শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন

২০২১: কূটনীতির চ্যালেঞ্জ

শেখ শাহরিয়ার জামান
আপডেট শুক্রবার, ১ জানুয়ারী, ২০২১
২০২১: কূটনীতির চ্যালেঞ্জ

২০২০, পুরো বছরটাই ছিল করোনা মহামারির কবলে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে শুরু হওয়া এই অতিমারি পরের বছর সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে, যা পৃথিবীকে এখনও আতঙ্কে রেখেছে। বছর শেষে ভ্যাকসিনের সুখবর পাওয়া গেলেও এ সমস্যা যে অতিক্রান্ত হয়েছে, এটি বলার সময় এখনও হয়নি। গেলো বছরে অনেক মানুষকে আমরা হারিয়েছি।স্বাস্থ্যকর্মীসহ অন্যান্য যারা সামনে থেকে করোনা রোগকে মোকাবিলা করছেন, তাদের সাহসিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন ধনী রাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতার চিত্রও দেখেছি। করোনার প্রভাবে সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দাভাবের পাশাপাশি বাংলাদেশে এটিকে মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়া পরিলক্ষিত হয়েছে।

কূটনীতির অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা বলছেন,২০২১ সালও শুরু হবে এই অতিমারি চ্যালেঞ্জকে সঙ্গে নিয়ে। ‘নতুন স্বাভাবিক’ (নিউ নরমাল) প্রেক্ষাপটে কূটনীতির জন্যও থাকছে বড় চ্যালেঞ্জ। করোনাভাইরাসের এই চ্যালেঞ্জ ছাতার মতো সর্বোপরি মাথার ওপরে থাকবে, কিন্তু অন্য বড় চ্যালেঞ্জগুলো নিয়েও ভাবছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের জন্য ২০২১ বছরটি কূটনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ কিনা প্রশ্নে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মো বলেন, ‘গত কয়েক বছরের মতো ২০২১ সালেও বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে রোহিঙ্গা সমস্যা।’

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের অবস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বারে বারে বলেছি, আসিয়ান একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে এবং মিয়ানমারের নিকট প্রতিবেশী যেমন- ভারত, চীন, কিছুটা দূরে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাতিসংঘ সবাই মিলে চেষ্টা করলে রোহিঙ্গারা যখন ফেরত যাবে— তখন তাদের আশ্বস্ত করা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জীবিকার ব্যবস্থার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উপস্থিতির প্রয়োজন হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমার ত্রিপক্ষীয় মেকানিজম কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে কোভিডের কারণে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন ত্রিপক্ষীয় ব্যবস্থা জোরদার হচ্ছে এবং কথাবার্তা চলছে। আমরা আশা করবো, সামনের বছরে হয়তো সামনের মাসেই, আমরা তৈরি আছি। চীনেরও আগ্রহ আছে। এখন মিয়ানমারের গ্রিন সিগনাল পেলে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু করতে পারবো।’

অপর বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘সামনের বছরের প্রথমদিকে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর তালিকা থেকে বের হয়ে যাবে।অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে ২০২৪ সালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশ উন্নত হবে।’

স্বল্পোন্নত দেশ থাকার কারণে শুধুমাত্র বাজারে প্রবেশাধিকার ও বাণিজ্যসহ অন্যান্য যে সুবিধাগুলো বাংলাদেশ পেতো, তিন বছর পর ২০২৪ সালে সেগুলো প্রত্যাহার করা হবে। শুধুমাত্র ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এই সুবিধাগুলো ২০২৭ থেকে কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে। এই সুবিধাগুলো অব্যাহত রাখার জন্য বাংলাদেশকে যে দর কষাকষি করতে হবে, সেটিও একটি অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন পররাষ্ট্র সচিব।

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মসৃণভাবে উত্তরণের জন্য এই সুবিধাগুলোর ধারবাহিকতা আমাদের প্রয়োজন হবে। তবে তার মানে এই নয় যে, আমরা এটি অনির্দিষ্টকাল ভোগ করবো। একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য জেনেভায় দর কষাকষি চলছে।’

রোহিঙ্গা চ্যালেঞ্জের বিষয়ে একমত পোষণ করে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মাদ শহীদুল হক বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুকে সবসময়ে চাঙ্গা রাখতে হবে, যাতে আন্তর্জাতিক চাপ ক্রমশ বৃদ্ধি পায়।’

গণহত্যা কার্ডটি আরও ভালো করে খেলতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এর ফলে এটি একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হবে।’

সাবেক এই পররাষ্ট্র সচিব মনে করেন, সামনের দিনগুলোতে অভিবাসন একটি বড় আকারের চ্যালেঞ্জে পরিণত হবে।

তিনি বলেন, ‘এখানে দু’টি ঘটনা ঘটছে এবং ঘটবে। প্রথমত, বৈশ্বিক অর্থনীতি সংকুচিত হওয়ার কারণে বিদেশ থেকে আরও লোক ফেরত আসবে। দ্বিতীয়ত, শ্রমবাজারের দেশগুলোতে বাংলাদেশ থেকে আরও কম লোক যাবে।’

প্রতি বছর ২০ লাখেরও বেশি তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। এর একটি বড় অংশ বিদেশে চাকরি নিয়ে চলে যাওয়ার কারণে স্থানীয়ভাবে কম চাপ অনুভূত হয় বলে তিনি জানান।

শহীদুল হক বলেন, ‘দেশের ওপর চাপ কমানোর জন্য বিদেশে নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করা এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দর কষাকষি করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে। এখানে মূল বিষয় হচ্ছে— বিভিন্ন দেশে কাজ আছে এবং থাকবে, কিন্তু দেখার বিষয় যে, তারা কোন দেশ থেকে লোক নিচ্ছে এবং কীভাবে নিচ্ছে।’


এ জাতীয় সংবাদ