বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন

মার্চ-এপ্রিলে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
আপডেট বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২১
e289ee7bb08e68ca85fca9765a364881 60084795c405c

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে চীন পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত বন্ধু। পদ্মা সেতুসহ অনেক বড় বড় স্থাপনা নির্মাণে চীন কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে আমাদের পাশে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদেরকে তাদের দেশে প্রত্যাবাসনে চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী। আগামী মার্চ বা এপ্রিলে এটা শুরু হতে পারে।’

বুধবার (২০ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত রোহিঙ্গাদের জন্য চীন সরকারের জরুরি চাল সহায়তাবিষয়ক অনলাইন সার্টিফিকেট স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন ।

প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, ‘মানবিক কারণে এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ সরকার আশ্রয় দিয়েছে। যত তাড়াতাড়ি তাদেরকে সম্ভব নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করানো যায়, ততই সবার জন্য মঙ্গল।’

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের দেওয়া তালিকা থেকে ৪১ হাজার ৭১৯ জন রোহিঙ্গাকে শনাক্ত করেছে মিয়ানমার। এই তালিকা ধরে আগামী মার্চ-এপ্রিলে প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ যায়।’

চলমান আলোচনা অনুযায়ী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের সচিব পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে পজিটিভ আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমার রিয়ালাইজ করেছে যে, তাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া দরকার। বাংলাদেশও ফিল করে তারা (রোহিঙ্গা) সম্মানের সঙ্গে নাগরিক অধিকার নিয়ে ফিরে যাক। চীন সরকারও চায় বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বার্থে তাদের ফিরে যাওয়া উচিত।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের গ্রামভিত্তিক রিপ্যাট্রিয়েশনটা চায়। কিন্তু মিয়ানমার সরকার চায় বাংলাদেশ সরকার যে তালিকা দিয়েছে এবং যে তালিকাটা তারা ভেরিফায়েড করেছে, সেই তালিকা অনুযায়ী ফেরত নিতে। এই জায়গায় মঙ্গলবারের বৈঠক শেষ হয়েছে। আশা করি, পরবর্তী মিটিংয়ে আরও অ্যামিকেবল সলিউশন আসবে।’ আমরা বৈঠকে চীন ও মিয়ানমারের যে সদিচ্ছা দেখেছি, সবাই আশা করছে, তিনটি পক্ষই আশা করছে— আগামী মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে প্রত্যাবাসানটা শুরু হবে। আমরা একটা ভাল ফলাফলের অপেক্ষায় আছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য ও মঙ্গলবারের বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, তাদের শতভাগ ইচ্ছা বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের যে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, সেই সম্পর্ক তারা বজায় রাখবেন। বাংলাদেশের সকল সমস্যা সমাধানের জন্য তারা আমাদের পাশে থাকবেন। স্পেশালি রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে তারা কাজ করে যাবেন।’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৮ লাখ ২৯ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে এনামুর রহমান আরও বলেন, ‘সেখান থেকে তারা (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) সাড়ে ৫ লাখ রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ানমার সরকারের কাছে পাঠিয়েছে। মিয়ানমার সরকার ৪১ হাজার ৭১৯ জনকে ভেরিফায়েড করেছে। তাদেরকে নেওয়ার কথা তারা জানিয়েছে।’

হস্তান্তর চুক্তির আওতায় রোহিঙ্গাদের জন্য চীন সরকার ২ হাজার ৫৫৪ মেট্রিক টন চাল দিয়েছে জানিয়ে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ডিসেম্বরে এই চাল আমরা পেয়েছি। চাল এখনও রোহিঙ্গাদের বিতরণ করা হচ্ছে। এজন্য আজকে একটি সাইনিং হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শরণার্থী প্রত্যাবর্তন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) শাহ রেজওয়ান হায়াত, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্ম সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমারবিষয়ক মহাপরিচালক দেলোয়ার হোসেন ।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসিন এবং চীন সরকারের পক্ষে বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং স্বাক্ষর করেন ।


এ জাতীয় সংবাদ