শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন

সৌদিতে হামলা বন্ধের প্রস্তাব হুথির

আন্তজার্তিক ডেস্ক
আপডেট রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
সৌদিতে হামলা বন্ধের প্রস্তাব হুথির

সৌদি আরবে হামলা বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী সশস্ত্র সংগঠন হুথি। দলটি বলছে, সৌদি জোট ইয়েমেনে বিমান হামলা বন্ধ করলে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তারাও সৌদিতে হামলা থেকে নিবৃত্ত থাকবে। টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে নিজেদের এমন অবস্থানের কথা জানিয়েছেন হুথির সুপ্রিম পলিটিক্যাল কাউন্সিলের সদস্য মুহাম্মাদ আলী হুথি। রবিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে তুর্কি সংবাদমাধ্যম ইয়েনি সাফাক।

টুইটে মুহাম্মাদ আলী আল হুথি বলেন, শান্তির ডাক দেওয়া পক্ষগুলোর মধ্যে আমরাও একটি পক্ষ। এজন্য আমরা বিষয়টি সমাধানের বহু প্রস্তাব দিয়েছি।

তিনি বলেন, ইয়েমেনে আগ্রাসন বন্ধে সৌদি জোট আন্তরিক হলে তার দলও সৌদিতে হামলা স্থগিতের উদ্যোগ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।

সৌদি আরবের পক্ষ থেকে অবশ্য এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক সময়ে হুথি মিলিশিয়ারা সৌদি আরবে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে। ফলে আরব বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে দলটিকে।

২০১৪ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদিকে উৎখাত করে রাজধানী সানার দখল নেয় হুথি বিদ্রোহীরা। রিয়াদে নির্বাসিত হাদিকে আবারও ক্ষমতায় বসাতে ইয়েমেনে হামলা শুরু করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কয়েকটি পশ্চিমা দেশের জোট। এই হামলায় রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ হারালেও দেশের বিস্তৃত এলাকার দখল এখনও ধরে রেখেছে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা।

এমন সময়ে সৌদিতে হামলা বন্ধের প্রস্তাব দিলো হুথি যার কদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষিদ্ধ তালিকা থেকে দলটিকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন। গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে ব্লিনকেন জানান, নিষিদ্ধ তালিকা থেকে হুথিকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। এই সিদ্ধান্ত ইয়েমেনের ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির স্বীকৃতি। তবে হুথি সদস্যদের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

হোয়াইট হাউজে নিজের শেষ পূর্ণ কর্মদিবসে হুথিকে নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত করেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ২০ জানুয়ারি ক্ষমতায় আসার পর ইয়েমেন যুদ্ধের ইতি টানতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের উদ্যোগ নেন জে বাইডেন। তবে অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেছেন, ওয়াশিংটন হুথি বিদ্রোহীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে। নিষেধাজ্ঞার নতুন টার্গেট চিহ্নিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং সৌদি আরবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।

২০১৫ সালে ইরান-সমর্থিত হুথিদের দমনে ইয়েমেনে প্রবেশ করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। লড়াইটি ইয়েমেনি সহিংসতা হিসেবে দেখালেও আদতে সেটি ইরান-সৌদির ছায়াযুদ্ধ হিসেবে মনে করা হয়। এতে বরবরই পূর্ণ সমর্থন ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেন সহিংসতায় সব পক্ষই যুদ্ধ আইন লঙ্ঘন করছে এবং অনেক ক্ষেত্রে যুদ্ধপরাধের মতো গুরুতর অপরাধ হচ্ছে। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইয়েমেনের প্রায় আড়াই কোটি জনগণের মধ্যে ৮০ শতাংশেরই জরুরি ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন।


এ জাতীয় সংবাদ