বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারে ১৫৭ দখলদারের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট বুধবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২০
কক্সবাজারে ১৫৭ দখলদারের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে দুদক

কক্সবাজারের প্রধান নদী বাঁকখালী দখল ও দূষনের প্রবনতা থামছেই না। একদিকে নদী ভরাট করে চলছে দখলের প্রতিযোগীতা, অপরদিকে প্রতিদিন শহরের লক্ষাধিক মানুষের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নদীতে। উজাড় হচ্ছে প্যারাবন। নদীর তীরে গড়ে উঠছে নতুন নতুন অবৈধ স্থাপনা। এতে সংকুচিত হয়ে পড়েছে নদীর গতিপথ। বর্তমানে চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে নদীটি।

সম্প্রতি বাঁকখালী নদীর ৫০০ একর জমি অবৈধভাবে দখল করা ১৫৭ জন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কিছু দখলদারকে ইতোমধ্যে নোটিশও দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর উপ-সহকারি পরিচালক শরিফ উদ্দিন। তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে বাঁকখালী নদীর সকল দখলদারের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বাকঁখালী দখলদারদের তালিকা তৈরী করে তাদের উচ্ছেদ এবং দূষণের উৎস চিহ্নিত করে তা বন্ধের নির্দেশ দেন। একই সাথে আদালত নদীর তীর চিংড়ি, তামাক বা ভিন্ন কোন উদ্দেশ্যে ইজারা প্রদান থেকে বিরত থাকতে ভুমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকসহ ১০ সরকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়।
কিন্তু গুরুত্বপুর্ণ এ নদী রক্ষায় আদালতের নির্দেশনার ৬ বছর পার হয়ে গেলেও জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা কক্সবাজার পৌরসভা কার্যকর কোন পদক্ষেপই নেয়নি। নির্ধারণ হয়নি নদীর সীমানা। উল্টো প্রতিদিন শহরের যত ময়লা-আবর্জনা সবই ফেলা হচ্ছে বাঁকখালী নদীতে। সমানতালে চলছে নদী ভরাট ও দখলের প্রতিযোগীতা। দখলবাজ চক্র নদী তীরে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার পাশাপাশি অস্তিত্বহীন বাঁকখালী নদীর জমি দেখিয়ে কোটি-কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ নেওয়ার নজিরও রয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন থেকে নদী দখলদারদের যে তালিকা করা হয়েছে তাতে প্রভাবশালী অনেকের নাম বাদ পড়েছে। ওই তালিকার বাইরে থাকা দখলদারদের বিরুদ্ধেও দুদক তদন্ত করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শহরের উত্তর নুনিয়াছড়া থেকে মাঝেরঘাট পর্যন্ত নদীর প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় ভরাট ও দখল তৎপরতা বেশি। কস্তুরাঘাটস্থ বিআইডব্লিউআইটি টার্মিনাল সংলগ্ন নদীর ভরাট জমিতে গড়ে উঠেছে নানা স্থাপনা। তৈরি হয়েছে চিংড়িঘের, লবণ উৎপাদনের মাঠ, প্লট বিক্রির হাউজিং কোম্পানি, নৌযান মেরামতের ডকইয়ার্ড, ময়দা ও বরফ কল, শুটকিমহালসহ অসংখ্য ঘরবাড়ি।
ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটি (ইয়েস) কক্সবাজারের নির্বাহী ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, ‘শহরের চারটি পয়েন্টে ময়লা-আবর্জনা ফেলে নদীর তলদেশ ভরাট করছে খোদ পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। ভরাট নদীতে ময়লা আবর্জনা ও পলিথিন ছড়িয়ে কেওড়া ও বাইন গাছের প্যারাবন মরে যাচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। আদালতের নির্দেশের পর প্রশাসন কতিপয় দখলদারের একটি তালিকা তৈরি করে নোটিশ জারি করেছিল। এরপর কয়েক দফা লোক দেখানো উচ্ছেদ অভিযান চালায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ হয়নি। উচ্ছেদ হয়নি অবৈধ দখলদারও। প্রায় ৮০ কিলোমিটারের এই নদীর বাংলাবাজার থেকে নুনিয়াছড়া পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার অংশে দখলের ঘটনা বাড়ছে। এসব এলাকায় দখলদারের সংখ্যা অন্তত এক হাজার। এই বিপুলসংখ্যক দখলদারকে উচ্ছেদে যৌথ অভিযান দরকার।’
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: আল-আমিন-পারভেজ বলেন, ‘উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে বাঁকখালী নদীর অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। খুব শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।


এ জাতীয় সংবাদ