ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিল সংসদে পাস | Daily Cox News
  • বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিল সংসদে পাস

ব্রেকিং নিউজ
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২০
ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিল সংসদে পাস

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ‘ধর্ষিতা’ শব্দটির পরিবর্তে ‘ধর্ষণের শিকার’ শব্দবন্ধ বসিয়ে ধ”ণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে সংসদে আনা বিল পাস হয়েছে।মঙ্গলবার মহিলা ও শি’শু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা ‘নারী ও শি’শু নির্যাতন দ’মন (সংশোধন) বিল- ২০০০’ সং’সদে পাসের প্রস্তাব করেন। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

ধ”ণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ’ণ্ডের বিধান করে বিলটি গত ৮ নভেম্বর সংসদে উত্থাপনের পর তা পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে মহিলা ও শি’শু বি’ষয়ক ম’ন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সং’সদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। গত সোমবার সেই প্রতিবেদন সং’সদে উত্থাপন করেন সং’সদীয় স্থায়ী কমিটিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি।

‘ধ’র্ষিতা’ শব্দটি লিঙ্গ বৈষম্যের পরিচায়ক বলে বিভিন্ন সময় মত আসার প্রেক্ষাপটে বিলে ‘ধ”ণের শি’কার’ শব্দবন্ধ দিয়ে শব্দটি প্রতিস্থাপনের সুপারিশ করে সং’সদীয় কমিটি। মূল আইনের ৯ (২) ধারাসহ কয়েক জায়গায় ‘ধ’র্ষিতা’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘ধ”ণের শি’কার’ শব্দটি বসছে।

দেশজুড়ে ধ”ণ ও নারী নির্যাতনবিরোধী আন্দোলন এবং ধ”ণকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবির মধ্যে সরকার আইনটি সংশোধনের পদক্ষেপ নেয়। সং’সদ অধিবেশন না থাকায় সংশোধিত আইন কার্যকর করতে গত ১৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ‘নারী ও শি’শু নি’র্যাতন দ’মন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০০০’ জারি করেন। পরে ৮ নভেম্বর নিয়ম অনুযায়ী অধ্যাদেশটি সং’সদে তোলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। একই দিন সেটি বিল আকারে সং’সদে তোলা হয়।

২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দ’মন আইনের ৯(১) উপধারায় বলা ছিল, যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শি’শুকে ধ”ণ করেন, তাহলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দ’ণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদ’ণ্ডেও দ’ণ্ডনীয় হবেন।

বিলে মূল আইনের খসড়ায় ৯(১) উপধারায় ‘যাবজ্জীবন সশ্রম কা’রাদ’ণ্ড’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘মৃ’ত্যুদ’ণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কা’রাদ’ণ্ড’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

আইনের ৯(৪) (ক) উপধারায় ছিল, ‘যদি কোনো ব্যক্তি কোন নারী বা শি’শুকে ধ”ণ করিয়া মৃ’ত্যু ঘটানোর বা আ’হত করার চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কা’রাদ’ণ্ডে দ’ণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদ’ণ্ডেও দ’ণ্ডনীয় হইবেন।’ এই উপধারা সংশোধন করে পাস হওয়া বিলে ‘যাবজ্জীবন সশ্রম কা’রাদ’ণ্ড’- এর পরিবর্তে ‘মৃ’ত্যুদ’ণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কা’রাদ’ণ্ড’ শব্দগুলো যোগ করা হয়েছে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ধ”ণ ছাড়া সাধারণ জ’খমের ক্ষেত্রে অ’পরাধ আপসযোগ্য হবে। এছাড়া আগের আইনে ১৯৭৪ সালের শি’শু আইনের রেফারেন্স ছিল। এখন সেখানে হবে ‘শি’শু আইন- ২০১৩’।

২০০০ সালের আইনের ৩২ ধারায় বলা ছিল, ‘এই আইনের অধীন সংঘটিত অ’পরাধের শি’কার ব্যক্তির সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করিয়া মেডিকেল পরীক্ষা স’রকারি হাসপাতালে কিংবা স’রকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে স্বীকৃত কোনো বেস’রকারি হাসপাতালে সম্পন্ন করা যাইবে।’

বিলে অ’পরাধের শি’কার ব্যক্তির পাশাপাশি ‘অ’পরাধে অ’ভিযুক্ত ব্যক্তির’ মেডিকেল পরীক্ষা করার বি’ষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ৩২ ধারার সঙ্গে ৩২(ক) শিরোনামে নতুন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে বিলে।

সেখানে বলা হয়, ‘এই আইনের অধীন সংঘটিত অ’পরাধে অ’ভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অ’পরাধের শি’কার ব্যক্তির ধারা ৩২ এর অধীন মেডিকেল পরীক্ষা ছাড়াও, উক্ত ব্যক্তির সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, ২০১৪ সালের ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইনের বিধান অনুযায়ী তার ডিএনএ পরীক্ষা করতে হবে।’

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অগ্রসরমান ধারা আজ বিশ্বব্যাপাী নন্দিত ও প্রশংসিত। বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের ঊর্ধ্বগামী পরিক্রমণের মধ্যে দেশে নারী ও শি’শু ধ”ণের মত জঘন্য অ’পরাধ সংঘটন, সামাজিক গতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব রাখাসহ সার্বিক সামাজিক উন্নয়নের ধারাকে বিশেষভাবে ক্ষ’তিগ্রস্ত করবে।

তিনি বলেন, এ ধরনের হীন অ’পরাধ দ’মনে অ’পরাধীদের বি’রুদ্ধে ক’ঠোর ব্যবস্থা গ্রহণার্থে দ’ণ্ডারোপের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ শা’স্তি বিধানের ব্যবস্থা গ্রহণ-সময় ও পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় অত্যাবশ্যক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ