• শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी
শিরোনাম

কাবুল বিমানবন্দর যেন বাস টার্মিনাল!

রিপোর্টার নাম :
আপডেট সময় : সোমবার, ১৬ আগস্ট, ২০২১
dc77db02af0f8237d909ab79be66a45a87766315f559148a

তালেবানদের আফগানিস্তান দখল করার পর মার্কিন সেনাসহ সকল বিদেশি সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে তালেবানদের ভয়ে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকসহ অনেকে আফগানিস্তান ছড়ছেন। ফলে কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) এলাকায় মানুষের ভিড় বেড়েছে।
কাবুল বিমানবন্দর যেন বাস টার্মিনাল!

বিমানবন্দরে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতির ফলে বাস টার্মিনালের মতো দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। বিবিসির একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তালেবানরা কাবুলে প্রবেশের পরেই আফগানিস্তানের জনগণ তালেবানের শাসনের ভয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। বিপুল সংখ্যায় মানুষ বিমানবন্দরে পৌঁছে গেছে। আর বিমানবন্দরে নিরাপত্তা না থাকায় বিনা বাধায় সবাই সেখানে প্রবেশ করছে মানুষ।

এদিকে কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আয়েশা আহমদী নয় ঘণ্টা আগে একটি ভিডিও প্রকাশ করে বলেছে যে বিমানবন্দরের বাইরে গুলি চলছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি পার্ক করা একটি বিমানে ‍উঠতে মানুষের লড়াইয়ের ছবি প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাবুল বিমানবন্দরে একটি পার্ক করা বিমানের চারপাশে মানুষ ঘিরে রয়েছে। তারা সবাই কেবিনের ভেতরে প্রবেশ করতে চেষ্টা করছে। কেউ কেউ আবার অন্য বিমান খুঁজে বের করতে চেষ্টা করছে। তারা সবাই আফগান ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

বিবিসি জানিয়েছে, মার্কিন সেনারা বিমানবন্দর পাহারা দিচ্ছে। সেই সঙ্গে কাবুলের অন্য এলাকাগুলো থেকে গোলাগুলির শব্দ আর সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে কাবুলের মার্কিন দূতাবাসের সব কর্মীকে সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর আল জাজিরার।
কাবুলের দূতাবাস থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সোমবার (১৬ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একজন মুখপাত্র আল জাজিরাকে বলেছেন, কাবুলে তাদের দূতাবাস থেকে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করতে পারি যে দূতাবাসের সকল কর্মীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তারা সবাই হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চত্বরে আছে। যেটি  মার্কিন সামরিক বাহিনী দ্বারা সুরক্ষিত।’

একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্স বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, বেশিরভাগ পশ্চিমা কূটনীতিক এখন কাবুল ত্যাগ করেছেন, কিন্তু কিছু সহায়ক কর্মী শহরে রয়েছেন। তারাও দ্রুত কাবুল ছাড়বেন।

রোববার (১৫ আগস্ট) থেকে তালেবান শহরে প্রবেশের পর থেকে হেলিকপ্টারগুলো দূতাবাস থেকে কাবুল বিমানবন্দরে কূটনীতিকদের নিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, আফগানিস্তানে চলমান যুদ্ধের সমাপ্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে তালেবান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বানও জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।

তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ নায়েম আল-জাজিরাকে জানান, তারা অতিদ্রুত আফগানিস্তানের নতুন সরকার সম্পর্কে সবকিছু পরিষ্কার করে জানাবে। মোহাম্মদ নায়েম বলেন, আমরা যেখানে পৌঁছাতে চেয়েছিলাম সেখানে পৌঁছেছি। আমরা মানুষের জন্য স্বাধীনতা এনেছি। আমরা কারো ক্ষতি করতে চাই না এবং অন্য কাউকে আমাদের ভূমি ব্যবহার করে কারো ক্ষতি করতে দিতে চাই না।

এর আগে রোববার (১৫ আগস্ট) বিকেলে কাতারের দোহায় অবস্থানরত তালেবান মুখপাত্র সুহায়েল শাহীন বলেন, ‘আফগানিস্তানে যারা এর আগে আগ্রাসীদের জন্য কাজ করেছে, সাহায্য করেছে বা এখন যারা দুর্নীতিবাজ কাবুল প্রশাসনের বিভিন্ন পদে আসীন রয়েছেন, তাদের সবার জন্য ইসলামিক আমিরাত দরজা খোলা রেখেছে এবং ক্ষমা ঘোষণা করেছে। আমরা আরেকবার তাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, যেন তারা দেশ ও জাতির জন্য কাজ করতে এগিয়ে আসেন।’

আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, তালেবান তাদের বাহিনীর সদস্যদের শান্ত থাকার ও সহিংসতা এড়িয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

অন্যদিকে, আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল সাত্তার মির্জা কওয়াল বলেছেন, আফগান জনগণকে চিন্তা করতে হবে না। শহরে কোনো হামলা হবে না এবং শান্তিপূর্ণভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ক্ষমতার হস্তান্তর হবে।

তবে অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান হিসেবে জালালির নিয়োগের চূড়ান্ত অনুমোদন তালেবান দেবে কি না, সেই ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর