শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ০৩:০২ পূর্বাহ্ন

সেন্টমার্টিনে শুঁটকির চড়া দাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

বিশেষ প্রতিবেদক
আপডেট রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
কক্সবাজার নাজিরারটেকে শুরু হয়েছে পুরোদমে শুঁটকি উৎপাদন

এক সময় শুঁটকি দামে সস্তা থাকায় এটাকে ‘গরিবের খাবার’ বলে তাচ্ছিল্য করা হতো। সময়ের ব্যবধানে সেই শুঁটকি আজ দামি মাছের স্থান দখল করেছে। ‘গরিবের খাবার’ হিসেবে তাচ্ছিল্য করা হলেও এখন তা গরিবের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। মান ও মাছভেদে শুঁটকি ধনী-গরিব সবার কাছেই সমাদৃত। শুঁটকির অভ্যন্তরীণ বাজারও দিন দিন বড় হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকা পরিচিতি পেয়েছে ‘শুঁটকিপল্লী’ হিসেবেও।

উপকূলীয় এলাকার গুণগত মান আর অর্গানিক পদ্ধতিতে শুকানোর কারণে শুঁটকির চাহিদা সর্বত্র। বাহারি শুঁটকির অভ্যন্তরীণ বাজার হিসেবে দেশজুড়ে সেন্টমার্টিন, কক্সবাজারেরও নাম-ডাক রয়েছে। এখানকার শুঁটকির দোকানগুলোর মূল ক্রেতা এ অঞ্চলে আগত পর্যটক। সাগর শান্ত থাকলে পর্যটক বাড়ে। তখন জমে ওঠে শুঁটকি বিক্রি। এখানে সতেজ ও টাটকা শুঁটকির দেখা মিললেও দাম নিয়ে ক্রেতাদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

সেন্টমার্টিনের অস্থায়ী দোকানগুলোতে শুঁটকি বিক্রি হয় তিন মাস ধরে। অর্থাৎ সেখানে পর্যটকরা যতদিন থাকেন দোকানগুলোও থাকে ততদিন। এরপরই গুটিয়ে নেয়া হয় সব দোকান। তবে কক্সবাজারের লাবণী পয়েন্টের বিচ পার্ক মার্কেট ও ছাতা মার্কেট এবং সুগন্ধা পয়েন্টের মূল রাস্তার সাথে গড়ে ওঠা শুঁটকির দোকানগুলো স্থায়ী। বছরের প্রতিটি সময় এখানে শুঁটকি পাওয়া যায়।

সেন্টমার্টিনের টাটকা শুঁটকির স্বাদ নিতে হলে টাকাও গুনতে হবে বেশি। দরদাম করে সমঝোতার ভিত্তিতে কমানো যায় কিছুটা। আহামরি কমানো সম্ভব নয়। একই অবস্থা দেখা গেছে কক্সবাজারেও। সেখানেও চড়া দামে বিক্রি করা হয় সব ধরনের শুঁটকি। নতুন ক্রেতা হলে ঠকার আশঙ্কা থাকে আরও বেশি। আর্দ্রতা, বালুযুক্ত ও লবণমিশ্রিত শুঁটকি দিয়ে ক্রেতা ঠকাতে যেন ব্যস্ত হয়ে পড়েন দোকানিরা।

সেন্টামার্টিন ও কক্সবাজারের দোকানগুলোতে যে দামে শুঁটকি বিক্রি করা হয়, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয় লাক্কা। এর পরের স্থানটি রূপচাঁদা ও টুনা মাছের। এসব এলাকার দোকানগুলোতে প্রতি কেজি রূপচাঁদা মাছের শুঁটকি বিক্রি হয় ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা, লাক্কা মাছের শুঁটকি ১ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা, টুনা ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, টেক রূপচাঁদা ৫৫০ থেকে ৮০০ টাকা, কালো চাঁদা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, গইন্যা ৩৫০ থেকে ৮০০ টাকা, কোরাল ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা, ছুরি ৫০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, পাইস্যা ৩৫০ থেকে ৭৫০ টাকা, লাল চিংড়ি ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা, চেইক্যা ৪৫০ থেকে ৮০০ টাকা, রিটা ৩৫০ থেকে ৮০০ টাকা, সামুদ্রিক চ্যাপা ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, ছোট চাঁন্দা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, সুন্দরী ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, মলা ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা, চাপিলা ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোয়া ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, কাঁচকি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, লবণ ইলিশ ২৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং শুকনা ইলিশের কেজি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা।

স্থানীয় বাজারের চেয়ে সেন্টমার্টিন বা কক্সবাজারে শুঁটকির দাম বেশি নেয়ার অভিযোগ করেন এখানে আগত পর্যটক ও দর্শনার্থীরা। এ বিষয়ে লাবিবা নামে এক দর্শনার্থী জাগো নিউজকে বলেন, ‘সেন্টমার্টিন বা কক্সবাজারে শুঁটকির দাম অনেক বেশি। এর চেয়ে অভ্যন্তরীণ বাজারে কম দামে শুঁটকি পাওয়া যায়।’

সেন্টমার্টিনের শুঁটকি বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের এখানে ফ্রেশ ও টাটকা শুঁটকি পাবেন, লবণ দেয়া হয় না। সেক্ষেত্রে আপনাকে ভালো জিনিস পেতে হলে কিছু বাড়তি টাকা দিতে হবে।

একই কথা বলেন কক্সবাজারে ফাতেমা শুঁটকি বিতানের বিক্রেতা হাসিব। তিনি বলেন, ‘আমাদের শুঁটকি অর্গানিক পদ্ধতিতে শুকানো। এখানকার শুঁটকির কদর বিশ্বজুড়ে। ভালো শুঁটকি এখানে পাবেন। নিম্নমানের শুঁটকি দেশের বিভিন্ন বাজারে পাবেন। নিম্নমানের শুঁটকির দাম কম হবে এটাই স্বাভাবিক।


এ জাতীয় সংবাদ