বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছেন। নেতারা চলমান সমন্বিত সীমান্ত পরিচালনা পরিকল্পনার সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের উপর জোর দিয়েছেন। উভয় পক্ষই অস্ত্র, মাদক ও জাল মুদ্রা চোরাচালান এবং মহিলা ও শিশু পাচার রোধে দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলির ব্যাপারে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।

১৫. বাংলাদেশ ও ভারত ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির সম্মুখহীন হয় উল্লেখ করে দুই নেতা উভয়পক্ষের কর্মকর্তাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা চুক্তিটি সম্পাদনে


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর