বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:০০ অপরাহ্ন

টেকনাফ সেন্ট মার্টিনের নীল জলের কাছাকাছি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট শুক্রবার, ১ জানুয়ারী, ২০২১
সেন্ট মার্টিনের নীল জলের কাছাকাছি

বেড়ানোর এই মৌসুমে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে করোনাভাইরাস। সেই মার্চ থেকে ঘরবন্দী থাকার পর খানিকটা ঝুঁকি নিয়েই সেন্ট মার্টিনের দিকে পা বাড়িয়েছিলাম। বাসে ঢাকা থেকে সোজা টেকনাফ। সকালে নাশতা করে কেয়ারি সিন্দবাদ জাহাজে চেপে বসলাম। সঙ্গে সহকর্মী মাসুদ।

ছুটির দিনে পর্যটকের চাপ বেশি মনে করে ছুটির দিন এড়িয়ে রওনা হয়েছিলাম। কিন্তু মানুষ যেন হাঁপিয়ে উঠেছে। ছুটির দিনের বাইরেও মানুষের ভিড় কম নয়। জাহাজ কর্তৃপক্ষ বলছিল, আগামী ১৫ দিনের টিকিট সব বুকিং। এ যাত্রায় নিজেকে কিছুটা ভাগ্যবান মনে হলো।

জাহাজে নিজ নিজ আসনে বসার পর মনে হলো বসে থাকতে মন চাইছে না। জাহাজের বাইরে এসে দাঁড়ালাম। শত শত গাঙচিল ছুটছে জাহাজের পেছনে। যেদিক দিয়ে জাহাজ ছুটছে, সেদিকে তারাও ছুটছে। কারণ, জাহাজ চলে যাওয়ার পথে পানি সরে গেলে সেখানে জলজ খাবার ভেসে ওঠে। সেই লোভে গাঙচিলগুলো ছুটছে তো ছুটছেই। কেউ কেউ সেই দৃশ্য ভিডিও করছেন। আজকাল ভ্রমণ ব্লগের জন্য ভিডিও করেন অনেকে। পরে সেগুলো সম্পাদনা করে ইউটিউব বা ফেসবুকে দেন। এমন দুটি দলকে দেখতে পেলাম। কথায় কথায় জানলাম তাঁরা ট্রাভেল ব্লগার।

টেকনাফের দুদিকে পাহাড়। আরেক দিকে দেখা যাচ্ছে মিয়ানমারের সীমান্ত। কুয়াশাঘেরা পাহাড় দেখতে দেখতে মন যেন ভালো হয়ে গেল। সেই সঙ্গে মিষ্টি একটা রোদ এসে গায়ে আরাম দিল। বেলা একটার দিকে জাহাজ সেন্ট মার্টিনের কাছাকাছি আসতেই যেন যাত্রীরা নড়েচড়ে বসলেন। ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। প্রতিযোগিতা যেন কে কার আগে নামবেন। সহযাত্রী এক চিকিৎসক বললেন, এত তাড়াহুড়ার তো কিছু নেই। করোনার এই সময়ে ধীরে ধীরে নামাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কিন্তু কে শোনে কার কথা।

জাহাজ থেকে নামতে গিয়ে মনে হলো এটাই সবচেয়ে কঠিন কাজ। যাহোক, জাহাজ থেকে নেমে হোটেল খুঁজতে গেলাম। কিছুদিন আগে এক সহকর্মী একটি রিসোর্টের খোঁজ দিয়েছিলেন। সাগরের তীরঘেঁষা সেই রিসোর্টে গিয়ে পরিবেশটা ভালো লাগল। চারদিকে নারকেলগাছ আর মূল সৈকতের একবারে কাছে। রিসোর্ট থেকেই সমুদ্রের গর্জন শোনা যায়। রিসোর্টের আশপাশে সাগরলতার ফুল ফুটেছে। আছে দোলনাও। সব মিলিয়ে মনমতো হলো।

প্রচণ্ড ক্ষুধা লেগেছিল। কাছেই লেখক হুমায়ূন আহমেদের বাড়ির পাশে বেশ কয়েকটি খাবারের দোকান। মসলা হলুদ মাখানো মাছের পসরা সাজিয়ে বসে আছে। পছন্দ করলেই ভেজে দিচ্ছে। সেন্ট মার্টিনে এসে সামুদ্রিক মাছ বাদে অন্য খাবার খাওয়া নাকি বোকামি! কেননা, মাছের এত আয়োজন তো চাইলে ঢাকায় বসে পাওয়া সম্ভব নয়। আমরা বাছাই করলাম সুন্দরী আর টুনা মাছ। এখানে ভাতের প্যাকেজ হলো, মাছের সঙ্গে ‘আনলিমিটেড’ ভাত। সঙ্গে সবজি আর ভর্তা। খাবার খেতে খেতে ঠিক করলাম বিকেলে মূল সৈকতে বসব আর সূর্যাস্ত দেখব।

সৈকতের পাশে ছাতা দেওয়া চেয়ারে ঘণ্টা চুক্তিতে বসে গেলাম। পাশেই সেন্ট মার্টিনের ডাবের পসরা। এখানে এত নারকেলগাছ আপনি গুনে শেষ করতে পারবেন না। এ জন্যই নাকি সেন্ট মার্টিনের আরেক নাম নারিকেল জিঞ্জিরা। ডাবের পানি ভীষণ মিষ্টি। পানিতে চুমুক দিতে দিতেই বেলা পড়ে গেল।

পশ্চিম আকাশে লালের আভা আর টকটকে লাল সূর্য বিদায় নেওয়ার অপেক্ষায়। এখানে বাইসাইকেল ভাড়া পাওয়া যায়। সেই সাইকেলে সৈকতে ঘুরতে লাগল বেশ কিছু তরুণ–তরুণী। একসময় টুপ করে সূর্যটা ডুবে গেল। তবে লাল আভা আরও কিছুটা সময় দেখা গেল।


এ জাতীয় সংবাদ