শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:০৬ অপরাহ্ন

ভাসানচরে হারানো স্বজনদের দেখা পেল রোহিঙ্গারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সোমবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২১
রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে আশ্রয় দিলেও মিয়ানমারেই ফিরতে হবে

নানা ঘাত প্রতিঘাতে বিচ্ছিন্ন হওয়া রোহিঙ্গাদের, পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে ভাসানচর। দেশ আর ঘর হারিয়ে, নানামুখী গন্তব্যে আলাদা হয়ে গিয়েছিলো স্বামী, সন্তান, স্বজন।

অনেকেই প্রিয়মুখগুলোর সঙ্গে দেখা হওয়ার আশা একেবারেই ছেড়ে দিয়েছিলেন। ভাসানচরে এসে কেটে গেছে, সেই অনিশ্চয়তা। এখন নতুন উদ্যমে জীবন গুছিয়ে নিচ্ছেন রোহিঙ্গারা।

মাকে আবার দেখবেন, ভাবতে পারেননি আয়াতুল্লাহ। কিন্তু দেখা হলো, ৮ মাস পর। ভাসানচরে। ৫১ দিন খোলা সাগরে ভেসেছেন। শোভন জীবনের আশায় কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে পালিয়ে, যেতে চেয়েছিলেন মালয়েশিয়া। পারেননি। গত বছরের মে মাসে, উত্তাল সাগর থেকে এমন ৩০৬ জনকে উদ্ধার করে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। নিজস্ব খরচে, রাখা হয় ভাসানচরে।

গত ২৯শে ডিসেম্বর, কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে আসেন আয়াতুল্লাহর মা এলম বাহার, এসেছেন ভাই, বোন, সন্তান। আয়াতুল্লাহ বলেন,’আমার মা এখান আসবে সেটা কল্পনাতে ছিলো না। আমার আম্মুকে দেখার জন্য আল্লাহ আমাকে বাঁচায় রাখছে, তাই তাদের খুঁজে পেয়েছি।’

দ্বীন মোহাম্মদের গল্পটাও একই রকম। মে মাসের পর, গত ডিসেম্বরে কাছে পেয়েছেন প্রিয় সন্তান আর স্ত্রীকে। দ্বীন মোহাম্মদ বলেন,’১০ মাস পর স্ত্রী সন্তানের সঙ্গে দেখা হয়েছে।’

ইসমাঈল যদিও ক্যাম্প থেকে পালাননি। তবে আরেকটু ভালো থাকতে চেয়েছিলেন। তাই প্রথম সুযোগেই চৌঠা ডিসেম্বর চলে এসেছেন ভাসানচর। রোহিঙ্গাদের দ্বিতীয় দলে ২৯ ডিসেম্বর এসেছেন স্ত্রী-সন্তান। ইসমাঈল বলেন,’আমার কাছে একটা দিন একেকটা বছরের মতো লাগছে। আমার সন্তান-স্ত্রীকে পেয়ে ঈদের মতো আনন্দ হয়েছে আমার কাছে।’

বহু রোহিঙ্গা তাকিয়ে আছেন তৃতীয় দফার স্থানান্তরে। কেননা সেই দলে থাকতে পারে তাদের স্বজনরাও।


এ জাতীয় সংবাদ