বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, ০৭:১৮ অপরাহ্ন

নামের মিল থাকায় ৬ মাস জেল: ডিবির তদন্তে বেরিয়েছে রহস্য, প্রকৃত আসামী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২০
নামের মিল থাকায় ৬ মাস জেল: ডিবি'র তদন্তে বেরিয়েছে রহস্য, প্রকৃত আসামী গ্রেপ্তার

নামের মিল থাকায় গত ৬ মাস ধরে কারাভোগ করছেন নাইক্ষ্যংছড়ির জারুলিছড়ির নুরুল আমিন নুরু (২৬) নামে এক নিরপরাধ যুবক। ইয়াবা উদ্ধারের একটি মামলায় তাকে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু ৬ মাস পর কক্সবাজার ডিবি পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে আসল রহস্য। ডিবির জালে আটকা পড়েছে প্রকৃত অপরাধী।

৯ ডিসেম্বর নাইক্ষ্যংছড়ির জারুলিয়াছড়ি এলাকা থেকে প্রকৃত আসামী নুরুল আমিন ওরফে ইমাম হোসেনকে আটক করে ডিবি পুলিশ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কক্সবাজার ডিবি পুলিশের ইনচার্জ শেখ মোহাম্মদ আলী। তার পিতার নাম আশরু মিয়া। তিনি রোহিঙ্গা নাগরিক। শশুর মনিরুজ্জামানকে পিতা দেখিয়ে ভূয়া আইডি কার্ড তৈরী করে সে।
আর নিরপরাধ নুরুল আমিন ওরফে নুরু হলেন একই এলাকার নুর ছালামের ছেলে।
জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল রামুর চা-বাগানের নাইক্ষ্যংছড়িগামী রাস্তার মাথায় মোহাম্মদ রশিদ প্রকাশ খোরশেদ নামে এক মাদক কারবারীকে আটক করে ডিবি পুলিশ। এসময় ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষনিক স্বীকারোক্তিতে খোরশেদ তার সিন্ডিকেটের নুরুল আমিন ওরফে ইমাম হোসেন, মো. বেলাল, বশির আহমদ, মাহমুদুর রহমানের নাম জানায় ডিবি পুলিশকে।
একই সাথে সে জানায়, রাস্তার মাথা থেকে আরও আধা কিলোমিটার ভেতরে তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে অবস্থান করছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযানে গেলে ডিবির সাথে ইয়াবা কারবারিদের গোলাগুলি হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান খোরশেদ।

এই ঘটনায় ডিবি পুলিশ দাবী হয়ে রামু থানায় নুরুল আমিন ওরফে ইমাম হোসেনের, মো. বেলাল, বশির আহমদ, মাহমুদুর রহমানকে আসামী করে মামলা দায়ের করে। নুরুল আমিনের পিতার নাম উল্লেখ ছিল না। সেকারণে প্রকৃত অপরাধী নুরুল আমিন ওরফে ইমাম হোসেনের স্থলে নুরুল আমিন নুরুকে গত ২১ জুলাই আটক করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিরপরাধ নুরুল আমিন ওরফে নুরুর পরিবার যোগাযোগ করলেও কেউ আমলে নেয়নি। পরে বর্তমান ডিবির ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বিষয়টি জানার পর নাইক্ষ্যংছড়িতে অনুসন্ধান শুরু করেন।
এক পর্যায়ে ডিবির ওসি নিশ্চিত হন যে প্রকৃত অপরাধী নুরুল আমিন ওরফে ইমাম হোসেনের পরিবর্তে কারাভোগ করছে নিরপরাধ নুরুল আমিন নুরু। পরে ডিবির ওসির শেখ মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে প্রকৃত অপরাধীকে আটক করা হয়।
১০ ডিসেম্বর আদালতে প্রকৃত আসামী নুরুল আমিন ওরফে ইমাম হোসেনকে সোপর্দ করা হয় এবং নিরপরাধ নুরুল আমিন নুরুকে জামিন দিতে আবেদন করে ডিবি।
ডিবির ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, নুরুল আমিন ওরফে ইমাম হোসেন এক চিহ্নিত ইয়াবা কারবারী। সে রোহিঙ্গা নাগরিক। দীর্ঘ তদন্তের মাধ্যমে রহস্য উদঘাটন করা হয়।


এ জাতীয় সংবাদ