রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন

টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক মাদক কারবারী ও সন্ত্রাসী চক্র ফের সক্রিয়

ডেস্ক রিপোর্ট
আপডেট মঙ্গলবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২০
হুমকিতে রোহিঙ্গা শিবির

 টেকনাফে অবস্থিত ৮টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার, অপহরণ ও মুক্তিপণ বাণিজ্য এবং স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে ক্রমশ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে। তাদের বেপরোয়া কর্মকান্ড দমন করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য ক্যাম্প সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন মহলের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পর্যবেক্ষণে জানা যায়, টেকনাফে চাকমারকূল, ঊনছিপ্রাং, শামলাপুর, আলীখালী, লেদা, মোচনী, নয়াপাড়া শালবাগান, জাদিমোরা-দমদমিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প সমুহে প্রায় দুই লক্ষ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুদের বসবাস। এসব ক্যাম্প সমুহে মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ, ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে গ্রুপ কেন্দ্রিক মারামারী, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ে লিপ্ত স্বশস্ত্র একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে রয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্র। অস্ত্রের মাধ্যমে তারা ক্যাম্পের ভেতরে ও লোকালয়ে ডাকাতি, অপহরণ, খুন, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধ সংগঠিত করছে। চলতি বছরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে অনেক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেও তাদের অপরাধ কর্মকান্ড থেমে নেই।

টেকনাফের ২৬নং ক্যাম্পের শালবাগান পাহাড়ে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মধ্যে অনেকে পেশাদার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছে। তাদের নেতৃত্বে ক্যাম্পে গড়ে উঠেছে একাধিক স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রæপ। তারা অস্ত্রের মুখে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ঘটায়। বিশেষ করে ক্যাম্পে উঠতি বয়সের তরুণরা সন্ত্রাসী সংগঠনে যুক্ত হচ্ছে। তাদের হাতে অত্যাধুনিক পিস্তল রয়েছে। যা ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ছবিতে প্রমাণিত হয়েছে। এখন সন্ত্রাসী গ্রæপের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে কুখ্যাত ডাকাত আব্দুল হাকিম ও জকির গ্রæপ রয়েছে। সন্ত্রাসী গ্রæপের অপরাধ কর্মকান্ডের কারণে ক্যাম্পের বসবাসকারী সাধারণ রোহিঙ্গা, স্থানীয় বাসিন্দা, ক্যাম্পে কর্মরত এনজিও সংস্থার কর্মীসহ কেউ নিরাপদ নয়। এক সময় রাতের আঁধারে সন্ত্রাসের নেতৃত্ব দেওয়া রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রæপের সদস্যরা এখন দিন দুপুরে প্রকাশ্যে ক্যাম্পে অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। কথায় কথায় গ্রামবাসীকে হত্যার হুমকি দেয়। উল্লেখ্য গত বছর রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী জকির গ্রæপের গুলিতে নিহত হয়েছেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা উমর ফারুক। তখন হতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়াসী অভিযানে অনেক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী বন্দুযুদ্ধে নিহত হয়েছে। বিশেষ করে টেকনাফের শালবাগান কুখ্যাত সন্ত্রাসী জকির গ্রুপের দ্বারা ডাকাতি, অপহরণ ও খুনের অহরহ ঘটনা ঘটেছে। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের ঝনঝনানিতে স্থানীয়রা আতংকে রয়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হলে ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের অপরাধ দমনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আরো কঠোর হওয়া দরকার বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন মহল।

এই ব্যাপারে নয়াপাড়া এপিবিএন পুলিশের পরিদর্শক ফয়েজুল আজিম জানান,ক্যাম্পে আইন-শৃংখলা রক্ষার দায়িত্ব পাওয়ার পর এপিবিএন চিহ্নিত অনেক সন্ত্রাসীকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার অভিযান চলমান রয়েছে।


এ জাতীয় সংবাদ