সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন

উখিয়ায় রোহিঙ্গা শিশুকে স্কুলে ভর্তি

ডেস্ক রিপোর্ট
আপডেট বুধবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
rohingaya

তথ্য গোপন করে রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম সনদ বানিয়ে স্কুলে ভর্তি করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে খোদ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন উখিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুল ইসলাম।

অভিযুক্ত ব্যক্তি ফরিদুল আলম। তিনি কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের বটতলী কোনারপাড়া এলাকার মৃত ওলা মিয়ার ছেলে।

অভিযোগে জানা যায়, ২০০৯ সালে টেকনাফের নয়াপাড়া মোছনী রেজিষ্টার ক্যাম্পে ঠিকাদারি করতে গিয়ে ওই ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নুর মোহাম্মদের মেয়ে সাহেদা বেগমকে বিয়ে করেন। এহেসানুল আলম আকাশ নামে এক সন্তানের জন্ম হয় তার। বিয়ের ৬ বছর পর রোহিঙ্গা নারীকে তাড়িয়ে দিলেও তার গর্ভে জন্ম নেওয়া সন্তানকে ফরিদ কৌশলে প্রথম স্ত্রী হাফছা খানম শারমিনকে মা দেখিয়ে জন্ম সনদ নিয়ে বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেন। সে এখন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র।

অভিযোগ থেকে আরও জানা যায়, ফরিদ ও প্রধান শিক্ষক যোগসাজশে বিদ্যালয় ছুটির পরে ক্যাচমেন্ট এরিয়ার বাহিরের শিক্ষার্থীদের বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। যার কারণে ক্যাচমেন্ট এলাকার প্রকৃত শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পান না। এছাড়াও অবৈধভাবে রোহিঙ্গা নারী বিয়ে এবং তার গর্ভে জন্ম নেওয়া সন্তানের জন্ম সনদে মাতৃত্বের পরিচয় থেকে বঞ্চিত করায় চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন উখিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুল ইসলাম বলেন, ‘উখিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি ফরিদুল আলমের আগেও দুই মেয়াদে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এক মেয়াদের জন্য তার স্ত্রীকে সভাপতি নির্বাচিত করা হলে পরে আবারও উপজেলা সদরের মডেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সভাপতির পদ দখলে নিতে রোহিঙ্গা নারীর গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশুর তথ্য গোপন করেছেন ফরিদ।’

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত ফরিদুল আলম বলেন, ‘বিষয়টি সত্য নয়। অভিযোগকারী আমার অংশীদারত্বের সামাজিক বনায়নে জায়গা দখল করায় বন বিভাগ তাকে নোটিশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমাকে হয়রানি করার জন্য এসব করছে।’

এ বিষয়ে উখিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশীদ বলেন, ‘ফরিদুল আলমের রোহিঙ্গা নারী বিয়ে করার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে যথা নিয়মে জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং অভিভাবকের জাতীয় পরিচয় পত্র নিশ্চিত করা হয়।। ’

উপজেলা শিক্ষা অফিসার সুব্রত কুমার ধর জানান, উখিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ফরিদুল আলমের নামে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান উপজেলার এই শিক্ষা কর্মকর্তা।সূত্র-ব্রেকিং নিউজ বিড়ি


এ জাতীয় সংবাদ