রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন

উখিয়া-টেকনাফে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা কৌশলে ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন স্থানে

সাইফুদ্দীন আল মোবারক
আপডেট শনিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২০
রোহিঙ্গা শিশুরা ঝুঁকি নিয়ে পরাপার হচ্ছে কাটা তারের ভিতর দিয়ে

 উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গা নাগরিকদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায় কতিপয় সুবিধাভোগী দালালদের পরোক্ষ সহায়তায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি বিদেশ পর্যন্ত গমন করছে এসব রোহিঙ্গারা। এই ব্যাপারে দ্রæত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবী উঠেছে।

সরেজমিন ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে জানা যায়,পুরাতন রোহিঙ্গা এবং ২০১৭সালে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা উখিয়ার ২৪টি এবং টেকনাফের ৮টি শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়। সরকারী ও বেসরকারী সংস্থা সমুহ তাদের খাদ্য, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসহ যাবতীয় ভরণ-পোষন করে আসছে। আইন-শৃংখলা বাহিনী অক্লান্ত পরিশ্রাম করে সার্বিক নিরাপত্তা দিয়ে আসছে। তাদের বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ড দমনের জন্য কয়েকটি ক্যাম্পে কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তারা এসব আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করেই কাঁটা তারের বেড়া ডিঙ্গিয়ে যত্রতত্র গমন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে বসতি গড়ছে। যা আগামীতে দেশের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে বলে আশংকা বিরাজ করছে।

এছাড়া এসব রোহিঙ্গাদের একাংশ চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক কারবার, অপহরণ ও মুক্তিপণসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত থেকে ক্যাম্প সমুহকে অস্থির করে তুলছে। অবশিষ্ট রোহিঙ্গাদের কিছু অংশ দূর সম্পর্কের আতœীয়, ধর্মীয় জ্ঞাতি ভাইয়ের দোহাই দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে। আরেকটি অংশ স্থানীয় দালাল প্রকৃতির লোকজনের সহায়তায় জন্ম নিবন্ধন এবং জাতীয়তার সনদ নকল করে মোটাংকের বিনিময়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে গমন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারাই বিদেশে বসে বিভিন্ন সংস্থার নিকট থেকে চাঁদা সংগ্রহ করে উগ্রপন্থী সংগঠনের তহবিল যোগান দিচ্ছে বলেও জনশ্রæতি রয়েছে। যাদের হাতে স্থানীয় কয়েকজন নিহতের পর আইন-শৃংখলা বাহিনীকেও উদ্বিগ্ন থাকতে হয়। তাই এসব রোহিঙ্গা নাগরিকদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের দাবী উঠেছে স্থানীয়ভাবে।

এই ব্যাপারে কক্সবাজার ১৬এপিবিএন পুলিশের অধিনায়ক এসপি হেমায়তুল ইসলাম জানান,এসব ক্যাম্পের যত্রতত্র প্রবেশ ও বহিরাগমন বন্ধে দুই স্তর বিশিষ্ট কাঁটা তারের বেড়া তৈরী করা দরকার। এছাড়া ক্যাম্পের মাঝি-ভলান্টিয়ারদের সহযোগিতার পাশাপাশি আইন-শৃংখলা বাহিনীর টহল জোরদার করতে হবে। তাছাড়া পর্যবেক্ষণ টাওয়ার স্থাপিত হলে রোহিঙ্গাদের বেপরোয়া চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন,জাতীয়তা সনদ সংগ্রহ, জমি-জমা ক্রয়তে সহায়তা এবং বিদেশ গমনে সহায়তায় লিপ্তদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ পেলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আইন-শৃংখলা বাহিনীর বিশ^স্থ সুত্র নিশ্চিত করেন। #


এ জাতীয় সংবাদ