শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন

পুলিশের এএসআই ডাকাত দলের সরদার!

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২০
পুলিশের এএসআই ডাকাত দলের সরদার!

তিনি চাকরি করেন পুলিশ বিভাগে, কিন্তু তার মূল পেশা ডাকাতি। তার রয়েছে সংঘবদ্ধ একটি স’শস্ত্র ডাকাতদল। নারায়ণগঞ্জ জে’লার আড়াইহাজার থানায় পোস্টিং হলেও তিনি গো’য়েন্দা পুলিশ (ডি’বি) পরিচয় দিয়েই করতেন ডা’কাতি। ব্যবহার করতেন স’রকারি পি’স্তল, হ্যা’ন্ডকাফ। কখনও টাকার জন্য জি’ম্মি করে করতেন অ’কথ্য নি’র্যাতন।

সম্প্রতি ডা’কাতির মাধ্যমে সাড়ে ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অ’ভিযোগে এবার পুলিশের জা’লেই ধরা পরেছেন তিনি। ভ’য়ঙ্কর এই পুলিশ ক’র্মকর্তার নাম মাসুম শেখ। তিনি আড়াইহাজার থানায় এএসআই পদে কাজ করছেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে।

মাসুম শেখের গ্রে’ফতারের বি’ষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গো’য়েন্দা পুলিশ(ডি’বি)’র লালবাগ বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) ফজলুর রহমান। তবে এএসআই মাসুম শেখের গ্রে’ফতারের বি’ষয়ে মুখ খুলেনি আড়াইহাজার থানা পুলিশ।

আড়াইহাজার থানার পরিদর্শক (ত’দন্ত) শওকত হোসেন জানিয়েছেন, এএ’সআই মাসুম শেখ সপ্তাহ খানেক ধরে ছুটিতে রয়েছেন।

ডা’কাতি মা’মলার নথিপত্রের তথ্য বলছে, আবদুল আওয়াল নামের এক ব্য’ক্তি রামপুরার একটি মা’দ্রাসায় শি’ক্ষকতা করেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর তিনি রামপুরার টিভি সেন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন কথিত বাবু নামের এক ব্য’ক্তি মা’দ্রাসাশিক্ষক আওয়ালের কাছে এসে বলেন, পেশায় তিনি রিকশাচালক। তিনি লেখাপড়া জানেন না। ১০০ সৌদি রিয়াল ভাঙানোর জন্য তিনি সাহায্য চান।

কথোপকথনের একপর্যায়ে আওয়াল ওই ব্যক্তির কাছে জানতে চান, রিয়াল (মুদ্রা) কোথায় পেয়েছেন? জবাবে বাবু জানান, তার পরিচিত একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ওই রিয়াল রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়েছেন। কথিত রিকশাচালক বাবুর কথায় বিশ্বাস করে রিয়াল ভা’ঙিয়ে দেন আওয়াল। পরে কথিত প’রিচ্ছন্নতাকর্মী হায়দারকে আওয়ালের কাছে হাজির করেন বাবু। পরে কথিত পরিচ্ছন্নতাকর্মী হায়দার আরও ১ হাজার ৮৬০ রিয়াল ভাঙানোর জন্য মাদ্রাসাশিক্ষক আওয়ালকে অনুরোধ করেন।

এরপর আওয়ালকে রামপুরার লেহাজ হোটেলের সামনে আসতে বলেন বাবু ও হায়দার। প্র’লোভনে পড়া মাদ্রাসাশিক্ষক আওয়াল রিয়ালগুলো নেয়ার জন্য নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে পাঁচ লাখ টাকা তুলে আসেন লোহাজ হোটেলের সামনে। আওয়াল পাঁচ লাখ টাকা বাবু ও হায়দারকে বুঝিয়ে দেন। তখন বাবু ও হায়দার আওয়ালের হাতে প্যাকেটভর্তি কথিত রিয়াল তুলে দেন। তখনই সেখানে একটি প্রাইভেট কার এসে থামে। প্রাইভেট কার থেকে নেমে তিনজন ব্যক্তি আওয়ালের কাছে আসেন এবং নিজেদের ডি’বি পুলিশের পরিচয় দেন।

আওয়ালকে জো’র করে প্রাইভেট কারে তুলে হ্যান্ডকাফ পরান কথিত ডি’বি পুলিশের সদস্যরা। রিয়ালগুলো কার কাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন, কাগজপত্র কোথায় ইত্যাদি নানা কথা জানতে চায় ডি’বি পরিচয় দেয়া তিন ব্যক্তি। আওয়ালকে মা’মলা দিয়ে জে’লে পাঠানোর কথা জানান তারা।

আওয়ালকে অ’বৈধ ব্যবসায়ী হিসেবে গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরার হু’মকি দেয়া হয়। তবে ১০ লাখ টাকা দিলে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে বলেও জানানো হয়। তার ব্যাংক হিসাবে যত টাকা আছে, তা দেবেন বলে জানান আওয়াল। আওয়ালের ব্যাংক হিসাব থেকে আরও সাড়ে তিন লাখ টাকা তুলে নেয় কথিত ডি’বি পুলিশের দল।

পুলিশের ত’দন্তে উঠে আসে, মাদ্রাসাশিক্ষক আওয়ালের কাছে প্রথমে যিনি রিকশাচালকের পরিচয় দিয়ে রিয়াল ভাঙানোর ফাঁদ পেতেছিলেন, আসলে তিনি সংঘবদ্ধ অ’পরাধী চ’ক্রের সদস্য। তার প্রকৃত নাম আনিছুর রহমান। আর হায়দার পরিচয় দেয়া কথিত পরিচ্ছন্নতাকর্মী হলেন প্র’তারক চ’ক্রের আরেক সদস্য শওকত। ডি’বি পুলিশের পরিচয় দিয়ে আওয়ালের কাছ থেকে যারা টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন, তারা ডি’বি সদস্য নন। এর মধ্যে একজন ছিলেন সেই এএসআই মাসুম শেখ।

এ ব্যাপারে মা’মলাটির ত’দন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গো’য়েন্দা পুলিশের (ডি’বি) লালবাগ বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) ফজলুর রহমান মঙ্গলবার বলেন, গত ১৪ ডিসেম্বর মাসুম শেখসহ তার সহযোগীকে গ্রে’ফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জি’জ্ঞাসাবাদে তারা ডাকাতির কথা স্বীকার করেছেন।

ফজলুর রহমান জানান, এএসআই মাসুম শেখ দীর্ঘদিন ধরে ডি’বি পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি, ছি’নতাইসহ নানা অ’পরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছিলেন। তাদের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ একটি অ’পরাধীচ’ক্র ঢাকায় ডি’বি পুলিশ পরিচয় দিয়ে অ’পরাধ করে আসছিল। অ’পরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জ’ড়িত থাকার প্রমাণপত্র হাতে পাওয়ার পর শহীদ ও মাসুমকে গ্রে’ফতার করা হয়েছে। জ’ব্দ করা হয়েছে ডাকাতির কাজে ব্যবহার করা পি’স্তল, হ্যান্ডকাফ ও একটি প্রাইভেট কার। ডি’বি পুলিশের পরিচয়ে এই অ’পরাধী চ’ক্রের সদস্যরা এমনভাবে ডাকাতি করত যে ভু’ক্তভোগীদের বোঝার উপায় থাকত না, তারা আসলে ভুয়া ডি’বি। কারণ, পি’স্তল, হ্যান্ডকাফ সবই পুলিশের।

আড়াইহাজার থানা পুলিশ একটি সূত্র জানিয়েছে, উপজে’লার উচিৎপুরা ইউপিতে বিট নং-১০ এর দায়িত্ব পালন করতেন এএসআই মাসুম শেখ। যুগান্তর


এ জাতীয় সংবাদ